kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

শেষের শুরু

১০ বছরের দীর্ঘ যাত্রা, দুনিয়াজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা। কে বাঁচবে, কে মরবে তা নিয়ে কতই না জল্পনা। সব মিলিয়ে ‘গেম অব থ্রোনস’ হয়ে উঠেছিল টিভি সিরিজের চেয়েও বেশি কিছু। অবশেষে শেষ হচ্ছে সেই যাত্রা। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজটির অষ্টম ও শেষ সিজনের প্রচার। এ নিয়ে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



শেষের শুরু

‘গেম অব থ্রোনস’-এর সপ্তম সিজন হয়েছিল ২০১৭ সালে। তখন থেকেই অপেক্ষার প্রহর গোনা। কেননা অষ্টম সিজনেই শেষ হবে জর্জ আর আর মার্টিনের উপন্যাস ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’-এর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত তুমুল জনপ্রিয় সিরিজটি। ২০১৬-র জুনেই এইচবিও প্রেসিডেন্ট কেসি ব্লয়েজ আফসোস করে বলেছিলেন, ‘আমার হাতে থাকলে আমি অন্তত আরো ১০টা সিজন বানাতাম। কিন্তু নির্মাতাদের [ডেভিড বেনিয়ফ ও ডি বি উইজ] সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে।’ শেষ সিজন কবে দেখা যাবে এ নিয়ে গেল দুই বছর নানা জল্পনা হয়েছে। অবশেষে গত নভেম্বরে জানানো হয়, এপ্রিলেই দেখা যাবে সিজন ৮। শেষ সিজনে যে মাত্র ছয়টি পর্ব থাকছে, সেটা ভক্তরা হিসাব-নিকাশ করে আগেই বের করেছেন। ষষ্ঠ সিজনের পরই বেনিয়ফ ও উইজ জানিয়েছিলেন, আর মাত্র ১৩ পর্ব বাকি আছে। সপ্তম সিজনে সাতটি দেখানো হয়ে গেছে। রইল বাকি ছয়। তবে পর্বসংখ্যা কমলেও এবার পর্বগুলোর দৈর্ঘ্য বেড়েছে। প্রথম দুটির দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টার একটু কম। পরেরগুলো প্রায় দেড় ঘণ্টার। এই ছয় পর্বের দৃশ্য ধারণের কাজ শুরু হয়েছিল সেই ২০১৭-র অক্টোবরে। শেষ হয়েছে গত বছরের জুলাইতে। টিভি সিরিজের একটি সিজনের দৃশ্য ধারণের জন্য সময়টা একটু বেশিই। তার অবশ্য কারণও আছে। যে মহাকাব্যিক যুদ্ধের জন্য জিওটি-ভক্তরা মুখিয়ে আছে, সেই যুদ্ধের দৃশ্য ধারণ করতেই লেগেছে কয়েক মাস। আউটডোরে টানা ৫৫ রাত দৃশ্য ধারণের পর স্টুডিওতেও আরো কয়েক সপ্তাহ কাজ করতে হয়েছে। এমনি এমনিই তো এটা সিরিজের সবচেয়ে খরুচে সিজন হয়নি। এবারের সিজনে প্রতি পর্বের জন্য খরচ হয়েছে সোয়া শ কোটি টাকারও বেশি! আগের সর্বোচ্চ ছিল ষষ্ঠ সিজন, প্রায় ৮৫ কোটি খরচ হয়েছিল সেবার। দেরি হওয়ার আরেকটি কারণ সব চরিত্রকে একত্র করা। এই সিজনে সব পক্ষের সব চরিত্র দুই ভাগে ভাগ হয়ে এক অন্তিম যুদ্ধে নামবে। ফলে চাইলেও ভাগে ভাগে দৃশ্য ধারণ করা যায়নি। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে করতে হয়েছে।

সময় বেশি পাওয়ায় অবশ্য ভক্তদের আরেকটা লাভ হয়েছে। ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে তারা এবারের সিজনের কাহিনি নিয়ে নানা তত্ত্ব বের করেছে। টিজার-ট্রেলার দেখে ‘স্পয়লার’ আবিষ্কারের চেষ্টা তো চলছেই। প্রথম পর্ব নাকি শুরু হবে দেনেরিসের উইন্টারফলে আসা দিয়ে। পিছু পিছু বাহিনী নিয়ে জন স্নো। সেখানে নাকি অবশেষে দেখা হবে সানসা ও দেনেরিসেরও। অনেকেই ধারণা করেছিল, লিটলফিঙ্গার না থাকায় সানসাকে আর বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করা হবে না। সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন খোদ সানসা ওরফে সোফি টার্নার নিজেই, ‘এই সিজনে সানসা এক নতুন বিপদের মুখে পড়বে। লিটলফিঙ্গারের সাহায্য ছাড়া সেই বিপদের মোকাবেলা করাটা তার জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’ এ ধরনের আরো অনেক তত্ত্বই দাঁড় করাচ্ছে ভক্তরা। সবচেয়ে বেশি গবেষণা চলছে সমাপ্তি নিয়ে। কেমন হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘মহারণ’? কী হবে পরিণতি? সমাপ্তি নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতেই বদল আনা হয়েছে প্রাথমিক পরিকল্পনায়। নতুন করে আরো জটিল সমাপ্তি টানা হয়েছে।

সেটা গোপন রাখতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করা হয়নি। পরিচালক ডেভিড নাটার বলেন, ‘পাপারাজ্জিরা যে কোথায় কোথায় থাকে চিন্তাও করতে পারবেন না। তাদের জন্য আমরা আয়োজন করে অনেক ভুয়া দৃশ্যও ধারণ করেছি।’ দৃশ্য ধারণের পুরো প্রক্রিয়াতেই কলাকুশলীদের কাউকে চিত্রনাট্যের কোনো অংশই কাগজে প্রিন্ট করে দেওয়া হয়নি। প্রথম সে কথা জানান ‘ডাভোস সিওয়ার্থ’ ওরফে লিয়াম কানিংহাম। পরে এ নিয়ে মুখ খোলেন ‘গেনড্রি বারাথিওন’ ওরফে জো ডেম্পসি, ‘এখন আর চিত্রনাট্যের হার্ডকপি দেওয়া হয় না। সব একটা বিশেষ অ্যাপে আছে। সেটায় তিন স্তরের নিরাপত্তা।’ এমনকি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলোর চিত্রনাট্য নাকি সেখানেও দেওয়া হয়নি। প্রথমে পাত্র-পাত্রীদের দৃশ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে দৃশ্য ধারণের সময় হেডফোনের সাহায্যে সংলাপ বলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্লয়েজ জানিয়েছেন, সিরিজটির অনেকগুলো সমাপ্তির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোনটি শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হবে, সেটা শিল্পীরাও প্রচারের আগে জানতে পারবেন না।

অষ্টম সিজন দিয়ে শেষ হলেও অনেকেই ধারণা করছেন, নিশ্চয়ই কোনো স্পিন-অফ বানানো হবে জনপ্রিয় সিরিজটির। তবে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথায় তেমন কোনো ইঙ্গিত নেই। আরিয়া স্টার্ক চরিত্রে অভিনয় করা মাইসি উইলিয়ামস ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছিলেন, ‘বিদায় বেলফাস্ট। বিদায় আরিয়া। বিদায় গেম অব থ্রোনস।’ আর ‘দেনেরিস টার্গারিয়ান’ এমিলিয়া ক্লার্ক লিখেছিলেন, ‘গেম অব থ্রোনস’ পরিবারকে আমি সারা জীবন মিস করব।’

 

জনপ্রিয় ৫ চরিত্র

দেনেরিস টারগারিয়ান (এমিলিয়া ক্লার্ক)

টারগেরিয়ান রাজবংশের এই উত্তরাধিকারীর বিয়ে হয় উপজাতি প্রধানের সঙ্গে। তিনি মাদার অব ড্রাগন। সে কারণে আগুনে পুড়লেও ক্ষতি হয় না। প্রথম জীবন অনেক কষ্টে  কেটেছে, এখন নিজের সেনাদল তৈরি করেছেন। একসময় তাঁর ওপর অত্যাচার হয়েছে। এখন অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃত্বে তিনি।


জন স্নো

(কিট হ্যারিংটন)

শুরুর দিকে জন্ম পরিচয় ছিল না। ষষ্ঠ সিজনে এসে জানা যায় তিনি টারগেরিয়ান রাজবংশেরই উত্তরাধিকারী! লর্ড অব দ্য লাইটের আশীর্বাদধন্য জন মরে গিয়েও জাদুবলে বেঁচে ওঠেন।


আরিয়া স্টার্ক

(মাইসি উইলিয়ামস)

আরিয়ার একটা তালিকা আছে। কাকে কাকে মারতে হবে সেই তালিকা। এ তালিকার সবাই কোনো না কোনোভাবে তার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। আরিয়ার কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে। সাবেক ক্রিকেটার মাহেলা জয়াবর্ধনে মেয়ের নাম রেখেছেন আরিয়ার নামে।


সারসেই ল্যানিস্টার

(লিনা হেডি)   

সিরিজের অন্যতম নেতিবাচক চরিত্র সন্তানসম্ভাবনা সারসেই। স্বার্থসিদ্ধির জন্য মরিয়া হেন কিছু নেই যা করতে পারেন না। এ জন্য তাঁকে ওয়াক অব শেমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। মানে পাপ ধুয়ে ফেলার জন্য নগ্ন্ন করে রাজ্য ঘোরানো হয়েছিল।


টায়রন ল্যানিস্টার

(পিটার ডিংকলেজ)

বামন হলেও বুদ্ধি দিয়ে বাজিমাত করেছেন টায়রন। বুদ্ধির জোরে বহুবার ফিরে এসেছেন নিশ্চিত মৃত্যু থেকে। শুরু থেকেই পরামর্শদাতা হিসেবে খুবই নির্ভরযোগ্য মনে করা হলেও সপ্তম সিজনে দ্বিধায় ভুগছেন। কারণ এবার লড়াই নিজের ভাই-বোনের বিরুদ্ধেই!

মন্তব্য