kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

একটা চিত্র প্রদর্শনী করতে চেয়েছিলেন

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটা চিত্র প্রদর্শনী করতে চেয়েছিলেন

পর্দায় তাঁকে কমেডি করতেই দেখেছেন। তিনি যে একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন, তা হয়তো অনেকেই জানতেন না। দুই বছর আগে নিজের সেই গুণের কথা জানাতে কলম ধরেছিলেন টেলি সামাদ। সদ্যঃপ্রয়াত এই অভিনেতার স্মরণে সেই লেখার কিছু অংশ এখানে

 

কৌতুক অভিনেতা খেতাবের আড়ালে আমার আরেক শিল্পগুণের কথা চাপা পড়ে গেছে। বড় ভাই শিল্পী আব্দুল হাইয়ের প্রেরণায় ছবি আঁকা শুরু করি বাল্যকালেই। পড়াশোনাও করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। বরেণ্য শিল্পী জয়নুল আবেদিনের সরাসরি ছাত্র ছিলাম। মুস্তাফা মনোয়ার, কাজী আব্দুল বাসেত ও খাজা শফিক আহমেদের কাছেও দীক্ষা নিয়েছিলাম। পাঁচ হাজারের বেশি ছবি এঁকেছি এই জীবনে। এখন তো অভিনয় খুব একটা করি না। অবসর সময়টা ছবি এঁকেই কাটাই। দুই বছর আগে আমেরিকায় ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছিলাম, সেখানে বসেই এঁকেছিলাম ৪০টি তৈলচিত্র। আঁকাআঁকির প্রসঙ্গ এলেই প্রয়াত ভাই আব্দুল হাইয়ের কথা বারবার মনে পড়ে। অনেক বড়মাপের শিল্পী ছিলেন। সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত তাঁকে ‘পল্লী চিত্রশিল্পী’ উপাধি দিয়েছিলেন। গ্রামবাংলার রূপ ধরা পড়ত তাঁর ক্যানভাসে। আমি তাঁর ধারেকাছেও যেতে পারিনি।

ছয় শরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছি। জীবনের বেশির ভাগ সময় অভিনয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তাই অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে চিত্রশিল্পীর পরিচয়টা তেমন করে জানান দেওয়ার সুযোগ হয়নি।

জলরং আমার প্রিয় মাধ্যম। যা কিছু এঁকেছি, তার প্রায় সবই জলরংয়ে। প্রকৃতি, প্রকৃতির বৈরিতা ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংগ্রাম নিয়ে ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করি। পোর্ট্রেট ও দেয়ালচিত্রও করেছি বেশ কিছু। আমার আঁকাআঁকি শুরু হয় জাতীয় পতাকা দিয়ে। ছোটবেলায় শুধু পতাকা আঁকতাম।

আমার আরো কিছু পরিচয় আছে—গায়ক, সংগীত পরিচালক, নাট্যকার। চিত্রশিল্পী পরিচয়ের মতো এই সব কাজের খবরও প্রচারমাধ্যমে খুব একটা আসেনি।

আমার বাসায় এলে খুব বেশি ছবি পাবেন না। একে-ওকে উপহার দিয়েছি। ছবি আঁকা পর্যন্তই আমার যত আগ্রহ। আঁকা শেষ হয়ে গেলে যে চাইবে তাকেই দিয়ে দিই। স্টোররুমে আছে কিছু ছবি। ভাবছি এবার একটা প্রদর্শনী করব। তার আগে বিশেষ কিছু ছবি আঁকতে হবে। একেবারে নতুন ছবি নিয়ে করব প্রদর্শনীটা। আমার আবার আলসেমি রোগ আছে। হুটহাট মনে হয়, এত ছবি এঁকে কী হবে! আবার এমনও দিন গেছে, সকালে বসেছি, একেবারে সন্ধ্যায় আঁকা শেষ করে    তবেই উঠেছি।

ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

 

ছাগশিশু কোলে নিয়ে খেলছে এক কিশোরী, পাশেই মা ছাগল। গ্রামের বাড়িতে দৃশ্যটা দেখে এঁকেছিলেন। তবে সাল মনে নেই

ঝড়ের কবলে পড়া মানুষ দৌড়াচ্ছে। ছবিটি এঁকেছেন ১৯৭৬ সালে

মন্তব্য