kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

যে স্বপ্ন দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে প্রবাহিত হতো

শান্তা ইসলাম   

২৫ জুন, ২০২২ ২৩:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে স্বপ্ন দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে প্রবাহিত হতো

ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি পদ্মা এক রাক্ষসী নদী। নিজেও একবার পদ্মার প্রবল স্রোতের গভীর জলরাশিতে হাবুডুবু খেয়েছি, আল্লাহ সহায় না থাকলে হয়তো হারিয়েই যেতাম।  

নানুবাড়ি পদ্মাপাড়ের গ্রাম হওয়ার সুবাদে বহুবার বিচরণ করেছি পদ্মাপাড়ে। কত গ্রাম, কত বসতভিটা বিলীন হয়েছে রাক্ষসী পদ্মার পেটে তার হিসেব করা কঠিন।

বিজ্ঞাপন

রাত ১২টায় ফেরিঘাটে পৌঁছে সকাল ৮টায়ও ফেরি পার হতে না পারার কষ্টটা তারাই বোঝেন যারা এ ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিজেই ভারত সফরের সময় এ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি।  

কতজন কাছের মানুষ ও স্বজন হারিয়েছে শুধু পদ্মা পাড়ি দিতে গিয়ে। ঢাকায় পৌঁছাতে হবে মুমূর্ষু স্বজনকে নিয়ে, তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর পূর্বেই চিরবিদায় নিতে হয়েছে ফেরিতে কিংবা ঘাটে।  

পদ্মা সেতু নিয়ে কেন পদ্মার ওপারের মানুষ এতো উচ্ছ্বসিত? কেন এতো বেশি আবেগাপ্লুত? এর হাজারটা কারণ রয়েছে। খুব সাধারণ- খেটে খাওয়া মানুষেরা হয়তো জানেন না, এই নদীতে প্রতি সেকেন্ডে ১,৪০,০০০ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয়। কিংবা এই ঘনমিটার ব্যাপারটাই বা কী! আমাজনের পরে সবচেয়ে খরস্রোত নদী কোনটি! পদ্মার কত কিলোমিটার তলদেশে শক্ত পাথর? কিংবা এটি তৈরিতে আসলেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাইলিং হ্যামার বানাতে হয়েছে কি না? 

এসব তথ্য হয়তো তারা জানেন না, বোঝেন না। সত্য-মিথ্যার ধারও ধারেন না। এতোসব জটিল গাণিতিক হিসেব নিকেষ বোঝা তাদের জন্য ভীষণ ভার! 

যা সহজ, তা হলো - এ নদীতে কখনো সেতু হতে পারে, এই ভাবনাটাই তারা বিশ্বাস করতে পারতেন না। অবিশ্বাস্য মনে হতো। হয়তো দশকের পর দশক ধরে তাদের ওই এক আক্ষেপ, ওই এক দীর্ঘশ্বাস, 'ইশ, কোনোদিন যদি একটা পদ্মা বিরিজ হইতো!’ 

হয়তো তারা জানতেন, এ সম্ভব নয়। কিংবা ভাবতেন, তা অনিশ্চিত। তারপরও ওই স্বপ্নটা দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে প্রবাহিত হতোই।  

প্রমত্তা পদ্মাকে কে না জানে? কে শোনেনি পদ্মার পরিচয় 'সর্বনাশা পদ্মা' অভিধার কথা? এই পদ্মার সর্বনাশা রূপ নিয়ে অসংখ্য গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র , জীবনাখ্যানের কথা? 

পদ্মা সর্বনাশা, পদ্মা দানবীয়, উন্মত্ত।  
এ তো মিথ্যে নয়!

সেই পদ্মায় সত্যি সত্যি ব্রিজ হবে?
এ এক স্বপ্নের মতো ব্যাপার। কিংবা তারচেয়েও বেশি এই সেতু নিয়ে অনেক কথা, ভালো লাগা, ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস। সঙ্গে সমালোচনাও। থাকুক। জগতে কোন কাজটিই বা অসমালোচিত? কোনোকিছু না।  

তারপরও পদ্মার ওপারের ওই লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখে যে আলো জ্বেলে দিল এই সেতু, সেই আলোর বিচ্ছুরণ কে ঠেকাবে? কীভাবে ঠেকাবে?

এ এক স্বপ্নযাত্রার সারথি। ধন্যবাদ বাংলাদেশের মানুষ, এই প্রাপ্তি আমার, আপনার, আমাদের সবার। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই অসাধারণ প্রতিজ্ঞা ও প্রচেষ্টাটি আপনার।

এই সেতু স্বপ্নের চেয়েও বেশি। স্বপ্নের চেয়েও বড়। অভিনন্দন বাংলাদেশ!

লেখক: শিক্ষার্থী, ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা