kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনায় বিশ্বায়ন, বাংলাদেশ এবং বিশ্ব পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ করণীয়

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ    

২১ মে, ২০২০ ১৫:৩৯ | পড়া যাবে ১৯ মিনিটে



করোনায় বিশ্বায়ন, বাংলাদেশ এবং বিশ্ব পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ করণীয়

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী, উহান শহর থেকে (NOVEL CORONA VIRUS) সঙ্কেতে “এনকোভ-১৯, (nCov-19) বা সার্স-কোভ-২, (SARS-Cov-2)” নামক ভাইরাসের উৎপত্তি হয় অক্টোবর-২০১৯, এর শেষ ভাগে, এরপর আস্তে আস্তে তিন মাসে পৃথিবীর ২১৩ টি দেশে এবং অত্র অঞ্চলে বীরদর্পে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসটি এবং বিখ্যাত জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এর মতে, এখন পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি লোক আক্রান্ত হয়ে, ৩ লাখের বেশি মানুষ, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন পর্যন্ত মারা গেছে । 

এর উৎপত্তিস্থল নিয়ে পশ্চিমাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, কেউ বলছে উহান শহরে, যে বাজারে বন্যপ্রাণী কেনাবেচা হয় সেখানে হতে এর উৎপত্তি, আবার কেউ বলছেন চীন সরকারের অসুস্থ চিন্তা থেকে এর সৃষ্টি, অর্থাৎ এটি একটি ল্যাব ভাইরাস। যাইহোক আমি এই বিতর্কে যাচ্ছি না। অল্প সময়ের মধ্যে এই ভাইরাসটি আমাদের দেশেও হানা দিয়েছে, বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ( আইইডিসিআর) এর ভাষ্যমতে, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে, আক্রান্ত ২০ হাজারের উপরে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩০০ শর বেশি । যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এই মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছে।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে অদৃশ্য ভাইরাস শব্দটি খুবই পরিচিত। প্রতিবছর দেশের সিংহভাগ মানুষ বিভিন্ন ভাইরাস জনিত অসুখে ভোগেন এবং যা অতি সামান্য চিকিৎসাতেই নিরাময়যোগ্য। কোভিড-১৯, কেউ আমরা খুবই স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারতাম। কিন্তু ঝামেলা বাঁধাল উন্নত বিশ্ব, বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও), তারা এটিকে বৈষয়িক মহামারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রতিবছর উন্নয়নশীল দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঁজা, নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ, এমন কি রোড এক্সিডেন্টে যে, পরিমাণে লোক মারা যায়, যা কিনা কোভিড-১৯, এর মৃত্যু হারের চেয়ে অনেক বেশি। এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বুয়েট) এর মতে, প্রতিমাসে গড়ে ৯০০ উপরে মানুষ, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়, যেখানে কোভিড-১৯, দ্বারা গত দুই মাসে মারা গেছে ৩০০ এর সামান্য বেশি। সুতরাং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে আমাদের ভেতরে একটি পরিবর্তনের আশার সঞ্চার করে, অন্ততপক্ষে বর্তমানে বাংলাদেশের  ১৭ কোটি মানুষ একটি ভাইরাস এবং তার সক্ষমতা সম্পর্কে উপযুক্ত ধারণা পেল। আমি যেহেতু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নই, সুতরাং আমি উপরিউক্ত আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করবো না। নিম্মে আমি করোনা ভাইরাস, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করছি।

এনকোভ-১৯, বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভাইরাস অতীতেও পৃথিবীতে এসেছিল। ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু মহামারী, (সংক্ষেপে- H1N1) নামে এক ধরনের ভাইরাস টানা দুই বছর, পৃথিবীতে বিরাজ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। কত লোক মারা গিয়েছিল তা সঠিক করে বলা অসম্ভব, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন হতে জানা যায়, প্রায় ৫০ মিলিয়ন লোক মারা মারা গিয়ে, ৫০০ মিলিয়নের মতো আক্রান্ত হয়েছিল। বিভিন্ন গবেষণা হতে এটা প্রতীয়মান হয় যে, প্রথমদিকে এই ভাইরাস সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল অজানা, ফলে এর প্রাদুর্ভাব হয় ব্যাপক। সে সময় মৃত্যুর সাথে সাথে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এই ভাইরাসের ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। সেসময় বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিনিয়োগের বিপরীতে পুঁজি ফেরতের হার ছিল ঋণাত্মক, ফলে দারিদ্র বেড়ে গিয়েছিল। । ইহার উপরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাহিদা কমে গিয়ে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে পড়েছিল সীমিত, যেটা আমরা আপাততঃ কভিড-১৯, বিশ্ব অর্থনীতিতে দেখতে পাচ্ছি। আমার পরামর্শ হলো, স্প্যানিশ ফ্লু হতে শিক্ষা  নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা স্থির করা। 

ব্লুমবার্গ ২৭ এপ্রিল, ২০২০ এক গবেষণায় দেখিয়েছে বিনিয়োগকারীরা এই মর্মে আশঙ্কা করছে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ফলে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাপক হারে নষ্ট হবে। যা কোনো সরকারি, এর নেতিবাচক প্রভাব সামাল দিতে পারবে না। রিসার্চ প্রতিষ্ঠানটি গবেষণায় আরো দেখিয়েছে, বিশ্ব তৈল বাজার ২০০৮ সালের পরে সব চেয়ে কমে গেছে। কোভিড-১৯, এর প্রভাবে, বৈষয়িক শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত আছে, লকডাউন এর কারণে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, উহার প্রভাবে শ্রমবাজারে লোকজনের  চাকরি ছাটাই শুরু হয়ে গিয়েছে, ফলে লোকজন নতুন কাজ খোঁজা শুরু করেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দিয়েছে আরো ভয়ঙ্কর তথ্য, তাদের মতে বিশ্ব অর্থনীতি, চলতি বছরে ৩ শতাংশ হ্রাস পাবে, ফলে বৈশ্বিক, ১৯৩০ সালের সমভাবে মহামন্দার দেখা দিবে, খরচ কমানো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য মানুষ টেকনোলজি ব্যবহার বাড়িয়ে দিবে; সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে এয়ারলাইন্স, হোটেল, হসপিটাল, ট্রান্সপোর্টেশন, ডিস্ট্রিবিউশন এন্ড রিটেল ইত্যাদি ব্যবসা। ইতি মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে পরাক্রম শক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ কোটি লোক চাকরি হারিয়েছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বেকার শ্রমিক এবং প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বিল পাস করেছে, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এটি যৎসামান্য হবে, বিশ্ব অর্থনীতির ধর সামাল দিতে। 

বৈশ্বিক অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশও পড়তে শুরু করেছে। গত বেশ কিছু বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং উপর্যপরি ম্যাজিক ফিগার, ৮ শতাংশ এর আশেপাশে গ্রোথ অর্জন করে চলেছে, এর ফলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থান মূলত এই বিষয়গুলো, দুইটি কারণ কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রথমত রেমিটেন্স এবং দ্বিতীয়ত তৈরি পোশাক শিল্প, যদিও তৈরি পোশাক শিল্পে ১৭০ মিলিয়ন মানুষের অভ্যন্তরাভিমুখে বিশাল একটি বাজার রয়েছে এবং এই বাজারে চাহিদাও ব্যাপক, আতঙ্কের বিষয় হল, কোভিড -১৯, মহামারীর নেতিবাচক দিকগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। বিশ্বের ৩০ টি দেশ হতে বাংলাদেশী প্রবাসীরা, গত অর্থবছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে, যেটি বাংলাদেশের অর্থনীতির শিকড় আরো মজবুত করে চলেছে এবং রেমিটেন্স ছিল গত অর্থবছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। কিন্তু শঙ্কার বিষয় হল চলতি অর্থবছরের রেমিটেন্স প্রবাহ, ২০২০, গত বছরের তুলনায় ৩.১৪ শতাংশ কমে, ১.৬৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে (বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট মার্চ, ২০২০)। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, অধিকন্তু বাংলাদেশের লকডাউন অবস্থার কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় অনুরূপভাবে ভোগে, ব্যাপক হারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিষয়টি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি আতঙ্কের বিষয়। ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক খাতেও কোভিড -১৯, এর প্রভাবে আক্রান্ত। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর হিসেব মতে, (মার্চ, ২০২০) প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর লকডাউন অবস্থা থাকার কারণে, এক তৈরি পোশাক খাতে, প্রায় ৩০০ কোটি ডলার মূল্যমানের, যা বাংলাদেশী টাকায় (প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এই ধরনের বাণিজ্য যদি আগামী ছয় মাস চলতে থাকে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদী, নতুন কর্মসংস্থান তো হবেই না, বরং চাকরীচ্যুত হবে বিভিন্ন পেশার লক্ষ লক্ষ মানুষ। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর হিসেব মতে, শুধু পোশাক খাতে বর্তমান অর্থবছর শেষে ৮,৯৪,৯৩০ জন লোক চাকরি হারাবে। 

লকডাউন এর প্রভাবে আমাদের দেশে মাঝারি  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সকল ব্যবসায়ীদের জিডিপিতে কন্ট্রিবিউশন প্রায় ২২ শতাংশ, যেখানে পোশাকশিল্পের কন্ট্রিবিউশন ১২ শতাংশের মতো। ফাস্ট মভিং কন্সুমের গুডস এই ধরনের পণ্য ছাড়া, রিটেল বিজনেস, হোটেল বিজনেস, পর্যটন ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা মোটামুটি বন্ধের উপক্রম, এসকল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় চার কোটি লোক প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জব লেস এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরপর যারা দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করত তারাও আসলে কর্মহীন। অন্যদিকে এক হিসাবে দেখা গেছে, এই রমজানে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা হতো, যা মোটামুটি বন্ধের উপক্রম। যদিও সরকার কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং কিছু কিছু তৈরি পোশাক কারখানা এবং রিটেল ব্যবসা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে ভবিষ্যৎ বলে দিবে, কোভিড-১৯, এর পরবর্তীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ সকল সিদ্ধান্তের কতটুকু কার্যকারিতা রয়েছে।

সর্বগ্রাসী অনির্ণেয় করোনাভাইরাস এর ছোবলে স্থবির পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রাইমারি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পাঠ দান বিশেষ করে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে মাত্রায় অসহনীয় বিপর্যয় মোকাবেলা করছে তার মাশুল গুনতে হবে পুরো জাতিকেই। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী এই মুহূর্তে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত ১৭ই মার্চ, ২০২০ হতে কার্যত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সেপ্টেম্বর, ২০২০ এর আগে, এ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াই সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমার কিছু আলোচনা থাকবে।

সেশনজট বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি পুরনো ভাইরাস, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে নিঃসন্দেহে এই সেশনজট আরও দীর্ঘায়িত করবে। ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে, অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা কিনা টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ মিটায় এবং অধিকন্তু প্রয়োজনে কিছু উদ্বৃত্ত টাকা তাদের পরিবারকে অত্যাবশ্যক সহযোগিতা করার জন্য পাঠায়, সেই রাস্তা করোনা পরিস্থিতিতে আপাতত পুরোপুরি বন্ধ। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে মিলিয়ন শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা তাদের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে, কর্মজীবনে ঢোকার জন্য অপেক্ষা করছে বা করতে যাচ্ছে, বিশেষ করে অপরিহার্য সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষা করছে, অনেকে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ পেয়েছে, কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে। মোটকথা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হয়েছে।

এখন আলোচনা করব পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের করণীয় প্রসঙ্গে। এই সম্পর্কে বলতে গেলে, স্টিফেন আর. কোভি, লিখিত সেভেন হ্যাবিটস অফ হাইলি এফেক্টিভ পিপল- যে বইটি কিনা ২৫ মিলিয়নের বেশি কপি পৃথিবীব্যাপী বিক্রি হয়েছে, তিনি বলেছেন সাবকনশাস মাইন্ড দিয়ে আমরা আমাদের হেবিট গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। স্টিফেন এছাড়াও বলতে চেয়েছেন, যে বিষয়গুলো উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নাই অর্থাৎ, সেই বিষয়গুলোকে তিনি সার্কেল অফ কন্সার্ন বলে আখ্যায়িত করেছেন, তিনি আরো বলেছেন এই বিষয়গুলোর উপর এনার্জি প্রয়োগ না করে যে বিষয়ের উপরে আমাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে অর্থাৎ সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স সেখানে এনার্জি প্রয়োগ করতে। এর ফলস্বরূপ, আমাদের দক্ষতা এবং কার্যকারিতা বাড়ার সাথে সাথে, কর্মে সফলতা আসবে। একটু সহজ করে বলি, যেমন করোনা পরিস্থিতির পরবর্তীতে যে ধরনের বিশ্ব পরিবেশ আমাদেরকে ফেস করতে হবে আমাদের সেই বিষয়গুলো উপরেই মনোনিবেশ করা উচিত, যেটিকে স্টিফেন সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ যেটার উপরে আমরা এনার্জি প্রয়োগ করে, আমরা আমাদের কর্মে সফলতা অর্জন করতে পারি, সত্যি কথা সেই সকল বিষয়ে আমাদের মনোনিবেশ করা উচিত। 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ২০১৩ সালে এক আলোচনায় বর্তমান বিশ্বকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এর সাথে তুলনা করেছে। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল পর্যায়ে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে । উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে বর্তমানে আমরা যা লক্ষ্য করছি। তারা এও বলেছেন আগামী ১০ বছরে বর্তমানে যে ধরনের চাকরি রয়েছে, তার ৯০ শতাংশ থাকবে না। একটি উদাহরণ দিলে আপনাদের বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে; আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি চালকবিহীন গাড়ি উন্নত বিশ্ব সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল শুরু করেছে। ধরুন এটা যদি পৃথিবীব্যাপী শুরু হয়ে যায়, তাহলে একটু ভেবে দেখেছেন, বর্তমানে কতো চালক তাদের চাকরি হারাবে, সাথে সাথে ড্রাইভিং অটোমেশনের কারণে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা কমে যাবে, দুর্ঘটনা কমে গেলে বীমা ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা হারাবে, ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজন হবে না এবং দুর্ঘটনা কম হওয়ার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সহ, ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা হারাবেন। একটা সেক্টরে অটোমেশনের কারণে এর প্রভাব পড়বে জ্যামিতিক হারে এবং লক্ষ লক্ষ লোক তাদের চাকরি হারাবেন। একইভাবে আগামী ১০ বছরে অটোমেশনের কারণে বাংলাদেশের শ্রমিক বিদেশে, অনেকাংশে আর প্রয়োজন হবে না এবং বাংলাদেশের গার্মেন্টসেও এত শ্রমিকের প্রয়োজন হবে না। সাথে ডিগ্রী ইনফ্লেশন তো রয়েছেই। ভবিষ্যৎ পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হবে এবং সেই পরিস্থিতিতে কর্মী ছাঁটাই হবে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, উপুর্যপুরী বর্তমানের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরও বেগবান করবে।

বিষয়গুলো সামনে নিয়ে টারশিয়ারি লেভেলের শিক্ষার্থীরা আসলে কতটুকু প্রস্তুত? তবে বিশেষজ্ঞরা এও বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন কিছু কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এটা ঠিক কিন্তু সেই চাকরি গুলো হবে দক্ষতা বিচারে। ডিজিটাল বিজনেস এক্সপার্টরা আরো বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব অপরিহায্র্যরূপে ব্যবসা-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার হবে। অর্থাৎ বর্তমান বিশ্ব ডাটা সাইন্স এর যুগে ঢুকে যাবে। আমি ক্লাউস সোয়াব এর “শপিং দি ফিউচার অফ দি ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলুশন” বইটি পড়ার মধ্য দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস, বিগ ডাটা এনালাইসিস, ক্র্যাপ্তকাররেন্সি, মেশিন লার্নিং, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্ট, ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট, সাইবার ইন্টেলিজেন্স, সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রতিটি চাকরির জন্য স্কিল হিসেবে বিবেচিত হবে, সাথে সাথে প্রচলিত প্রফেশনাল সারভাইভ করার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে। 

বড় বড় কর্পোরেট হাউজ অলরেডি বলতে শুরু করেছে, প্রতিষ্ঠানে যিনি ডাটা সায়েন্স জানে তিনি প্রতিষ্ঠানে সিইও থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এও বলতে শুরু করেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে জব ডিসপ্লেসমেন্ট হয়ে নতুন স্কিল জন্ম নিবে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষ চাকরি হারাবে ঠিক কিন্তু মানুষের ইফিসিয়েন্সি বাড়বে, এই বাস্তবতা আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে আমার একটি বহুজাতিক কম্পানিতে “মিডলেভেল ম্যানেজার” হিসেবে বেশ কিছুদিন কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। সে সময় আমি দেখেছি ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম কনসেপ্টেটির ব্যাপক ব্যবহারে, করোনা পরিস্থিতি আমাকে সেই নস্টালজিক স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। বহুজাতিক কম্পানির উচ্চ ব্যবস্থাপকদের ধারণা এমপ্লয়ীদের ৩০ শতাংশ ইফিসিয়েন্সি বাড়ে যদি তারা বাসায় বসে কাজ করে।

অন্যভাবে বলা যায়, করোনা আমাদেরকে পরিবর্তিত বিশ্বের কিছু জিনিস, অভ্যাসের বাইরে বাধ্যতামূলক পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। ডিজিটাল সার্চ ইঞ্জিন গুগল এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দেখা গেছে, করোনার ভিতরে মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা ডিজিটাল টুলস বেশি ব্যবহার করছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং অ্যাপ ভিত্তিক সার্ভিস এর মাধ্যমে টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং বিভিন্ন সেবার বিল ঘরে বসে পরিশোধ, ডিজিটালি ক্লাস পরিচালনা করা, ইত্যাদি বিষয় বেড়ে গেছে। যেটাকে আমরা অন্য ভাবে বলতে পারি ডিজিটাল ট্রানসফর্মেশন। 

ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য, আমার প্রাণের শিক্ষার্থীদের আমার পরামর্শ হলো সিস্টেমের দোষ দিয়ে লাভ নাই, এতে শুধু সময়ই নষ্ট হবে, যেমনঃ আমরা প্রায়ই বলতে থাকি সরকার করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ, ভার্সিটি বেসিক ফ্যাসিলিটি দিতে ব্যর্থ, ইউনিভার্সিটিতে ইন্টারনেট ফ্যাসালিটি নাই, আমি গ্রামে বাস করি, আমার ইন্টারনেট খুব স্লো, আমার কম্পিউটার নাই, আমি গরিবের সন্তান, ইত্যাদি বলতে বলতে আপনাদের সময় কিন্তু ঠিকই চলে যাবে, যেটিকে স্টিফেন কোভি, সার্কেল অফ কন্সার্ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পৃথিবীর বেশিরভাগ সফল ব্যক্তি একটা সময় গাছের নিচে, হলের বারান্দায়, কিংবা মসজিদে পড়াশোনা করে কর্মজীবনে সাফল্যের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন, এই বিষয়ে আমি আপনাদেরকে হাজারো এক্সাম্পল দিতে পারব। বুদ্ধিমান শিক্ষার্থীদের কাজ হলো, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের কাজটি সঠিকভাবে করা, অর্থাৎ প্রতিনিয়ত স্কিল গুলো ডেভলপ করা। ট্রু সেন্সে, এই বন্ধ টাকে আশীর্বাদ মনে করে পুরো সময়টা কাজে লাগাতে হবে, নিজে চেষ্টা করতে হবে এবং শিখতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আরও একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রিসোর্স ব্যবহারে কোন জিওগ্রাফিক্যাল বাউন্ডারি থাকবে না, সুতরাং সব জায়গা থেকে রিসোর্স নিয়ে, নিজে পড়তে হবে এবং শিখতে হবে।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, চাকরির বাজার যেহেতু ছোট হয়ে আসছে সুতরাং এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্টুডেন্টরা নিজেদেরকে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কতটুকু প্রস্তুত? প্রায় দুই দশক প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি বলতে পারি, আমাদের শিক্ষার্থীদের যৎসামান্যই প্রস্তুতি রয়েছে। এ বিষয়ে আমার পরামর্শ হলো: শিক্ষার্থীদেরকে এখন থেকেই বিশ্বায়নের সাথে সাথে, নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। নতুন স্কিল রপ্ত করতে হবে এবং পুরনো স্কিল ঝালিয়ে নিতে হবে, কিছু আন্তর্জাতিক ভাষা নিঃসন্দেহে অভ্যস্ত করতে হবে, অনলাইনে এই বিষয়গুলোর উপরে অনেক ধরনের কোর্স রয়েছে, এছাড়া নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপরে আমরা বিশেষ ধারণা নিতে পারি, যেমন: ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স, সার্ভে ট্র্যাকার, ওয়েবসাইট টেস্টিং, ব্লগার, কর্পোরেট ইংলিশ ট্রেনিং, বেসিক কম্পিউটার স্কিলস ইত্যাদি, বিষয়গুলোর উপরে আমরা নলেজ ডেভলপ করতে পারি অথবা আমাদের স্কিল গুলো ব্রাশ আপ করতে পারি, বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিলে, দেখবেন আপনি যুগের সাথে সাথে নিজেকে সহজেই মানিয়ে নিয়েছে।  

প্রফেশনাল লাইফে সারভাইভ করার জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময় হার্ড স্কিল এর প্রয়োজন হবে ২০ শতাংশ, যা আমরা পুঁথিগত পঠন পাঠন থেকে সহজেই অর্জন করতে পারি । আর বাকি ৮০ শতাংশ প্রয়োজন হবে, সফট স্কিল বা পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট প্রফেশনালিজম (পিডিপি) যা অর্জনের মধ্য দিয়ে আপনার প্রফেশনাল লাইফ কে, আপনি সহজেই নিয়ে যেতে পারেন উচ্চ স্তরে। অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সফট স্কিল এর ভিডিও দেওয়া আছে, যেখান থেকে আমরা বিষয়গুলোর উপরে সহজেই  ধারনা পেতে পারি এবং এই বন্ধের মধ্যে আমরা স্কিল গুলো ডেভলপ করতে পারি, বা জানা স্কিল গুলো কে ঝালাই করে নিতে পারে। উগান্ডার রাজধানীর নাম মুখস্ত করে চাকরি পাওয়ার দিন শেষ হয়ে আসছে! অধিকন্তু এই ডিগ্রী ইনফ্লেশনের যুগে অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তির চাকরি বা ব্যবসার অভাব হবে না। এই লকডাউন এর সময় আমি দেখেছি আমার শিক্ষার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করে অনেকে মিলিয়ন ডলার আয় করছে, আবার অনেকে ফেসবুকের পাতায় শত ঘন্টা সময় নষ্ট করে করোনা ভাইরাস নির্মূলে ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে। মূলকথা স্কিল ছাড়া ভবিষ্যতে কোন চাকরির সুযোগ থাকবে না, সুতরাং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এখন থেকে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। 

অনলি এ গুড এডুকেশন ক্যান চেঞ্জ ইওর লাইফ। প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে নিজেকে, পরিবারকে, সর্বোপরি দেশকে ভালবাসতে হবে। যে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমি আপনি কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল তথা দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি, অবশ্যই আপনাকে কিছুটা এর দায় পরিশোধ করতে হবে। একসময় সক্রেটিসকে প্লেটো জিজ্ঞাসা করেছিল, সর্বোচ্চ দেশপ্রেম কি? উত্তরে তিনি বলেছিলেন সবচেয়ে সুন্দর ভাবে নিজের কাজটি করা। সুতরাং পার্সোনাল ডেভলপমেন্ট ছাড়া কোনভাবেই নিজেকে উচ্চ স্তরে নেওয়া সম্ভব হবে না। সাফল্যের কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নাই, ইতিহাস বলে, সকল সফল ব্যক্তির জীবনী একই ভাষায় লেখা।   

মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি বিল গেটস এর আত্মজীবনী থেকে একটি ঘটনা বলে আমি আমার আজকের আলোচনা শেষ করছি। তিনি বলেন, আমি যখন হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলাম তখন একটি পরীক্ষায় আমি কয়েকটি বিষয়ে ফেল করেছিলাম। সেই পরীক্ষায় আমার যে বন্ধু ফার্স্ট হয়েছিল তিনি এখন মাইক্রোসফট হেড অফিসে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। আমি কাউকেই ছোট করছি না, হয়তো একাডেমিক সফলতা আমার ছিল কম কিন্তু আমি প্রচুর পড়াশোনা করতাম। তোমরা যদি আমার বাড়ি যাও, অফিসে যাও সবখানেই দেখবে প্রচুর বই, আমি যখন ট্রাভেল করি তখন সঙ্গে রাখি বই, আমি প্রচুর বই পড়ি, বই আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, কর্মে সফলতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত বিদ্যার তেমন প্রয়োজন নেই, ব্যক্তি পারে জাতিকে পরিবর্তন করতে, সভ্যতার আলো দেখাতে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হবে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এছাড়া বিশ্বে আমরা আরো দেখতে পাই নেলসন ম্যান্ডেলা, মহাত্মা গান্ধী, রবি ঠাকুর, নজরুল, স্টিভ জবস, বিল গেটস, এর পাশাপাশি আরো অনেকেই, তারা দেখিয়েছেন লিডারশিপ স্কিল দ্বারা কিভাবে মানুষকে, জাতিকে তথাপি সভ্যতাকে পরিবর্তন করতে হয়। 

সর্বশেষে আমি বলব ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, সভ্যতার বিভিন্ন সময় করোনা ভাইরাস সদৃশ অনেক ভাইরাস আমাদের এই পৃথিবীতে এসেছে, আবার সেটি এক সময় চলেও গিয়েছে, করোনাভাইরাস আমাদেরকে শিখিয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যক্তিগত সর্তকতা, সুস্থতা, হাইজিন জীবন-যাপন, যার যার ধর্ম অনুসারে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ, এই বিষয়গুলো এখন বাস্তবতা। বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ঢুকে গেছে, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস, এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আমরা কতটুকু নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি এবং নিজেদেরকে উন্নতি করছি এটাই এখন মুখ্য বিষয়। আশা করি আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহন করতে পারব।

শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার চূড়ান্ত পরামর্শ হলো, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ মেনে চলুন, ঘরে থাকুন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, বিষোদগার কিংবা ঘৃণা-বিদ্বেষ না ছড়িয়ে বরং করোনা মোকাবেলায় যারা ফ্রন্টলাইনে আছেন তাদেরকে সমর্থন করুন, সহায়তা করুন। সর্বোপরি আপনার সুস্থতা আপনার কাছেই, তাই নিজে বাঁচুন, পরিবার ও প্রতিবেশীকে বাঁচান, পাশাপাশি এই বন্ধটাকে কাজে লাগান, নতুন নতুন স্কিল শিখুন, কিংবা পুরনো স্কিল গুলোকে ঝালিয়ে নিন। আমি বিশ্বাস করি সুদিন আর বেশি দূরে নয়, করোনার বিরুদ্ধে মানুষের জয় হবেই ইনশাআল্লাহ, এই শুভ কামনায়, সবাইকে ধন্যবাদ।  


আব্দুল্লাহ আল মাসুদ 
সহকারি অধ্যাপক
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা