kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

‘সবাই সর্বস্বত্ব চায়’

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘সবাই সর্বস্বত্ব চায়’

‘ডি-রকস্টার’, ‘ক্লোজআপ ওয়ান’, ‘মার্কস অলরাউন্ডার’-এর পর গৃহিণীদের নিয়ে রিয়ালিটি শো ‘সিলন সুপার সিঙ্গার’-এর প্রধান বিচারক পার্থ বড়ুয়া। ‘সিলন মিউজিক লাউঞ্জ’-এ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর রি-অ্যারেঞ্জ করা ১৭টি গান। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবিউল ইসলাম জীবন

 

‘সিলন সুপার সিঙ্গার’-এর শুটিং করছেন। এই আয়োজন নিয়ে যদি বলতেন?

‘সিলন মিউজিক লাউঞ্জ’-এ কাজ করতে করতে তাদের কাছ থেকে প্রস্তাব আসে গৃহিণীদের নিয়ে এই আয়োজনের। মানুষের জীবনে সব সময় সব কিছু হয়ে ওঠে না। অনেক গৃহিণী আছে, হয়তো একসময় গানের প্রতি ঝোঁক ছিল। কিন্তু সংসার সামলাতে গিয়ে স্বপ্নটা হারিয়ে যায়। তাদের একটি মঞ্চে সুযোগ করে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এখন পর্যন্ত অনেক প্রতিযোগীকে দেখেছি, খুব ভালো গায়। সবাই অনেক উৎসাহী। কেউ স্বামীকে নিয়ে, কেউ শ্বশুরকে নিয়ে অংশ নিতে আসছে! এটা খুব ইতিবাচক। অন্যান্য রিয়ালিটি শোতে দেখা যায়, প্রতিযোগীদের ভবিষ্যৎ তারকা বানানোর একটা লক্ষ্য থাকে। এখানে প্রতিভা তুলে ধরাই আসল। পরের সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নেবে। ঈদের পর এনটিভিতে এই রিয়ালিটি শোর প্রচার শুরু হবে।

এভাবে রিয়ালিটি শো থেকে এসে সত্যিকারের শিল্পী হওয়া সম্ভব?

অনেক বাংলা গানকে মানুষের কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে কিন্তু এই রিয়ালিটি শোগুলো। ১০ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির একটা অংশ চালাচ্ছে রিয়ালিটি শো থেকে আসা শিল্পীরা। এখন যদি নতুন ১৫টা ছেলে-মেয়ে নিয়ে কথা হয়, দেখা যাবে ১২ জনই আসছে রিয়ালিটি শো থেকে। শিল্পী তৈরি করতে পারে কি পারে না, এ থেকেই বোঝা যায়। আমাদের বাস্তবতার নিরিখে হিসাব করতে হবে। আমাদের দেশে বড় বড় কাজ খুব কমই হয়। হলে সেটা নিয়ে একটা পক্ষ সমালোচনা করে। এটা ঠিক না।

‘ডি-রকস্টার’, ‘ক্লোজআপ ওয়ান’, ‘মার্কস অলরাউন্ডার’-এর পর ‘সিলন সুপার সিঙ্গার’-এর প্রধান বিচারক আপনি। আয়োজকরা বারবার আপনাকে বেছে নেয় কেন?

প্রথমত, নিজের শতভাগ দিয়ে কাজটি করার চেষ্টা করি। দ্বিতীয়ত, একটা কাজ করতে করতে মানুষের অভিজ্ঞতা হয়। আমি যাদের নিয়ে দৌড়েছি তারা কিন্তু আজকে ইন্ডাস্ট্রির একটা পর্যায়ে গেছে। হয়তো এর মূল্যায়ন করেই আয়োজকরা আমার ওপর বারবার আস্থা রাখে। সব সময়ই চেষ্টা করি সততার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালনের।

সোলসের নতুন গানের খবর কী?

প্রায় ২০টি গান রেকর্ড করে বসে আছি। ছাড়ার উপায় পাচ্ছি না। কিভাবে ছাড়ব, কোথায় ছাড়ব, চিন্তা করছি।

এখন তো ইউটিউবই গান প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম...

ইউটিউব জিনিসটা এখনো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারিনি। সে জন্য কিছু করতে পারছি না। বুঝে উঠি আগে। ফ্রি ফ্রি গান-বাজনা করে ছেড়ে দেব—এই ধারণায় এখনো নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। সে জন্যই এ অপেক্ষা।

বছর তিনেক আগে আপনার প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটা কোন পর্যায়ে আছে?

সেটিরও একই অবস্থা। রেকর্ডিং শেষ, ছাড়ব ছাড়ব করছি। সবাই সর্বস্বত্ব চায়। আমরা গান করে অন্যকে এভাবে লিখে দেব, তা তো হতে পারে না। কিভাবে প্রকাশ করা যায়, সে উপায় খুঁজছি। এটা মূলত গীতিকার রানা আর আমার যৌথ প্রজেক্ট। শুরুতে নাম দিয়েছিলাম ‘মুখোশ’। কিছুদিন আগে নাকি এই নামে একটি অ্যালবাম বেরিয়েছে। তাই নামটি নিয়ে নতুন করে ভাবছি। অ্যালবামটিতে  সাতটি গান থাকবে। সবই বিষয়ভিত্তিক। কয়েকটি শিরোনাম—‘জীবন-মৃত্যু’, ‘শহর’, ‘নদী’।

‘সিলন মিউজিক লাউঞ্জ’ থেকে এ পর্যন্ত আপনার রি-অ্যারেঞ্জে ১৭টি জনপ্রিয় গান নতুন করে প্রকাশিত হয়েছে...

এই কাজটি শুরু হয় মূলত সিলন চায়ের উদ্যোগে। গানগুলো প্রকাশও পেয়েছে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে। গানগুলোর মধ্যে রয়েছে গীতা দত্তের ‘এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়’ (সালমা), আরতি মুখার্জির ‘ওগো মনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকো না (নন্দিতা), ‘তখন তোমার একুশ বছর’ (নিশিতা বড়ুয়া), চিত্রা সিংয়ের ‘দুটি মন আজ দুজনার’ (লিজা), ভূপেন হাজারিকার ‘আমি এক যাযাবর’ (সাব্বির), মান্না দের ‘হয়তো তোমারই জন্য’ (মিফতা জামান) প্রভৃতি। এই গানগুলো কালজয়ী। নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ।  আমাদের ছেলে-মেয়েরাও যে গানগুলো গাইতে জানে, সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা চেয়েছি মিউজিকটা যা আছে তা-ই রাখতে। কোনো কিছু যোগ-বিয়োগ করতে চাইনি। অরিজিনাল মিউজিক যেন বিকৃত না হয়, সেটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। একেকটা গান রেকর্ড করতে প্রচুর সময় লেগেছে। এমনও হয়েছে, একটি গান একাধিকজনকে দিয়েও গাওয়ানো হয়েছে। সিলনকে ধন্যবাদ এমন আয়োজনের জন্য। আরো সাত-আটটি গান রেকর্ড করা আছে। ক্রমান্বয়ে ছাড়া হবে।

মন্তব্য