kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

‘কখনো ক্লান্তি আসেনি’

প্রতি শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিটিভিতে প্রচারিত হয় ‘এসো গান শিখি’। ৫২ বছর ধরে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন ফেরদৌসী রহমান। সামাজিক মাধ্যমেও তিনি এখন সরব। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘কখনো ক্লান্তি আসেনি’

কেমন আছেন?

ভালো আছি।

১৩ অক্টোবর বিকেলে ‘এসো গান শিখি’র শুটিংয়ে দুটি পুতুলের সঙ্গে মজা করে ছবি তুলে ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিলেন। ছবিতে আপনার ভক্ত-শ্রোতারা মজার মজার কমেন্ট করছেন। নির্মাতা আদনান আল রাজীব ছবিটি নিজের ওয়ালে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন—‘খালামণি। আমার জীবনে উনার মতো সুইট খালামণি আর দেখি নাই।’

সত্যিই ভালো লাগার মতো একটা ব্যাপার। বিটিভির জন্মলগ্ন থেকে অনুষ্ঠানটি চলছে। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন বয়সসীমার মধ্যে এটা জনপ্রিয়। কয়েকটি জেনারেশন অনুষ্ঠানটি দেখে বড় হয়েছে। সুতরাং ছবিটি যে-ই দেখুক—ছোট কেউ, বাপ-মা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানি, প্রত্যেকেরই মনে একটা নাড়া দিচ্ছে—‘আহা রে, উনারে তো ছোটবেলায় দেখতাম! কেউ ভাবছে, আমাদের বাচ্চারা তো অনুষ্ঠানটি দেখত। কেউ ভাবছে, আমিও তো দেখতাম।’ একটি অনুষ্ঠান যখন ৫২ বছর ধরে চলে, তখন বিভিন্ন বয়সের মানুষকে ছুঁয়ে যায়। ছবিটি দেখে তাদের স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে, আনন্দ পাচ্ছে। কয়েকজন ভারতীয় ভক্তও লিখেছে, ‘খালামণি! আমরা আবার সেই সময়টায় ফিরে গেছি।’ এটা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি। আশা করি অনুষ্ঠানটি মানুষ আরো বেশি দেখবে, দেখার উত্সাহ পাবে।

৫২ বছর ধরে অনুষ্ঠানটি করছেন, কখনো ক্লান্তি আসেনি? কিংবা মনে হয়নি, এবার ছেড়ে দিই...

না না না। এই একটা অনুষ্ঠান, যেটাতে আমার কখনো ক্লান্তি আসেনি। আশা করি আসবেও না। অনেক সময় শরীর বিগড়েছে। মাঝখানেও একবার শরীর খারাপ গেছে। তখন সৈয়দ মোস্তফা কামাল ছিলেন। তিনি আমার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। বলেন, ‘আপা, আপনি বিশ্রাম নিন। আবার যেদিন শুরু করব, আপনাকে নিয়েই করব।’ আমি বলেছি আর কাউকে দিয়ে শুরু করতে। তাঁরা রাজি হননি। এটা অবশ্যই আমার জন্য গর্ব ও ভালো লাগার জায়গা যে অনুষ্ঠানটি যাঁরা করেন কিংবা দেখেন, সবাই আমাকে নিয়ে ভাবেন। ফলে অনুষ্ঠানটি আমার মতোই রয়ে গেছে। আমি যেভাবে করছি, সেভাবেই হচ্ছে।

পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি হলের নাম করা হয়েছে আপনার নামে—‘ফেরদৌসী রহমান ছাত্রীনিবাস’। জানেন নিশ্চয়ই...

অল্প কয়েক দিন আগে জানলাম। দুই বছর ধরে নাকি চলছে। যে ওখানে গিয়ে ছবি তুলে এনেছে, তাকে আমি চিনি না। আব্বাসী ভাইয়ের সঙ্গে বোধ হয় আলাপ আছে। সে ছবি তুলে এনে আব্বাসী ভাইকে দিয়েছে। কারা কিভাবে করেছে একেবারেই জানি না। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের এবং সম্মানের! মানুষ মরে গেলে তার নামে এই করে সেই করে। জীবিত অবস্থায় কেউ যদি সেটা পায়, তা অবশ্যই সম্মান বোধ করার মতো। বিশেষ করে পড়াশোনার একটি জায়গা যদি ফেরদৌসীর নামে হয়, সেটা অবশ্যই তার জন্য গর্বের।

সেখানে গিয়ে নিজের নামটি দেখতে ইচ্ছা করছে না?

ইচ্ছা করছে সত্যি, তবে শরীরটা যেতে বলছে না। শরীরটা ঠিক নেই। ভালো হলে অবশ্যই যাব।

কয়েক বছর আগেই নিজের নামে ওয়েবসাইট খুলেছিলেন। এবার ফেসবুক পেজ খুলেছেন।

আমি এর কিছুই জানতাম না। আমার নাতনি মানে নাশিদ কামালের মেয়ে আরমিন মুসা মাঝে কয়েক দিন আমাদের বাড়িতে ছিল। ও বলে, ‘ময়না, আমি তোমার নামে একটা ফেসবুক পেজ খুলে দিই।’ ওই তখন খুলে দেয়। তবে এটা ঠিক, যারা কালচারাল কাজ করে, তাদের প্রত্যেকেরই হয়তো ফেসবুক, টুইটার বা এই ধরনের কিছু আছে। মাঝেমধ্যে আমিও পেজে যাই। কিছু ইনফরমেশনও দিই। সবাই তো সব ইনফরমেশন জানে না। তবে খুব রেগুলার না। প্রায় আট হাজার মানুষ এখন পেজটির সঙ্গে কানেকটেড। অনেকে বলে—বুস্ট করেন, করি না। আমি মনে করি, যার ভালো লাগবে সে লাইক করবে, যার লাগবে না সে করবে না।

কিছুদিন আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। কয়েক দিন পরই আবার চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে নিজেই মো. খুরশীদ আলমের হাতে আজীবন সম্মাননা তুলে দিয়েছেন। একই ধরনের সম্মাননা একদিকে নিচ্ছেন, অন্যদিকে দিচ্ছেন...

এই বয়সে লাইফলাইম অ্যাচিভমেন্ট পাওয়াটা অবশ্যই আনন্দের ব্যাপার, গর্বের ব্যাপার। অনেকের জন্য এটা উত্সাহের জায়গা। যেকোনো শিল্পীর জন্যই রিকগনিশন জরুরি। দেওয়াটাও একটা বিরাট ব্যাপার। ন্যাশনাল লেভেলে এ ধরনের সম্মাননা নিজে নিচ্ছে, আবার অন্যদের হাতে তুলে দিচ্ছি।

অনেক দিন ধরে আপনার নতুন গান নেই।

শারীরিক কারণে পারছি না। শরীরের উন্নতি হলে কখনো, চেষ্টা করব। আর একটা বয়সের পর বোধ হয় থামতেও হয়।

কোনো অপ্রাপ্তি বা আক্ষেপের কারণে মন খারাপ হয়?

আক্ষেপ কিছুই নেই। আমি মনে করি, আমার যতটুকু পাওয়ার ছিল, তার চেয়ে বেশি পেয়েছি। হয়তো আরো দিয়ে যেতে পারতাম। সেটাও আল্লাহর ইচ্ছা।

সারা দিন কী করেন?

আব্বাসউদ্দীন সংগীত একাডেমি আর ‘এসো গান শিখি’ নিয়েই ব্যস্ত। গান রেডি করতে হয়, বাচ্চাদের রেডি করতে হয়। সংসার করি, শরীরের যত্ন নিই।

আপনি সব সময় হাসিখুশি থাকেন। এর রহস্যটা কী?

এটা মানুষের নেচার। জোর করে কেউ অ্যাচিভ করতে পারে না। হাসিখুশি থাকা বা গোমড়া থাকাটা মানুষের মজ্জার মধ্যেই থাকে। ছোটবেলা থেকে এমন পরিবেশের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছি। একটি হ্যাপি ফ্যামিলিতে গিয়ে পড়াটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। আমার আব্বা, মা, ভাই-বোন, আমাদের পুরো পরিবারটাই একটা আনন্দের ফোয়ারা ছিল!

মন্তব্য