kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রম্য

টাকা ধার দিয়ে যে পরিণতি হলো আমার

মাহতাব হোসেন    

৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১৩:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টাকা ধার দিয়ে যে পরিণতি হলো আমার

তখন আমি মৌচাক থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে হেঁটে আসছিলাম। দুপুরের রোদ। ঢাকার দুপুরের রোদ, শীত ছাড়া ভয়ঙ্কর খারাপ। এই রোদের নিচেই জনৈক 'পরিচিত' বা 'বন্ধু' ফোন দিয়া বললেন তার ৩ হাজার টাকা লাগবে।

বিজ্ঞাপন

খুবই জরুরি। তো আমার পকেটে পাঁচশো টাকার ওপরে কখনোই থাকে না। আশেপাশে চেয়ে দেখলাম আমার হিসাবধারী ব্যাংকের কোনো বুথ নাই।
 
অন্য একটা বুথ থেকে দ্রুত ৩ হাজার টাকা তুলে সাথে ওই জনকে বিকাশ করলাম। এইটা উপকার। সে যথারীতি দেড়মাস পরে টাকাটা ফেরত দিল। শুধু এই উপকার এইখানে শেষ হইলে হয়তো আমি লিখতাম না। লিখতেছি অন্য কারণে।
 
আমি ৩  হাজার টাকা পাঠাতে বিকাশে ৬০ টাকা খরচসহ পাঠাইছি। সে তার হাতে নগদে ৩ হাজার টাকা পাইছে। ফেরত দেওয়ার সময় সে নগদে ৩ হাজার বিকাশ করছে। আমি টাকাটা উঠানোর সময়  ৬০ টাকা কমে উঠাইলাম।   সে কম দেয় নাই। সে যত পাইছে ততই দিছে। কিন্তু টাকাটা যাওয়া আসার যে ৬০+৬০=১২০ টাকা খরচ সেইটা আমাকে বহন করতে হইলো।   
 
আবার অন্য এটিএম থেকে ১৫ টাকা খরচ করে টাকাটা উঠাইতে ১৫ টাকা চার্জ লাগছে। তারমানে একজনকে টাকা ধার দিয়ে উপকার করতে গিয়ে আমার খরচ ১৩৫ টাকা।
 
এইখানেই শেষ হইতে পারতো ঘটনা, কিন্তু হয় নাই কারণ ওই জনৈক 'পরিচিত'র সাথে পরেরদিন দুর্ভাগ্যক্রমে দেখা হয়ে গেল। আমাকে দেখেই তার মুখ ফ্লুরোসেন্ট বাতির মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে বলে 'কিরে এতোগুলা টাকা দিলাম, পকেট তো গরম এখন, কিছু খাওয়াবি না?'
 
আমি তখন ভাষা হারিয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।


সাতদিনের সেরা