kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ভিন আকাশের তারা

অন্য কারো সঙ্গে মেলানো যায় না তাঁর অভিনয়। চুপচাপ ঠ   

১৯ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিন আকাশের তারা

কিছু অভিনেতা আছেন যাঁরা সিনেমার স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা চালান। সেরাটা দিতে মুখিয়ে থাকেন সব সময়। আর কিছু শিল্পী আছেন যাঁদের সঙ্গে তাল মেলাতে সিনেমাটাকেই হিমশিম খেতে হয়, তাঁরা যা করেন তাতেই 'সাধু সাধু'। খুব একটা 'চেষ্টা'ও করতে হয় না তাঁদের। এই দ্বিতীয় কাতারের অভিনয়শিল্পীরা এমনই প্রতিভাধর যে তাঁদের জন্য জুতসই চিত্রনাট্য আর সংলাপ লিখতে অস্বস্তি বোধ করেন লেখকরা। শন পেন দ্বিতীয় কাতারেরই বাসিন্দা। ওই কাতারের আরেকজন রবার্ট ডি নিরো। শন প্রায়ই বলেন, ববির (নিরো) কারণেই নাকি তিনি অভিনেতা হয়েছেন। দুই তারকার মাঝে মিলমিশ বেশ। দুজনের জন্মদিনও এক তারিখে। একসঙ্গে কেকও কাটেন।

এত দিন একটা টাইপে আটকা পড়েছিলেন হয়তো, তবে সম্প্রতি মুক্তি পেতে যাওয়া 'গানম্যান'-এ বুঝিয়ে দিলেন, তিনি লিয়ান নিসনের চেয়ে কম যান না। হঠাৎ লিয়ান নিসন? খানিকটা ব্যাখ্যায় যাওয়া যাক। 'টেকেন' সিরিজ করেই তৈরি করেছেন নিজের একটা ঘরানা। ঠাণ্ডা মাথার খুনি, তবে চরিত্রটা ইতিবাচক। সহিংস দৃশ্য আছে, তবে কোথায় যেন শিল্পের সুতায় সব গাঁথা। সিনেমার ভাষায় যাকে বলে অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি। আর এ ধরনের শৈল্পিক মারামারির ছবিতে আগে দেখা যায়নি শন পেনকে। 'আই অ্যাম স্যাম'-এর মতো বরাবরই ছিলেন 'সরল'। 'ডেড ম্যান ওয়াকিং'-এ খুনি ছিলেন ঠিকই, তবে বন্দুক হাতে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়নি ওতে।

'গানম্যান' নিয়ে তাই শন পেন-ভক্তদের ভেতরে ভেতরে কাজ করছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। তবে সহসা সেটা প্রকাশও করতে পারছেন না অনেকে। কারণ এই শন পেনই যে আজীবন বন্দুক আর গোলাগুলির বিপক্ষে সোচ্চার ছিলেন। গান-ভায়োলেন্স বন্ধ করার সভা-সমিতিতেও তাঁকে দেখা যেত নিয়মিত। এ কারণেই এত দিন ছবিতে পিস্তল হাতে তাঁকে দেখা যায়নি বললেই চলে। আচমকা 'গানম্যান'-এ ধুন্ধুমার অ্যাকশনে কেন জড়ালেন-এ নিয়ে কিছু মহল থেকে তাই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন নিয়ে কি আর মাথা ঘামানোর সময় আছে তাঁর! দুটি অস্কার তো পকেটে পুরেছেন আগেই-'মিস্টিক রিভার' (২০০৩) ও 'মিল্ক' (২০০৮)। এ ছাড়া বাবার কাছে হাতেখড়ি নেওয়ার সুযোগই বা কজন পান। ১৯৭৪ সালে লিও পেনের টিভি সিরিজ 'লিটল হাউস অন দ্য প্রেইরি'তে অভিষেক। ১৯৯৫ সালে 'ডেড ম্যান ওয়াকিং'-এ জগৎজোড়া খ্যাতি। এরপর 'আই অ্যাম স্যাম'-এ হয়ে যান অন্য আকাশের তারা। পরিচালনায়ও লাইনচ্যুত হননি শন। 'ইনটু দ্য ওয়াইল্ড' এখনো দর্শকদের এক লহমায় টেনে নিয়ে যায় হারিয়ে যাওয়ার দেশে।

অভিনেতা হয়ে কেবল ননীর পুতুল হয়ে বসে থাকেননি শন। ভেতরে আছে গোটাকয়েক আগ্নেয়গিরি। রাজনীতি করেছেন। তবে সুবিধা আদায়ের জন্য নয়। সব সময়ই সোচ্চার ছিলেন মার্কিন আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে। জর্জ ডাব্লিউ বুশের ইরাক আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে ইরাকেই ছুটে গিয়েছিলেন। ইরানেও গেছেন। দেখা করেছিলেন ভেনিজুয়েলার প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রধান হুগো শাভেজের সঙ্গেও।

যে পরিচয়টা না দিয়ে পারা যায় না সেটা হলো শন একজন নিখাদ সমাজকর্মী। সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন হারিকেন ক্যাটরিনায় বিধ্বস্ত জনবসতির উদ্ধারকাজে। হাইতির প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের পর কাজ করেছেন আশ্রয় শিবিরগুলোর ম্যানেজার হিসেবে। সমকামীদের অধিকার নিয়েও মুখ খুলেছেন নির্দ্বিধায়। ২০১২ সালে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলে সেখানে গিয়ে কম্বল আর রান্নার সরঞ্জাম বিতরণ করতেও দেখা গেছে তাঁকে।

একজন তারকা, সব দিকেই তারকা। এমনটা যদি বলতে হয়, তবে শন পেনের চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কে হবে! ব্যক্তিত্ব আর আত্মসম্মান বোধটাও তাঁর ইস্পাতসম। আবার একেবারেই যে দাগমুক্ত তা-ও নয়। লোকেশনে তাঁকে কটুবাক্য বলায় এক ফটোগ্রাফারকে মেরে বসেন। শাস্তি হিসেবে ৬০ দিন জেলও খাটেন।

এমন তারকার ব্যক্তিজীবন নিয়ে আসলে খুব একটা হইচই করে না কেউ। তবে শন পেন সেদিক দিয়েও এগিয়ে। ১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন সহশিল্পী এলিজাবেথ ম্যাকগভার্নকে। পরের বছর পপ তারকা ম্যাডোনার সঙ্গে বিয়ে হয়। ১৯৮৯ সালে ফের বিচ্ছেদ। এরপর সম্পর্কে জড়ান রবিন রিটের সঙ্গে। দীর্ঘদিনের সংসারের পর ফের বিচ্ছেদ ২০১০ সালে। ২০১৪ সালের জুন থেকে ৫৫ বছর বয়সী শন পেনকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী শার্লিজ থেরনের সঙ্গে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা