kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

Reporterer Diary

করোনাকালের দিনলিপি

প্রাইভেট কারের স্টিয়ারিং ছেড়ে রিকশার হ্যান্ডেল

মেহেদী হাসান   

২৪ জুন, ২০২১ ২১:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাইভেট কারের স্টিয়ারিং ছেড়ে রিকশার হ্যান্ডেল

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় লোকটার রিকশায় চড়েছিলাম কাল। ঘামে ভেজা পুরনো বিবর্ণ একটা পলো শার্ট। রোদে জ্বলা মুখে শেভ না করা দাড়ি। জামালপুর থেকে কিছুদিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন প্রাইভেট কারের চালক হিসেবে চাকরি করার জন্য। গাড়ির মালিক তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলেন। ট্রায়াল হিসেবে গাড়ি চালাতেও দিলেন। কিন্তু আবারও কভিড পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গাড়ির মালিক তাকে বললেন, আরো কিছুদিন দেখবেন। কভিড পরিস্থিতির উন্নতি হলেই সম্ভবত তার চাকরিটা হতে পারে।

এবার চাকরি না পেয়ে লোকটি আর বাড়ি ফিরে যাননি। জীবিকার তাগিদে রিকশা চালানো শুরু করেছেন ঢাকা শহরে। জামালপুরে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের বলেছেন, গাড়ি চালানোর চাকরি ঠিকই পেয়েছেন। তবে বদলির চাকরি। তাই বেতন কম।

ঢাকায় যে তিনি রিকশা চালাচ্ছেন তা তার পরিবার জানে না। বললেন, চুরি তো আর করতে পারি না, এখন ছোট কাজ করছি। জীবনে কোনো দিন রিকশা চালাইনি। করোনার কারণে এখন এই কষ্টের কাজ করতে হচ্ছে। তবুও ভালো আছি।

আলাপকালে জানা গেল, ঢাকায় ছিলেন সেই ছোটকাল থেকেই। ২০১১ সাল থেকে প্রাইভেট কার চালানো শুরু করেন। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতেন। ওই কর্মকর্তা গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো কাজ হারান তিনি।

এরপর কভিডের প্রাক্কালে চাকরি নেন এক প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর। কয়েক মাস ভালোই চলছিল। কিন্তু কভিডে ওই প্রকৌশলীর কাজ কমে যায়। এরপরও ড্রাইভার রাখা হয়েছিল। কিন্তু একপর্যায়ে খরচ বাঁচাতে ড্রাইভার বাদ দেওয়া হয়। আর এতে আবারো চাকরি হারান তিনি।

স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরও চেষ্টা করছিলেন ঢাকায় কোনো কাজ জোগাড়ের। কয়েক মাস বসে থেকে ঢাকায় এসে এখন রিকশা চালাচ্ছেন। আগে প্রাইভেট কার চালানোর সময় প্রতিমাসে বেতন পেতেন ১৭ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিদিন ১০০ টাকা করে মিলত খাওয়ার খরচ হিসেবে। থাকতেন মালিকের গ্যারেজে। মাসে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা তিনি খরচ করতেন পরিবারের পেছনে। আর এখন থাকেন কুড়িল এলাকায় রিকশার গ্যারেজে আরো ৫০ জন রিকশাচালকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, রিকশা গ্যারেজের মেসে খাবারের মান খারাপ। তবুও খরচ বাঁচাতে দিনে দুবেলা খান।

এখন তিনি যে এলাকায় রিকশা চালান তার বাইরে যান না বাড়তি ভাড়া পেলেও। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক বছর ঢাকায় আছি। মালিবাগ, মৌচাকে বন্ধুবান্ধব, পরিচিতরা আছে। সেখানে রিকশা নিয়ে গেলে কারো না কারো চোখে পড়ে যাব। আবার যেদিন গাড়ি চালানোর চাকরি পাব তখন যাব।



সাতদিনের সেরা