kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

পুরনো ধরনে নতুন ঢংয়ে

মাঝে বেশ মুটিয়ে গিয়েছিলেন। কসরত করে ওজন কমিয়েছেন, বদল আনতে চাইছেন অভিনয়েও। মিশু সাব্বিরকে নিয়ে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরনো ধরনে নতুন ঢংয়ে

ঢাকায় বড় হয়েছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই চুটিয়ে আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন। তরুণ প্রজন্মের প্রাণোচ্ছল জীবনযাপন দেখেছেন খুব কাছ থেকে। পর্দায় জনপ্রিয় হন সে ধরনের চরিত্র করেই। পরিচালকরাও তংাকে এই ‘পাংক’ চরিত্রগুলোতেই চাইতেন। করে গেছেন একটানা। ভালোই চলছিল। প্রচুর নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। অভিনয় করেছেন এয়ারটেল প্রযোজিত তিনটি নাটকেই—আদনান আল রাজীবের ‘অলটাইম দৌড়ের উপর’, রেদওয়ান রনির ‘ভালোবাসা ১০১’ ও শাফায়েত মনসুর রানার ‘ভিটামিন টি’। ‘বিশেষ করে রাজীবের নাটকটার একটা প্রভাব কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে পড়েছিল। আর আমি ছাড়া আর কোনো অভিনয়শিল্পীই কিন্তু তিনটাতে অভিনয় করেননি’—বললেন মিশু।

কিন্তু ওই একই সিচুয়েশনাল কমেডি আর কত দিন ভালো লাগে! সাত-আট বছরের চর্বিতচর্বণে বিরক্তই হয়ে ওঠেন মিশু, ‘আমাদের এখানে একটা বড় সমস্যা হলো, যে অভিনয়শিল্পী যেটা ভালো পারে, তাকে দিয়ে শুধু সেটাই করানো হয়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’ বিরক্ত হয়েই ২০১৬ সালে ঘোষণা দিলেন, কোনো হাসির নাটকে অভিনয় করবেন না। অভিনয় করতে চান অন্য ধরনের চরিত্রেও। নইলে নিজের অভিনয়ের ধার পরখ করা হচ্ছে কই! কিন্তু মিশু চাইলেই তো হবে না। তেমন চরিত্রে পরিচালকদেরও তাঁর কথা ভাবতে হবে। পেতে হবে ঠিকঠাক গল্প। প্রচুর নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন। খুঁজতে থাকলেন মনের মতো কোনো চরিত্র, ‘কোনো অভিনয়শিল্পীরই ক্যারিয়ার গ্রাফ সব সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকে না। আমার মনে হলো, গ্রাফটা ওপরের দিকে থাকতে থাকতেই বেছে কাজ করে নিজের জায়গাটা ঠিকঠাক করে নেওয়া দরকার।’ সব মিলিয়ে মিশুর অভিনীত নাটক-ধারাবাহিকের সংখ্যা রাতারাতি কমে গেল। কম কাজ করায়, চরিত্রগুলোর প্রতিও বেশি করে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেলেন। নিজেই বুঝতে শুরু করলেন, অভিনয়ের মান আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে। ‘আগে একসঙ্গে ৮-৯টা ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছি। এখন একটা নাটক বা ধারাবাহিক করেই বেশি সাড়া পাই।’

২০১৭-র শেষে আরেকটা বিষয় খেয়াল করলেন। মুটিয়ে গেছেন অনেক। ওজন হয়ে গেছে ৭৮ কেজি! ‘আমি ক্যারেক্টার আর্টিস্ট। এমন ভারী শরীর নিয়ে আমাকে যদি রিকশাওয়ালা বা গ্রামের কৃষকের চরিত্র করতে বলে, পারব না। তখন মনে হলো, গল্প-চিত্রনাট্য ও চরিত্র বাছাইয়ের পাশাপাশি শরীরের দিকেও নজর দিতে হবে।’

২০১৮-তে মিশু নতুন চ্যালেঞ্জ হাতে নিলেন। নিয়মিত জিম করা শুরু করলেন—সপ্তাহে ছয় দিন, দৈনিক তিন ঘণ্টা করে। আর খাবার তালিকা থেকে বাদ দিলেন কার্বোহাইড্রেট। খাবার বলতে সবজি আর মাছ। সপ্তাহে এক দিন শুধু সবজি-খিচুড়ি। তাতেও চালের চেয়ে ডাল থাকত বেশি। সাড়ে চার মাসে ওজন কমালেন ১৮ কেজি! তখন আবার আরেক সমস্যা দেখা দিল, ‘আগে সবাই বলত বেশি মোটা হয়ে গেছ। শুকানোর পর সবাই বলতে শুরু করল, বেশি শুকিয়ে গেছ।’ তাই আরো পাঁচ কেজি বাড়িয়ে এখন ওজন ৬৫-তে আটকেছেন।

এর পরও অবশ্য তাঁকে আগের সেই প্রাণোচ্ছল তারুণ্যনির্ভর চরিত্রেই দেখা যাচ্ছে। কারণটা বললেন নিজেই, ‘পরে বুঝতে পেরেছি, দর্শক আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত সেভাবেই দেখতে চায়। আমাকে দেখে মজাই পেতে চায়।’ তাই আবার ফিরে গেছেন নিজের পুরনো ধরনেই, তবে পুরনো ঢংয়ে নয়। ‘এই চরিত্রগুলোই নতুন করে করার চেষ্টা করছি।’ মিশু এখন অভিনয় করছেন কাজল আরেফিন অমির ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ। এটার ৪২ পর্বের পর থেকেই বদলে গেছে মিশুর স্বাস্থ্য। এর মধ্যে কিছু একক নাটকেও অভিনয় করেছেন—শাহজাদা মামুনের ‘ওপারে বসন্ত’, কাজল আরেফিন অমির ‘আরেকটি সন্দেহের গল্প’, সোলেমান জয়ের ‘লাকি নিউটন’, ফাহমিদা ইরফানের ‘ধূসর ঘূর্ণি’ ও আবু হায়াত মাহমুদের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট ফটো স্টুডিও’। হাসান তৌফিক অঙ্কুরের নির্দেশনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্রও করেছেন। এগুলোতে দেখা মিলবে মেদহীন ঝরঝরে এক নতুন মিশু সাব্বিরের।

মন্তব্য