kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

অভিমানী মেয়েটি

বাবা-মেয়ের সম্পর্কের গল্পে ডাক বিভাগের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র করে আলোচনায় জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এই বিজ্ঞাপনচিত্র ও তাঁর অভিনয়ের খবর নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিমানী মেয়েটি

টিভি খুললেই এখন তাঁর দেখা মেলে, ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’-এর বিজ্ঞাপনচিত্রের কল্যাণে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনচিত্রটি সমালোচিত হলেও প্রশংসা পাচ্ছেন মডেল হিমি। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্রটির গল্প। অনেক দর্শকের অভিযোগ, বাবাকে এখানে ছোট করা হয়েছে। এই অভিযোগ পৌঁছেছে হিমির কানেও। ‘স্ক্রিপ্ট পড়ার পর, এমনকি শুটিং শেষ করার পরও আমার মাথায় আসেনি দর্শক এভাবে চিন্তা করবে। বাবা-মেয়ে দুজনের সাইড থেকে গল্পটা ভিন্ন। প্রথমে দেখা যায়, মেয়েটা ভাঙা পা নিয়ে বসে আছে হোস্টেল রুমে, ও তখন চিন্তা করছে ছোটবেলা থেকে সে বাবার কোনো সাপোর্ট পায়নি। এমন বিপদের দিনে পরিবারের কেউ কাছে না থাকলে যে কারোই অভিমান হবে। তখনই বাবার ফোনটা আসে। অনেকেই বলছেন, টাকা পাঠিয়েছে দেখেই বাবা-মেয়ের সম্পর্ক ঠিক হয়ে গেছে। ব্যাপারটা আসলে এমন নয়। প্রয়োজনের সময় মেয়েটা বাবার সাপোর্ট পেয়েছে, এটাই দেখানো হয়েছে। চিত্রনাট্যে বাবাকে ছোট করে দেখানো হবে মনে হলে অবশ্যই বিজ্ঞাপনচিত্রটি আমি করতাম না’—বললেন হিমি।

বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্মাণ করেছেন অমিতাভ রেজা। এই নির্মাতার সঙ্গে এটিই হিমির প্রথম কাজ। স্বভাবতই খুবই উচ্ছ্বসিত। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বললেন হিমি, “শুটিংয়ের আগে বেশ নার্ভাস ছিলাম। গিয়ে দেখলাম, অনেক গুছিয়ে শুটিং করে তাঁর ইউনিট। অমিতাভ ভাইয়ের ইউনিক দিক হলো, তিনি কারো দিকে একবার তাকিয়েই বলতে পারবেন তার কী কী দরকার। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে আমাকে বলেছিলেন, ‘অভিনয় করার চেষ্টা কোরো না। অভিনয় করার চেষ্টা করলেই সেটা ফেইক মনে হবে। নরমাল থাকো, কিভাবে ইমোশন আনতে হয় সেটা আমাদের ব্যাপার।’ ভেবেছিলাম আবেগী দৃশ্যটা করতে অনেকবার টেক নিতে হবে। কিন্তু না, খুবই অল্প সময়ে দৃশ্যটা ওকে হয়ে গেল।”

অভিনয়ে তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছেন। একসঙ্গে পাঁচটি ধারাবাহিক নাটকের প্রচার চলছে—এটিএন বাংলায় ‘জলে ভেজা রং’, নাগরিক টেলিভিশনে ‘বাঙ্গি টেলিভিশন’, বিটিভিতে ‘সুখের গাঁও কতদূর’, চ্যানেল আইতে ‘ভালবাসার যৌথ খামার’ এবং আরটিভিতে ‘রৌদ্র ছায়ায় খেলা’।

মাসের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেন ধারাবাহিকগুলোর পেছনেই। ব্যস্ততা দারুণ উপভোগ করছেন। কারণ তিনি কাজে ব্যস্ত থাকতেই চেয়েছিলেন। কিছুদিন আগে করলেন বিটিভির নাটক ‘ছায়া শিকারী’। এই নাটক নিয়ে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হিমি। সেলিম আল দীনের গল্পে ২৫ বছর আগে প্রথমবার নির্মিত হয়েছিল নাটকটি। নায়িকা সুহির চরিত্র করেছিলেন আফসানা মিমি। ২৫ বছর পর সুহি হয়েছেন হিমি। হিমি বলেন, “প্রতি মাসেই পুরনো জনপ্রিয় নাটকগুলোর একটি নতুন করে নির্মাণ করে বিটিভি। আগে শমী কায়সার আপু অভিনীত ‘আলতা’ করেছিলাম। মাস তিনেক আগে প্রচারিত হয়েছিল নাটকটি। আমরা যাঁদের দেখে বড় হয়েছি, যে ক্যারেক্টারগুলো আমাদের মা-বাবার পছন্দের ছিল, সেই চরিত্রে অভিনয় করা তো বড় প্রাপ্তিই।”

সিনেমায়ও দেখা গেছে তাঁকে। ‘হঠাৎ দেখা’য় বেশ প্রশংসিতও হয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আর কোনো ছবিতে পাওয়া যায়নি। কারণ হিসেবে বলেন, “প্রথম ছবিটা এত ভালো, এরপর তার কাছাকাছি মানের বা আরো ভালো কোনো ছবির প্রস্তাব পাইনি। যে কয়েকটির প্রস্তাব এসেছে, একটাকেও তাই ‘হ্যাঁ’ বলতে পারিনি। তবে আমি সিনেমা করতে চাই, ভালো প্রজেক্ট হলে অবশ্যই করব।”

মন্তব্য