kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ত্রিশ বছর পর

উষা খান্নার পর তাঁর মাধ্যমেই প্রায় তিন দশক পর নারী   

১৯ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ত্রিশ বছর পর

শুটিং শুরুর আগে এক বছর কলকাতায় গবেষণা করেই কাটিয়েছে 'ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী ' টিম। পরিচালক দিবাকর ব্যানার্জি বারবারই বলেছেন, চল্লিশের দশকের কলকাতায় ব্যোমকেশের গল্প আজকের দর্শকের কাছে তুলে ধরতে তাঁর মূল ভরসা ক্যামেরা আর মিউজিক। এমন পরিকল্পনার একটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল স্নেহার ওপর। যশরাজ ফিল্মসের মতো বড় প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে বিগ বাজেটের এই সিনেমার সংগীত পরিচালক তিনি। যাতে তিনি দারুণভাবেই সফল। প্রথমে টিজার, এরপর দুটি ট্রেলার দেখে ছবির সংগীত আলাদা করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে। ২০০৮ সালে এই দিবাকরেরই ছবি 'ওয়ে লাকি! লাকি ওয়ে!' দিয়ে বলিউডযাত্রা শুরু স্নেহার। পরে কাজ করেছেন একই পরিচালকের 'লাভ সেক্স আউর ধোঁকা'তে। তবে ব্যোমকেশ-এর মতো চরিত্র নিয়ে তৈরি সিনেমায় কাজ করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানছেন তিনি, 'দিবাকরের কোনো ছবির সঙ্গে কোনোটার মিল নেই। সে জন্য ওর আগের ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা পরের সিনেমায় কোনো সাহায্য করে না। ব্যোমকেশ অনেক বড় ক্যানভাসের কাজ। প্রচুর পড়াশোনা আর গবেষণার দরকার ছিল। ভাগ্য ভালো যে পরিচালক অনেক কিছু নিজেই করে দিয়েছেন।'

স্নেহার সুর, সংগীত পরিচালনা প্রচলিত বলিউডি গানের চেয়ে আলাদা। তাঁর ভাষায় সেটা 'স্বভাবজাত পাগলামি'। 'আমার প্রথম ছবির গান শুনলেই পাগলামিটা বুঝতে পারবেন। যেভাবে আমি কণ্ঠ, সুর আর লিরিক ব্যবহার করেছি, মূলধারার হিন্দি ছবির চেয়ে তা অনেকটাই আলাদা।' বলছেন স্নেহা।

প্রথম ছবি 'ওয়ে লাকি! লাকি ওয়ে!' এর এই অন্য রকম কাজই চোখে পড়ে আরেক পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের। মাত্র একটি ছবির অভিজ্ঞতা নিয়ে স্নেহা কাজ পেয়ে গেলেন অনুরাগের স্বপ্নের সিনেমা 'গ্যাংস অব ওয়াসিপুর'-এ। 'ওটা অবিশ্বাস্য ঘটনা ছিল। অনুরাগ আমাকে বিহারের ফোক গান নিয়ে অনেক কথা বলল। এরপর কিছু গবেষণাপত্র ধরিয়ে চলে গেল। ততক্ষণে বুঝে গেছি, কী প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আমি দেরি না করে ব্যাগ গুছিয়ে বিহার রওনা হয়েছিলাম। স্থানীয় গায়কদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম, গান জোগাড় করতাম। এভাবেই তৈরি হয়েছিল ও ছবির মিউজিক। অনুরাগও খুব সাহায্য করেছে।' বলছেন তিনি। তাঁর কাছে ছোট্ট ক্যারিয়ার এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি। এ রকম সিনেমার জন্য তিনি এক মিউজিক হাজার বার কম্পোজ করতেও রাজি। এটা ছাড়াও স্নেহার ক্যারিয়ারে বড় অবদান আছে এমটিভির 'সাউন্ড ট্রিপিন'-এর। এই মিউজিক্যাল টিভি শো উপস্থাপনা করতে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন ভারতের নানা জায়গায়। 'সত্যি বলতে এই শো থেকে অনেক কিছু শিখেছি। বেনারস, পাঞ্জাব, কর্নাটক থেকে আসাম, কানপুর কত জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছি। এই অ্যাডভেঞ্চার সংগীত পরিচালক হিসেবে আমাকে পূর্ণতা দিয়েছে।'

এ পর্যন্ত দিবাকর, অনুরাগের মতো অন্য ধারার পরিচালকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও গত বছর 'খুবসুরত' দিয়ে স্নেহা শুরু করেছেন মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিও। তবে সেখানেও 'মা কা ফোন'-এর মতো গান দিয়ে ঠিকই নিজের বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছেন।

সামনে নতুন ছবি 'ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী'র সঙ্গে আবারও এমটিভিতে আসছেন স্নেহা। এবার কোক স্টুডিওর পর্দায়। ফোক, সুফি ঘারানার বেশ কিছু নতুন গানও কম্পোজ করেছেন। এবার তাকে গাইতেও দেখা যেতে পারে।

স্নেহা ফ্যাক্টস

সংগীত পরিচালকরা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র বাজাতে পারদর্শী হলেও স্নেহা ব্যতিক্রম। গিটার থেকে বাঁশি-কোনো যন্ত্রই বাজাতে জানেন না স্নেহা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা