kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

নেহা এলো ঢালিউডে

জি বাংলার ধারাবাহিক ‘স্ত্রী’র কল্যাণে দুই বাংলাতেই জনপ্রিয় নেহা আমানদীপ। এবার ঢালিউডে নাম লেখালেন এই পাঞ্জাবি ললনা। উত্তম আকাশের ‘প্রেম চোর’ দিয়ে শুরু। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন নাবীল অনুসূর্য

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেহা এলো ঢালিউডে

নেহার দ্বিতীয় যাত্রার শুরু ‘স্ত্রী’তে। এর অনেক আগে সেই ছোট্টবেলাতেই শোবিজে পা রেখেছিলেন। মডেল হয়েছিলেন কেকেআর, বিগ বাজার, প্রাণ-এর মতো প্রতিষ্ঠানের। একটা টিভি ধারাবাহিকে শিশুশিল্পীও হয়েছিলেন। সাহারা ওয়ান চ্যানেলের সেই হিন্দি সিরিয়াল ‘সাহেব বিবি গোলাম’-এ মূল নায়িকা ছিলেন রাভিনা ট্যান্ডন। তবে সেই যাত্রাকে দীর্ঘায়িত করেননি। বলেন, ‘ছোটবেলায় এত কিছু বুঝতাম না। মা-বাবার ইচ্ছাতেই কাজ শুরু করেছিলাম। পরে একটা সময়ে মনে হলো, আগে পড়াশোনা করা দরকার। আর শুটিং থাকলেই ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হতো! সেটা তো একদমই ভালো লাগত না।’

কিন্তু স্কুলের পাঠ চুকানোর আগেই শোবিজের প্রতি প্রেম ফিরে এলো। ‘আমি তখন নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ি। তখনই মনের মধ্যে একটা ইচ্ছা জাগল, নায়িকা হব। এর আগে অবশ্য নায়িকা হওয়ার বাসনাটা ছিল না’, বলেন নেহা। তত দিনে অনেক কিছু বুঝতেও শুরু করেছেন। নেহার আরেকটা সুবিধা ছিল। তাঁর এই ইচ্ছায় মা-বাবারও সমর্থন ছিল। বিশেষ করে মায়ের। প্রথমেই একটা ওড়িয়া ছবিতে অভিনয় করলেন—‘হে প্রভু দেখা দে’ (২০১৫)। এরই মধ্যে খবর পেলেন, জি বাংলার নতুন একটি ধারাবাহিকের জন্য নায়িকা খোঁজা হচ্ছে। নেহা ছবি পাঠালেন, নির্বাচিতও হলেন।

গোল বাধল অন্য জায়গায়। নেহা তো বাঙালি নন, পাঞ্জাবি। তখনো পর্যন্ত ঠিকঠাক বাংলাটা বলতে পারতেন না। কথার মধ্যে পাঞ্জাবি টান স্পষ্ট বোঝা যায়। প্রযোজক স্নেহাশিষ বললেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। গ্রুমিংয়ে ঠিক করিয়ে নেব।’ এবং সেটা করলেনও। শুধু নেহার বাংলাই নয়, ধারাবাহিকটির কলাকুশলীরা মিলে তাঁর ভেতর থেকে অভিনয়টাও বের করে আনলেন। ‘একে তো আগে অভিনয়টা ওভাবে শিখিনি, তার ওপর বাংলাটাও ঠিকমতো বলতে পারতাম না। প্রথম প্রথম শুটিংয়ে খুবই ভয়ে থাকতাম’, বলেন নেহা। নেহা বলেন, ‘ধারাবাহিকটিতে আমার সাফল্যের ৮০ শতাংশ কৃতিত্ব দেব পরিচালক বিজয় মাঝি, প্রযোজক স্নেহাশিষ, নায়ক জিতু আর প্রবীণ সহশিল্পীদের।’

এক ধারাবাহিকেই বাজিমাত করলেন নেহা। হঠাৎ করেই জগতটা বদলে যেতে লাগল। রাস্তায় রাস্তায় বিলবোর্ডে তাঁর ছবি শোভা পেতে লাগল। পরিচিতরা ফোন দিয়ে শুভ কামনা জানাতে লাগল। নেহা বলেন, ‘সেই অনুভূতিটা বলে বোঝানোর মতো নয়। ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত রকমের ভালো লাগা কাজ করত। সেই সঙ্গে নিজের ভেতরে একটা দায়িত্ববোধও চলে এলো। দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে আমাকে শতভাগ চেষ্টা করতে হবে।’ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছিল ধারাবাহিকটি। শুনেছিলেন, সেটা বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজেও যে এখানে এত জনপ্রিয়, ধারণাই করতে পারেননি! বলেন, ‘বাপরে! বাংলাদেশে আমি এত জনপ্রিয়! আমি তো জানতামই না।’

সেটা জানতে পেরেছেন ‘প্রেম চোর’ ছবির শুটিং করতে এসে। এখানেও সুযোগ পেয়েছেন ছবি পাঠিয়েই। ‘স্ত্রী’ শেষ করে তখন মোটামুটি ঝাড়া হাত-পা। গিয়েছিলেন একটা ফটোশুটে। সেখানেই একজন কথায় কথায় জানান, বাংলাদেশের একটা ছবির জন্য নায়িকা খোঁজা হচ্ছে। সায় পেয়ে তাঁর ছবিও পাঠালেন। দেখে পছন্দ করলেন নায়ক-পরিচালক-প্রযোজক সবাই। পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে শুনলেন গল্প। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম লায়লা। সে আবার ‘স্ত্রী’র নিরুর একদম বিপরীত স্বভাবের। যাকে বলে বড়লোকের বখে যাওয়া মেয়ে। ছোট্ট জীবনটা সে পুরোপুরি উপভোগ করতে চায়। পরখ করতে চায় সব কিছুই। এই করতে করতেই পরিচয় হয় নায়কের সঙ্গে। নায়ক মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে হলেও ভালো নয় মোটেও। দুজনের প্রেমও হলো। তারপর? বাকিটা আর বললেন না, ‘সবটুকু বলে দিলে দর্শক আর কী দেখতে হলে আসবে? তবে এটা বলতে পারি, পরিচালক উত্তম আকাশের কাছে যখন গল্পটা শুনছিলাম, চোখে পানি চলে এসেছিল’, বলেন নেহা।

কথাবার্তা চূড়ান্ত হলো। মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশে এসে শুটিংও করে গেছেন নেহা। নিয়ে গেছেন দারুণ অভিজ্ঞতা, ‘ছবির দৃশ্য ধারণের সময়গুলো খুব উপভোগ করেছি। কোন ফাঁকে ছবিটা শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। পরিচালকসহ সবাই আমাকে খুব সহায়তা করেছেন। মনেই হয়নি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অভিনয় করতে এসেছি।’ অভিনয় কেমন করেছেন, সেটা জানা যাবে ছবিটা মুক্তির পর। তবে জানালেন, শাপলা মিডিয়ার নতুন আরেকটি ছবি করবেন। বাংলাদেশে আরো ছবি করতে চান। ‘দর্শকের যে ভালোবাসা, পরিচালকসহ কলাকুশলীদের যে সহায়তা আমি পেয়েছি, আশা করছি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আরো কাজ করতে পারব’, বলেন নেহা।

মন্তব্য