kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

কবরীর কথা

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কবরীর কথা

প্রায় ১০ বছর আগে লিখেছিলেন ‘এই তুমি সেই তুমি’র গল্প ও চিত্রনাট্য। সরকারি অনুদানের জন্য জমাও দিয়েছিলেন দুবার। অবশেষে এবার পেলেন। সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ

এত দিন পর ছবিটা বানাবেন, তাই গল্পে কিছু পরিবর্তন, পরিমার্জন করতে চান। চিত্রনাট্যের ধারও বাড়াতে চান। দিনের বেশ কিছুটা সময় এখন লেখালেখির টেবিলেই পার করছেন কবরী। ২০১৫ সালে ছবিটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রধান দুটি চরিত্রে তখন আলমগীর ও আরিফিন শুভকে চূড়ান্ত করেছিলেন। এবার সেই সিদ্ধান্তে বদল আসতে পারে বলে জানালেন কবরী, ‘প্রি-প্রডাকশনের কাজটা নতুন করে করতে চাই। গল্পে যেহেতু পরিবর্তন আনছি, চরিত্রগুলোও পেতে পারে নতুন মাত্রা। তাই আগে থেকেই বলতে পারছি না, কে অভিনয় করবে। হয়তো আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরেও আসতে পারি।’

গল্পের নায়িকা কলকাতার মেয়ে। কবরী চান চরিত্রটি কলকাতার কেউ করুক। তবে কোনো তারকাকে নিতে চান না, তাঁর চাই একেবারে নতুন মুখ। কারণটা পরিষ্কারও করলেন, ‘চেনা-জানা কেউ হলে পর্দায় দর্শক তার গ্ল্যামারই দেখতে চাইবে। চরিত্রটির দুঃখ-সুখে মন বসবে না। আমি চাই মেয়েটিকে নয়, চরিত্রটিকে দেখুক দর্শক।’ এর মধ্যে কলকাতায় খোঁজও লাগিয়েছেন। পাণ্ডুলিপি পরিমার্জন শেষে নিজেই যাবেন সেখানে। পছন্দ করবেন নায়িকাকে।

কবরী পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আয়না’ [২০০৬]। দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল। এসিড আক্রান্ত এক মেয়ের দৈনন্দিন জীবন, সাংসারিক টানাপড়েন দারুণভাবে তুলে এনেছিলেন পর্দায়। নিজেও অভিনয় করেছিলেন একটি চরিত্রে। কিন্তু এরপর কেটে গেছে এক যুগ। ঘোষণা দিয়েও টাকার অভাবে শুরু করতে পারেননি ‘এই তুমি সেই তুমি’র শুটিং। এ নিয়ে আফসোসও করেন, ‘দেড় কোটি টাকার জন্য এত দিন বসে থাকলাম। পরিচিত অনেকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেও আলাপ করেছিলাম। অনেকে শুরুতে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। যখন সব কিছু গুছিয়ে নিলাম আর কারো খবর নেই! খুব হতাশ হয়েছিলাম।’

সরকারি অনুদান পাওয়ায় বেশ গর্বিত কবরী। ভালো করেই জানেন, যে টাকা অনুদান পেয়েছেন তাতে পুরো ছবি শেষ করা সম্ভব হবে না। কিন্তু শুরুটা তো হচ্ছে। একবার শুরু হলে শেষও হবে, এমনটাই মনে করেন ‘সুতরাং’ অভিনেত্রী, ‘এটা জনগণের টাকা। জনগণের কল্যাণ হয় এমন ছবিই বানব। আশা করছি নভেম্বরে শুটিংয়ে যেতে পারব।’

অর্ধশত বছর পার করেছেন চলচ্চিত্রে। দেশের নামকরা প্রায় সব পরিচালকের সঙ্গে তো কাজ করেছেনই, অভিজ্ঞতা আছে ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে কাজ করারও। সেই অভিজ্ঞতাকেই ক্যামেরার পেছনে থেকে কাজে লাগাতে চান।

এবারের সরকারি অনুদান পাওয়া চলচ্চিত্র নিয়ে অনুদান কমিটির মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মোরশেদুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ ও মতিন রহমান। অবশ্য মন্ত্রণালয় তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে মোটেও কথা বলতে রাজি নন কবরী, ‘অনুদান নিয়ে ছবি করতে যাচ্ছি। এ ধরনের ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমার মতে, সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাই সঠিক। অযথা কারো পক্ষ-বিপক্ষ নেওয়া উচিত হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা