kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

Reporterer Diary

নম পেন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি

মাজহারুল ইসলাম   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ১৯:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নম পেন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি

ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা, অতঃপর প্রেম। আর সেই প্রেমের টানেই থেকে যাওয়া। গল্পটা তিন দশক আগের। বাংলাদেশের একজন কম্পিউটার স্থপতির। হুমায়ুন কবিরের। যিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের কম্বোডিয়া আসার পথনির্দেশিকাও!

এমন ছবির মতো সুন্দর সাজানো-গোছানো কোলাহলহীন একটি শহরকে ভালো না বেসে পারাও যায় না। যারা অবাধ-স্বাধীন জীবনযাপন পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটা যেন স্বর্গোদ্যান। বিশ্বের দ্বাদশ বৃহত্তম এবং এশিয়ার সপ্তম বৃহত্ নদী মেকংয়ের তীর ঘেঁষে বেড়ে ওঠা দর্শনীয় শহর নম পেন। আধুনিক নাগরিকদের সব সুযোগ-সুবিধা এখানে বিদ্যমান। রাস্তার পাশে ডাস্টবিনে উপচে পড়া আবর্জনার পাহাড় নেই। দর্শনীয় স্থান এবং পার্কগুলোতে ঝামেলাহীন নির্মল সুন্দর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আপনার জীবনাচারে অনাহূতের হস্তক্ষেপ নেই। তাই বছরজুড়ে গ্রীষ্মের নম পেনে পর্যটকদের ঢল লেগেই থাকে সারা বছর।

বিলাসবহুল সুপার মল কিংবা কম বাজেটের মার্কেটগুলোতে তাই স্থানীয়দের চেয়ে বিদেশিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রক্তচাপও! ভিড় বাড়তে থাকে বার, পাব, ডিসকোতে; দল বেঁধে স্থানীয়দের সঙ্গে অন্য রকম আনন্দে হারিয়ে যান বিদেশিরাও। বার-ডিসকো মাতিয়ে রাখতে তাঁরা দেদার খরচ করছেন ডলার। আর ডলারের প্রবাহে অর্থনীতি আরো গতিশীল হচ্ছে আসিয়ানের সর্বশেষ এই সদস্য দেশটির। এতে অবদান রাখছেন হুমায়ুন কবিরের মতো কিছু বাংলাদেশিও। কবির এখন নম পেনের অন্যতম ওষুধ ব্যবসায়ী। বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট। এই দেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সহজ করার জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন এবং যাচ্ছেন দারুণ অতিথিবত্সল এই বাঙালি।

পরশু বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া ম্যাচে নম পেন অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারি যে এক টুকরো বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল, তার নেপথ্যে এই অতিথিপরায়ণ মানুষটিই। নিজে ১০০টি টিকিট কেটে এবং বাফুফে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সৌজন্য টিকিট নিয়ে কম্বোডিয়ার রাজধানীতে বসবাসরত দুই শতাধিক বাংলাদেশিকে মাঠে এসে প্রিয় দলের খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনিই। ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ বলে পুরো সময়ই  নাবিব নেওয়াজ-মতিন মিয়া-জামাল ভুঁইয়া-রবিউল ইসলামদের উত্সাহ দিয়ে গেছেন প্রবাসী এই বাংলাদেশিরা। নম পেন অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারি তখন যেন ‘এক টুকরো বাংলাদেশ’। 

ম্যাচটি এই প্রবাসীদের কাছে পরিণত হয়েছিল বর্ষবরণের মতো কোনো প্রাণের উৎসবে। প্রথমবার দেশের কোনো দলের খেলা এখানে বসে উপভোগ করার আনন্দই অন্য রকম। সেটা চুটিয়ে উপভোগ করেছেন তারা। গ্যালারিতে কয়েক হাজার দর্শকের মধ্যে সংখ্যায় নগণ্য হলেও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ চিত্কারে তারাই পরিণত হয়ে উঠেছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠে। নিরাশ হয়ে তাঁদের ঘরে ফিরতে হয়নি। বাংলাদেশের বিজয় উত্সব প্রাণভরে উপভোগ করে হাসিমুখেই ঘরে ফিরেছেন তাঁরা। রবিউলের গোলে কম্বোডিয়াকে তাদের মাটিতেই হারানোটা এখানকার বাংলাদেশিদের জন্য ছিল শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্নে নৈতিক বিজয়ও!

হুমায়ুন কবিরের দেখানো পথে এখানে ভাগ্যের চাকা বদলাতে এসেছেন আরো কিছু বাঙালি। সংখ্যাটা যদিও হাজারের কোটা ছোঁয়নি এখনো। তাদের একজন আবুল খায়ের মিয়া। নম পেনে দুটি পোশাক তৈরির কারখানার মালিক তিনি। কারখানার মালিক-শ্রমিক যেমন আছেন, তেমনি আছেন প্রবাসী বাংলাদেশি হোটেল ব্যবসায়ীও। নম পেন পাঁচ তারকা হোটেল লাগোয়া ‘তাসিন’ নামে আছে একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ। তবে চীনা-ভিয়েতনামি-ভারতীয়দের মতো বাংলাদেশিরা নিজেদের একটা বড় জায়গা করে নিতে পারেনি এখনো। এখানে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে এখনো আছে কড়াকড়ি। কম্বোডিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে তাই বিভ্রান্ত না হতে বাংলাদেশিদের অনুরোধ করেছেন নম পেনে অবস্থিত বাংলাদেশি কমিউনিটির সভাপতি। তবে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন কম্বোডিয়াকে বাংলাদেশিদের জন্য বড় শ্রমবাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠার।

মাজহারুল ইসলাম, দৈনিক কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা