kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনা-একটা দায়

খায়রুল বাশার তরফদার   

৫ জুন, ২০২০ ১৮:৩৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনা-একটা দায়

ভয়!  আর কতো ভয় দেখাবে করোনা, আর কতো ?

মাসের পর মাস ধরে বিশ্বজুড়ে চালাচ্ছ তাণ্ডবলীলা মহাপ্রলয়ের মতো ; 
আক্রান্তের ভয়, মৃত্যুর ভয়, কোন চিকিৎসা না পাওয়ার ভয়, চাকরি হারানোর ভয়, মহামারীর ভয়,  
উৎপাদন বন্ধ, লুটপাট, দুর্ভিক্ষ, বিশৃঙ্খলা, মৃত্যুর পরও সৎকারের শেষ সম্মান  যদি না পাওয়া হয়, 
শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, শাসননীতি পঙ্গু করার ভয়, কোন মায়াবি স্পর্শেরও ভয়, 
আরও অনেক জানা-অজানা আশঙ্কার সংকটের ভয়, সবকিছুতেই ভয় পাওয়ার লয়ের ভয়।   
কতো, আর কতো ভয় দেখাবে মানুষে?  
ভয় পেতে পেতে আমি ক্লান্ত,  শিশুদের  স্তব্ধতার চিৎকার শুনে আমি ক্লান্ত, 
বিশ্রামের ভারে আমি ক্লান্ত, ভার্চুয়াল জীবনাচরণে আমি ক্লান্ত, লকডাঊণ নামক স্থবিরতায়  আমি ক্লান্ত, 
জীবনের বিনিময়ে অন্যদের চিকিৎসার সুযোগের দাবির মিছিল দেখে আমি ক্লান্ত,
ঝুকি দেখে ঝুকি নেওয়া  সেবাদানকারীদের মৃত্যু  দেখেও আমি ক্লান্ত ।

আর কতো ক্লান্ত করবে আমায়?
আমার চারদিক বন্ধ হয়ে আসছে, তোমার ভয়ে সব সোনা কালো হয়ে যাচ্ছে, সব আলো অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।
আমি আর পারছিনা করোনা, তোমার ভয় সহ্য করতে পারছিনা, তুমি তো একটা  অবৈধ অনুপ্রবেশকারী । 
ভিনদেশী করোনা তুমি তো এসেছিলে  চোরাপথে, বন্দরের অব্যাবস্থাপনার সুযোগে,  
বিদেশাগতদের ঔদ্ধত্যতা আর দায়িত্বশীলদের অমানবিক মানবিকতার সুযোগে । 

অনেক অপেক্ষা করেছি, নিরব থেকেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি, 
কতো অমানবিক নির্মমতা, মানবিক ব্যাকুলতা প্রত্যক্ষ করেছি,
 কতো  প্রতারণার  অভয়বাণীর প্যানাছিয়া বিনামূল্যে সেবন করেছি।   
আর সেই সুযোগে করোনা তোমার পাখা গজিয়েছে  দেশজুড়ে,  বিশ্বব্যাপী  ! 

তুমি কি ভেবেছ ? তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করব?  মেনে নেব পরাজয় ? 
করোনা, তুমি কি জানো না বাঙ্গালী বীরের জাতি, ত্যাগের জাতি, বাঙ্গালীর রক্ত ভাঙ্গার কিন্তু মচকাবার নয়? 
আমি রক্ত-মাংসে একজন বাঙ্গালী, আমরা বঙ্গবন্ধুর সন্তান, ফাঁসির মঞ্চেও আমরা দৃঢ় থাকি, আমাকে আবার ভয় দেখাও? 
তুমি অনেক ধ্বংস লীলা দেখিয়েছ, আমরাও দেখেছি, চিনেছি তোমায়, জেনেছি তোমার ক্ষমতা,
তুমি একটা লম্পট, চরিত্রহীন, বকধার্মিক, ভিতু ভাইরাস, একটা খলনায়ক, বারবার রুপের পরিবর্তন কর।
যেমনটা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, গুপ্তঘাতকেরা   করে । 
মানুষ আর তোমাকে ভয় পায়না, পাত্তাই দেয়না, জীবিকার ঘূর্ণিচক্রে তুমি এখন একটা গারবেজ । 
আমিও তোমার ভয়  ছুড়ে ফেললাম , ছোট্ট একটা চ্যালেঞ্জ নিলাম, চ্যালেঞ্জ - এক বিন্ধু শৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ ।
আমি তোমাকে মোকাবিলা করবোনা, আমাকে নিয়ন্ত্রণ করবো, মেলে ধরবো, কিভাবে তাই ভাবছ?  
আমার ঝুকি আমিই নিব,  শিষ্টাচারে পথ চলবো । 
আমরা সবাই মনে করি আমি ছাড়া পৃথিবীর সবার মাঝেই তুমি আছো।  
তুমি যেথায় বিচরণ কর, যেথায় আবার  করনা  আমি আর তা নিয়ে ভাবি না
আমি শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখি, সব শিষ্টাচার মানি জাত বেজাত কিছুই পুজিনা ।
পেটে আমার ক্ষুধা, দরিদ্রতা আমার জীবনসঙ্গী , অভাব অনটন  আমার অলংকার, দুর্যোগ  আমার আজন্ম পাপ, 
মৃত্যু আমার ঘুমের মত প্রশান্তি- ঝড় বৃষ্টির মত নিয়তি,  আর সংগ্রাম  সে তো বাঙ্গালীর উত্তরাধিকার ।
শক্তি আমার মনোবল,  ইচ্ছা আমার  কর্ম , দায়িত্ব আমার ধর্ম । 
মানবতা আমার পোশাক, শৃঙ্খলা আমার অভ্যাস , সততা আমার পুঁজি, বাঙ্গালীর একতা আমাদের বর্ম  ।
কোথায় দাঁড়াবে তুমি, কোথায় বাসা বাঁধবে এই মানিয়ে নেয়া সংগ্রামী  সোনার বাংলায় ?
রোধ, ঝড় বৃষ্টির তাপে,  মাস্ক-সানিটাইজার-সাবান –শৃঙ্খলা  আর সচেতনতার  চাপে 
তোমাকে বর্জন আর ঘৃণার মাপে  সমূলে ধ্বংস ছাড়া কি কোন  বিকল্প তোমার থাকে ! 

আমি লজ্জিত মানুষের এভাবে ভয় পাওয়া দেখে, দ্রব্য সামগ্রী মজুদ করার দৃশ্য দেখে, মিথ্যে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখে,  
একই বাক্তির বারবার ত্রান নেওয়ার লোভ দেখে, অনেক যোগ্য লোকের ত্রাণের জন্য হাহাকার দেখে, 
আমি লজ্জিত নেতার দেশে নেতৃত্বের সমন্বয় হীনতা আর সব শ্রেণী -পেশার নেতৃস্থানীয় মানুষদের গর্তে লুকিয়ে থাকা দেখে ; 
অপ্রয়োজনীয় সাহায্য চাওয়া দেখে আবার মুখ ফুটে ত্রাণ সাহায্যের কথা বলতে না পারার কষ্ট দেখে আমি লজ্জিত, 
আক্রান্ত সন্দেহে মা-বাবা-ভাই –বোন কে রাস্তায় ফেলে যাওয়া দেখে আমি লজ্জিত ।

আমি আর ত্রান সাহায্য চাইনা, আমি আমার পুরানো কাজে ফিরতে চাই,
হঠাৎ কর্মহীন হওয়া মানুষগুলোকে জীবিকার সাহায্যপ্রার্থীর কাতারে দেখতে চাইনা । 
আমি আমার ব্যাস্ততা ফেরত চাই, শারীরিক দূরত্ব মানতে আইনের নির্মম প্রয়োগ চাই,
হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে  স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে অরাজকতায়  মৃত্যুর দায় কার- জানতে চাই,
কোন  মহৎ শক্তিতে বলিয়ান হাসপাতালগুলো কভিড প্রত্যয়ন ছাড়া রোগী গ্রহন করছেনা আমি জানতে চাই ?
আমি আমার মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ চাই, সবার অধিকার কি তা সবাই জানে এই নিশ্চয়তা চাই ।
আমি একটা সময় নির্দিষ্ট করে দিতে চাই-কভিড এর উপসর্গসহ আত্ম সন্দেহভাজন  সব ব্যক্তির স্বঘোষণা  চাই,  
এর পরে এই চক্রের বাইরে কোনও ব্যক্তি কভিড -১৯ এ আক্রান্ত হলে তার তাৎক্ষনিক বিচারে নিশ্চিত শাস্তি চাই ;
কারণ- 
সে কোন বিধি, শিষ্টাচার মানেনি তাই সে অপরাধী ।    
সে তার নিজের, পরিবারের, সমাজের, দেশের সর্বোপরি মানবতার শত্রু ।  
মহামারি করোনায় এমন অমানবিক সাময়িক সিদ্ধান্তই হতে পারে সবচেয়ে মহৎ, সবচেয়ে মানবিক । 

সেনপাড়া  পর্বতা, ঢাকা  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা