kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

বিশ্বকে দেখে নেয়ার হুমকি মিয়ানমারের উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ২১:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বকে দেখে নেয়ার হুমকি মিয়ানমারের উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের!

রোহিঙ্গা নিধনে অভিযুক্ত মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানানোয় আন্তর্জাতিক মহলকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। গতকাল রবিবার গণহত্যায় অভিযুক্তদের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার সরকারের পক্ষে ও রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় চীন ও রাশিয়ার প্রশংসা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বানচাল করতেই উগ্রবৌদ্ধদের ফের উস্কে দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার।

গেলো বছরের ২৫শে আগস্ট শুরু হওয়া মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৪ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বহু মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সবশেষ গেলো মাসে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশন রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়ী করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করে। সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে অংশীদারদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া কাজ করেছ বলে জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মারিস পেইনে বলেন,  মিয়ানমার বিষয়ক তথ্যানুসন্ধানী মিশনকে অস্ট্রেলিয়া সবধরনের সহায়তা দিচ্ছে। রাখাইনে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী এবং সম্ভাব্য গণহত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমার, আসিয়ান এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছি আমরা।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গা গণহত্যায় অভিযুক্তদের সমর্থনে রোববার মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে সমাবেশ করেছে কয়েক হাজার উগ্রবৌদ্ধ। রোহিঙ্গাদের সমর্থনে পাশে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে অভিযোগ করে, তাদের তীব্র সমালোচনা করে বিক্ষোভকারীরা।

ব্যক্তিগতভাবে শুধু মিয়ানমারের সেনা প্রধানকেই নয়; দেশ রক্ষায় নিয়াজিত সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর সকল সদস্যকেই আমরা সমর্থন করি। অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ ও অনুপ্রবেশের মাধ্যমে আমাদের ঐক্যে বিভেদ এবং সামরকি বাহিনী সম্পর্কে বিদেশি ব্যক্তি বা সংস্থা যারাই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের তীব্র নিন্দা জানাই।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া মুসলিম বিদ্ধেষী হিসেবে পরিচিত উগ্রবৌদ্ধ সন্যাসী আশিন উইরাথুও। রোহিঙ্গাদের স্বার্থ রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের নেয়া পদক্ষেপ রুখে দেয়ায় চীন ও রাশিয়ার প্রশংসা করেন তিনি। এছাড়া, মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে প্রতিহত করারও অঙ্গীকার করেন উগ্রবৌদ্ধপন্থী এ সন্যাসী। 

আশিন উইরাথু (মিয়ানমারের উগ্রবৌদ্ধ সন্যাসী) বলেন,  বাঙ্গালীদের রোহিঙ্গা আখ্যা দিয়ে মিয়ানামারে ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের মিথ্যাচার বন্ধ করা উচিৎ। ভুয়া জাতি তৈরির মাধ্যমে আমাদের দেশকে ধ্বংস করা যাবে না। আর সামরিক বাহিনীর বিচার করতে আইসিসি যেদিন মিয়ানমারে আসবে, সেদিন দেশ রক্ষায় সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সেদিন উইরাথুও অস্ত্র হাতে তুলে নেবে।

সত্যকে আড়াল করতে উগ্র বৌদ্ধদের উস্কে দিয়ে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বানচাল করতে চায় বলে মত বিশ্লেষকদের। রবিবার ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, রাখাইনে এখনো ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। রাখাইনকে বন্দীশালা আখ্যা দিয়ে বলা হয়, সেখানকার অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের বাইরের কারো সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে দেয়া হয় না। স্থানীয়রা চরম আতঙ্ক ও জীবননাশের হুমকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।



সাতদিনের সেরা