kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

কাঁচামাল আমদানিতে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর এখনই সময়

মো. আব্দুল কাদের খান    

১৯ এপ্রিল, ২০২০ ১২:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাঁচামাল আমদানিতে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর এখনই সময়

প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাস বাংলাদেশের দুর্বল জায়গাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। আমাদের পোশাক খাত কতটা আমদানি নির্ভর, চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল। আমাদের পোশাক শিল্পের এখনই সময় কাঁচামাল আমদানিতে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা। নিজের দেশে সকল ধরনের পোশাক খাতের কাঁচামাল উৎপাদনের ব্যবস্থা করা। অবশ্য এজন্য উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের উচিত, এই বিষয়ে বিশদ গবেষণা করে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করা। একই সঙ্গে আর্থিক সহযোগিতা করা।

সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের মতো স্বল্প আয়তনের দেশে শিল্প নির্মাণের জন্য জমি পাওয়া এবং সেই জমি অধিগ্রহণ করা খুবই জটিল প্রক্রিয়া। সেখানে শিল্প উদ্যোক্তাদের জমি দিতে পারে বেজা। আমি মনে করি, করোনা প্রভাবে পোশাক শিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে, কিছুটা সময় লাগলেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। কারণ, চীনের উহান শহরে করোনার উৎপত্তি এবং তথ্য গোপন নিয়ে সারা বিশ্বে যে বিতর্ক চলছে, তাতে আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ চাইবে পর্যায়ক্রমে চীনা বাজার থেকে বের হয়ে আসতে। এতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো কিছুটা হলেও এই বাজার ধরতে সক্ষম হবে। 

কোভিড-১৯ মহামারির অন্যতম প্রতিক্রিয়া হলো গতিশীলতাকে স্তদ্ধ করা। অর্থাৎ ভাইরাস এখন পুরো পৃথিবীর প্রতিদ্বন্ধী। আমি মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো করোনভাইরাসও আংশিকভাবে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোতে সমস্যা হয়ে থাকবে। অর্থনীতির এই শ্লথগতি কমপক্ষে দুই বছর থাকবে। আর পরোক্ষভাবে কত বছর চলবে যা এখনও মন্তব্য করা খুবই কঠিন। সামনের দিনগুলোতে করোনাভাইরাস প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেবে। এখন থেকে এক বছর কিংবা পাঁচ বছর পর কে কোথায় থাকবে তা এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল। চাকুরির কি হবে। কর্মী ছাঁটাই কেমন হবে। আমার চাকরির কি হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত, যারা কেমিক্যাল ব্যবসা, লিফট, জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের চাকুরির ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। 

করোনাভাইরাস সামাজিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে যে খারাপ দিকে ধাবিত করেছে এ নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে সামাজিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতি কোন দিকে ধাবিত হবে তা কেউ বলতে পারবে না। আমি আশা করি আমরা এই সংকট সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় কাটিয়ে উঠত সক্ষম হবো। এ সংকটকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালো এবং আরও মানবিক কিছু করতে সক্ষম হবো। তবে এটা মনে রাখতে হবে আমরা আরও খারাপ দিকে ধাবিত হতে পারি। 

বিশ্বজুড়ে লকডাউন (অবরুদ্ধ) বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতিকে মহা সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা একটি মন্দার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় পরামর্শ  দেওয়া হয়েছে যে, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্টের উচিত হবে, লকডাউন খুলে দেওয়া। কারণ, যুক্তরাষ্টকে ২০২০ সালের পরে বিশ্ব অর্থনীতির শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে হলে তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে হবে। 

অন্যথায়  বিশ্ব অর্থনীতির শ্রেষ্ঠত্ব চীনের দখলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সবার আগে প্রয়োজন মানুষের জীবন বাঁচানো। তারপর শ্রেষ্ঠত্ব। একইভাবে আমি মনে করি, বাংলাদেশের উচিৎ আগে করোনা ঝুঁকি যতদ্রুত সম্ভব কমিয়ে নিয়া আসা। একইসঙ্গে কৃষি অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া। দেশে কিছুতেই যাতে খাদ্য সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া। কয়েক লাখ রেমিটেন্স যোদ্ধা দেশে ফিরে এসেছে। আরো প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসলে করণীয় বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

লেখক : উন্নয়নকর্মী ও পরামর্শক বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)

 

মতামত লেখকের নিজস্ব, কর্তৃপক্ষের নয়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা