kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

দেড় যুগ পর

র‌্যাম্পে হাঁটছেন দেড় যুগ হলো। টুকটাক অভিনয় করেন। এবারই প্রথম চলচ্চিত্রে এলেন। ‘আজব কারখানা’য় অভিনয় করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। শাবনাজ সাদিয়া ইমির চলচ্চিত্র ভাবনা জেনেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন কৌশিক ইকবাল

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেড় যুগ পর

এত দিন দর্শক গ্ল্যামারাস ইমিকে দেখেছে, এবার অভিনেত্রী ইমিকে দেখবে। এই ছবিই হবে আমার এই পর্বের প্রথম কাজ।

ছবিতে তিনি সুপার মডেল। এই সুপার মডেলকে পেতে চায় অনেকেই, কিন্তু সে চায় এক রকস্টারকে। রকস্টারেরও অনেক ফ্যান-ফলোয়ার। সবাইকে পাত্তাও দেয় না সে। ‘আজব কারখানা’র এটুকু গল্পই বললেন ইমি। বলেন, ‘পর্দায় যা দেখানো হবে বাস্তবের আমি তেমনই। আমি যা বিশ্বাস করি, যেভাবে জীবন দেখি, পরিচালক সেটাই আমার কাছ থেকে বের করে নিয়েছেন।’

২০০০ সাল থেকে র‌্যাম্পে হাঁটছেন। বিগত ১৯ বছরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন অনেক। রাজি হননি। এবার রাজি হওয়ার বিশেষ কী কারণ? ‘চাইছিলাম দর্শক যেন সিনেমায় আমাকে আমার মতো করেই পায়। আগে যতগুলো ছবির প্রস্তাব পেয়েছি, বেশির ভাগেরই পরিচালক পছন্দ হয়নি। কস্টিউমও একটা ব্যাপার ছিল। কাজটা কী হচ্ছে তা নিয়েই সন্দিহান ছিলাম। কনফিউশন নিয়ে শুরুটা করতে চাচ্ছিলাম না। এই ছবির চরিত্রটা পড়ে এবং পরিচালকের কথা শুনে মনে হয়েছে এখানে আমার সেরাটা দিতে পারব’, বলেন ইমি।

এই ছবি করার নেপথ্যে ছিল আরেকটি নাম—পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। যখন জানলেন তাঁর নায়ক ভারতীয় এই অভিনেতা, তখনই ছবিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। 

পরমব্রতকে সহশিল্পী হিসেবে পাওয়ায় নিশ্চয়ই অভিনয়ের চ্যালেঞ্জটা বেড়ে গিয়েছিল? তাঁর সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাই বা কেমন ছিল?

ইমি বলেন, ‘যতখানি এক্সাইটেড ছিলাম ঠিক ততখানি নার্ভাসও ছিলাম। নায়ক এসে নাচল, গাইল আর চলে গেল—এমন পার্সোনালিটি তাঁর মধ্যে নেই। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে মনে হয়েছে, এটাই আমার ফাইনাল টাইম। এটাই আমার প্রথম ও শেষ চান্স। সারা বিশ্বের পছন্দের অভিনেতার তালিকা যদি করি, তিনি থাকবেন ওপরের সারিতেই। শুটিংয়ে আমাকে অনেকভাবেই হেল্প করেছেন। চুপচাপ তাঁর কাছ থেকে শিখে গেছি—হোয়াট ইজ সিনেমা। অনেক সময় এমন হয়েছে আমি দৃশ্যটায় ঢুকতে পারছি না, সেরাটা দিতে পারছি না। কান্নাকাটি অবস্থা। সেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন পরম।’

বললেন পরিচালক শবনম ফেরদৌসি ও প্রযোজক সামিয়া জামান সম্পর্কেও। পরিচালক যখন গল্প শুনিয়েছেন, ইমি তখন তাঁর চোখেই পুরো সিনেমা দেখে ফেলছিলেন। ‘সামিয়া আপা অসাধারণ ব্যক্তিত্ববান ও গোছানো একজন মানুষ’, বলেন ইমি।

ঢালিউডে তাঁর নজর ছিল সব সময়ই। তাঁর মতে, এখন ভালো ছবি হচ্ছে। কয়েকজন ভালো ডিরেক্টরও আছেন। নতুন অনেকেই আসতে চাচ্ছে এ মাধ্যমে। পরিকল্পনা করে এগোতে পারলে ঢালিউডের ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল। 

সিনেমায় নিয়মিত হতে চান ইমি। শুধু নায়িকা নয়, যেকোনো ভূমিকাতেই। বলেন, ‘আইটেম গানও করতে পারি। তবে তার জন্য দরকার বড় ব্যানার। সে রকম অ্যারেঞ্জমেন্ট দিতে হবে। দেশের বাইরের সিনেমায়ও কাজ করতে চাই। অনেক ভাষায় কথা বলতে পারি। সেসব দেশের ভাষাভাষির নির্মাতারা যদি আমাকে নিয়ে কাজ করতে চান, ভালো কাজ হলে করব বলে আশা রাখি।’

‘আজব কারখানা’র ৮০ শতাংশ শুটিং হয়ে গেছে। শেষ অংশটার শুটিং নির্ভর করছে পরমব্রতর শিডিউলের ওপর। টালিগঞ্জ-বলিউড মিলিয়ে এ বছর পরমের ছয়টি ছবি মুক্তি পাবে। এগুলোর কাজের ফাঁকেই একটা সময় বের করবেন ‘আজব কারখানা’র জন্য। পরিচালকের ইচ্ছে এ বছরই মুক্তি দেবেন ছবিটি।

ইমির ব্যস্ততার খাতায় আছে একের পর নামি ব্র্যান্ডের শো। দুই বছর হলো টিভি নাটকে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। এখন আর স্পেশাল কিছু না হলে টেলিভিশনের পথে হাঁটবেন না। ‘দুই বছর ধরে সিনেমার জন্যই নিজেকে তৈরি করছিলাম। সামনের বছর মডেলিংয়ে ২০ বছর হবে আমার। এত দিন দর্শক গ্ল্যামারাস ইমিকে দেখেছে, এবার অভিনেত্রী ইমিকে দেখতে পাবে। এই ছবিই হবে আমার এই পর্বের প্রথম কাজ’, বলেন ইমি।

মন্তব্য