kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

দুই দশক পেরিয়ে

দুই দশক পার করল রক ব্যান্ড ভাইকিংস। মাঝে খানিকটা বিরতি থাকলেও আবার তারা স্বমূর্তিতে। তাদের গল্প শুনতে গিয়েছিলেন রিদওয়ান আক্রাম

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দুই দশক পেরিয়ে

রবিবার। গুলশানে মার্কেট বন্ধ, তাই ছুটি ছুটি ভাব। ট্রাফিক জ্যাম না ঠেলেই হাজির হওয়া গেল গুলশান-১-এর নাভানা টাওয়ারে। এখানকার ১৫ তলায় দেখা পাওয়ার কথা দুই ভাইকিংয়ের। এই ভাইকিংরা গানের জগতের। লিফট গিয়ে থামল ঢাকা এফএমের অফিসে। এখানে কাজের সূত্রে আছেন ভাইকিংস ব্যান্ডের ভোকাল তন্ময় তানসেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে আগেই হাজির গিটারবাদক সেতু চৌধুরী। শুরু করলেন তন্ময়, ‘নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে ধীরে ধীরে সংগীতের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকি। একটু একটু করে গিটারে হাত রাখি, ড্রামস বাজাই, কখনো আবার গাওয়ার চেষ্টা করি। ব্যান্ড করার উদ্দেশ্য তখন ছিল না। বন্ধুত্বটাই ছিল তখন আমাদের কাছে মুখ্য।’ তাঁর সঙ্গে যোগ দেন সেতুও, ‘তখন বাদ্যযন্ত্র অনুশীলনের রেওয়াজ ছিল কম। দেখা যেত, কোনো পাড়ায় হয়তো দুজন আছে, যারা এমনটা করছে। সংগীতের সূত্র ধরে একজনের সঙ্গে আরেকজনের পরিচয় হতে থাকে। এভাবেই আমরা একত্র হয়েছিলাম।’

বিরানব্বইয়ের দিকে এসে সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে তন্ময়, সেতু, সায়মনদের একটা দল দাঁড়িয়ে যায়। তখনো কোনো নাম ঠিক হয়নি। সে সময়ই শুরু হয়ে যায় গান লেখা আর সুর করার কাজ। একসময় তাঁদের মনে হলো, গানগুলো রেকর্ডিং করলে কেমন হবে? সিদ্ধান্ত হলো রেকর্ডিং স্টুডিওতে যাওয়ার। এ জন্য তো পয়সাকড়িও চাই। তন্ময় আর সেতু নিজেদের গিটার বিক্রি করে দিলেন। বিক্রিলব্ধ অর্থ নিয়েই ১৯৯৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাজির হলেন পাড়ার বড় ভাই সংগীতশিল্পী ইমরুল হাসান ইমনের ‘শ্রুতি ২’ স্টুডিওতে। সব ঠিকঠাক। শিফট বুকিং দেওয়ার সময় তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হলো, ‘কী নাম লেখা হবে?’ তখন সেতুর হাতে ছিল ‘ভাইকিং’দের ওপর লেখা একটা বই। ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই ‘ভাইকিং’ নামটা দিয়ে দেন সেতু। সেবার চারটি গানের রেকর্ডিং হয়—‘জীবনের কোলাহল’, ‘দাঁড়িয়ে আছি’, ‘২৭ জানুয়ারি’ এবং ‘নিয়ে চল আমাকে’। রেকর্ডিংয়ের মাঝে ব্যান্ডের নাম খানিকটা বদলে যায়। সেটারও গল্প আছে। শোনা যাক সেতুর মুখে, “ঘটনাটা সে বছরের ডিসেম্বরের। নীলক্ষেতের এক হোটেলে মোগলাই খাচ্ছি। আমাদের কথা শুনে পাশের টেবিল থেকে একজন এগিয়ে এসে বললেন, ‘যদি কিছু মনে না করেন, আপনারা কি মিউজিক করেন? আমার নাম কাওসার আহমেদ চৌধুরী।’ আমরা নাম শুনে দাঁড়িয়ে গেলাম। উনার নাম অনেক শুনেছি। কিন্তু চেহারায় চিনতাম না। তারপর গান নিয়ে অনেক কথা। শেষে আমাদের ব্যান্ডের নাম জিজ্ঞেস করলেন। নামটি শুনে শেষে একটা ‘এস’ যোগ করতে বলেন। এভাবেই ‘ভাইকিং’ হয়ে গেল ‘ভাইকিংস’।”

এরই মধ্যে রিজওয়ান রশীদ রিঙ্গোর করা একটি মিউজিক ভিডিওর সূত্র ধরে পরিচিতি পায় ভাইকিংস। পেয়ে যায় বামবার সদস্য পদ।

এরপর ১৯৯৯ সালে হুট করেই তারা অংশ নেয় ‘বেনসন অ্যান্ড হেজেস : স্টার সার্চ’ প্রতিযোগিতায়। সবাইকে অবাক করে বিজয়ীও হয়ে যায়! বলা যায়, এর মধ্য দিয়ে এক রাতেই তারকা হয়ে যায় ভাইকিংস। আসতে থাকে কনসার্টের প্রস্তাব। ১৯৯৯ সালের শীতে তাদের প্রথম কনসার্ট হয় আর্মি স্টেডিয়ামে, সঙ্গে ছিল দেশের সে সময়কার বড় বড় ব্যান্ড। প্রথম অ্যালবাম করার জন্য প্রস্তাব দিতে থাকে বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা। নতুন করে আবার সেই গানগুলো রেকর্ডিং করা হয়। ২০০০ সালের ২০ আগস্ট সংগীতা থেকে বের হয় ভাইকিংসের প্রথম অ্যালবাম ‘জীবনের কোলাহল’। তখন লাইন আপে ছিলেন তন্ময় (ভোকাল), সেতু (গিটার ও ভোকাল), বাবু (কি-বোর্ড), সায়মন (ড্রামস) ও জনি (বেইস গিটার)।

২০০১ সালে পেপসির সঙ্গে চুক্তি করেন তারা। একই বছর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বের হয় এক গানের অ্যালবাম ‘ভালোবাসি যারে’। পরের বছরই আসে আরেকটি অ্যালবাম ‘দিন যত দুঃখ তত’। ২০০৩ সালে কি-বোর্ডবাদক বাবু বিদেশে চলে গেলে খানিক বিরতি নেয় তারা। কিন্তু সেই বিরতিটা ১১ বছরে গিয়ে ঠেকে। ২০০৮ সালে ফেসবুকের কল্যাণে ভাইকিংস জানতে পারে তাদের ভক্তদের কথা। ভাইকিংসের নামে পাঁচটা ফেসবুক পেজ ছিল তখন।  ২০১০ সালে তারা আবার অনুশীলন শুরু করে। এর মধ্যে তন্ময় তানসেন চলচ্চিত্র পরিচালক হয়ে যান। তৈরি করেন ‘পদ্ম পাতার জল’ (২০১৫) ও ‘রান আউট’ (২০১৫)। ‘রান আউট’ ছবির গানের সূত্র ধরেই ফিরে আসে ভাইকিংস। ২০১৪ সালে ‘রান আউট’ শিরোনামেই বের হয় তাদের তৃতীয় অ্যালবাম। সেই অ্যালবাম পর্যন্ত কি-বোর্ডবাদক বাবু কাজ করেছেন। তৃতীয় অ্যালবামের পর তারা আবার অনুশীলন শুরু করেন। সে সময় ব্যান্ডে দ্বিতীয় গিটারবাদক হিসেবে যোগ দেন আসাদ। তাঁর সূত্র ধরে দলে আসেন নতুন কি-বোর্ডবাদক রিমন। ‘রিটার্ন অব ভাইকিংস’-এর মধ্য দিয়ে কনসার্টে ফেরে ব্যান্ডটি। এখন কনসার্টে নিয়মিত তারা। পাশাপাশি চলছে ‘ভাইকিংস রিপ্লেইড প্লাস ওয়ান সিজন ওয়ান’, ‘ভাইকিংস রিপ্লেইড প্লাস ওয়ান সিজন টু’ এবং ‘ভাইকিংস রিপ্লেইড প্লাস ওয়ান সিজন থ্রি’ নামের তিনটি অ্যালবামের কাজ। তাদের প্রথম তিন অ্যালবাম থেকে বাছাই করা ১৫টি গানের সঙ্গে নতুন তিনটি গান থাকবে অ্যালবামগুলোতে।

মন্তব্য