kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

Reporterer Diary

চার হাজার বছরের লোলা সুন্দরী

মেহেদী হাসান   

৬ জুন, ২০১৮ ১৫:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার হাজার বছরের লোলা সুন্দরী

‘লোলান বিউটি’-প্রাচীন লোলান কিংডমের কয়েক হাজার বছরের পুরনো এই মমিকে চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনালের (সিআরআই) বাংলা বিভাগের একজন পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ‘লোলা সুন্দরী’ হিসেবে। ২০১৫ সালে আমার প্রথম বার চীন সফরের সময় সিআরআইয়ের ওই চীনা সদস্য সাবলীল বাংলায় লোলা সুন্দরী সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিয়েছিলেন। গত মে মাসে দ্বিতীয়বার চীন সফরের সময় আবারও লোলা সুন্দরীকে দেখার সুযোগ হয়েছে। 

চীনের শিনজিয়াং আঞ্চলিক জাদুঘরে আলো ছড়িয়ে আছে লোলা সুন্দরী। ১৯৮০ সালে এই মমিটি পাওয়া যায় এই অঞ্চলেই। ধারণা করা হয়, প্রাচীন রেশম পথে (সিল্ক রোডে) আবিষ্কৃত এই মমিটি তৈরি করা হয়েছে ৩৮০০ বছরেরও বেশি আগে। অর্থাৎ লোলা সুন্দরীর মৃত্যু হয়েছে তারও আগে। শিনজিয়াংয়ের এই মমিগুলো প্রাচীন মিশরীয় মমিগুলোর চেয়ে আলাদা। প্রাকৃতিক শুষ্কতা এবং লবণাক্ত মাটির কারণে ওই মরদেহগুলো সংরক্ষিত আছে কয়েক হাজার বছর ধরে। লোলা সুন্দরীর মতো আরো প্রায় দুইশ’ মমি পাওয়া গেছে প্রাচীন রেশম পথে। প্রাচীন ওই বাসিন্দারা রেশমপথের আশেপাশেই থাকতো বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। 

লোলা সুন্দরীর নামটিও এসেছে হাজার বছর পরও তাঁর বিদ্যমান সৌন্দর্যের কারণে। চোখে মুখে ছড়িয়ে থাকা জ্যোতির কারণে শিনজিয়াংয়ের জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ লোলা সুন্দরী। তবে পুরনো রেশম পথ এবং শিনজিয়াংয়ের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ওই জাদুঘরে বিভিন্ন নিদর্শনের মাধ্যমে। শিনজিয়াঙের রাজধানী উরুমচি শহরে আরো জাদুঘর থাকলেও দেড় হাজার থেকে চার হাজার বছরের পুরনো ককেশীয় মমি ও বিভিন্ন নিদর্শনের জন্য আঞ্চলিক জাদুঘরটিই বেশি আকর্ষণীয়। 

জাদুঘরটির সংগ্রহে আছে রেশম পণ্য, বিভিন্ন ভাষায় লেখা সামগ্রী। শিনজিয়াঙের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ইতিহাসও ফুটিয়ে তুলেছে এই জাদুঘর। দুই-তিন দশক আগেও শিনজিয়াঙের মমি ও অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসগুলো সম্পর্কে সামান্যই ধারণা ছিল ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের। কিন্তু মমিগুলো তাদের হাজার বছরের ইতিহাস জানার সুযোগ করে দিয়েছে। 

এরপরও ওই অঞ্চলে ককেশীয় কবর ও সেখানে পাওয়া মরদেহগুলো নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে বসবাসরত ব্যক্তিরা তাদেরই বংশধর কি না তাও নিশ্চিত হওয়া যায় না। 

শিনজিয়াঙের পুরনো কবরগুলো থেকে পাওয়া পোশাক, তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী থেকে প্রাচীন রেশম পথের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। জাদুঘরের ডিসপ্লেগুলোতে সেগুলো চমকারভাবে দর্শণার্থীদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া আছে তৎকালীন সময়ের বীর যোদ্ধা ও তাদের যুদ্ধাস্ত্রগুলোর প্রদর্শনী। জাদুঘরের ডিসপ্লেগুলোতে একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে ঘুরতে ঘুরতে ফেরা যায় অতীত থেকে বর্তমানে। 

লেখক : কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা