kalerkantho

দশ বছরের বড় বোন আমাকে নিয়ে ভিক্ষা করেছিল!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ১৬:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দশ বছরের বড় বোন আমাকে নিয়ে ভিক্ষা করেছিল!

প্রতীকী ছবি

আমি তখন ৫/৬ বছর, প্রথম শ্রেণিতে পড়ি। বাবা মিথ্যা হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি হয়ে কারাগারে থাকাতে মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতো কিন্তু সেটা দিয়ে ২/৩ বেলা খাবার আর বাসা ভাড়া জুটলেও, জুটতো না আমার ৫০ টাকা প্রাইভেট আর স্কুলের বেতন, তাই আমার বড় বোন (১০ বছর) আমাকে সাথে নিয়ে ভিক্ষা করে মা কে সাপোর্ট দিয়েছিল। 

এভাবেই সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে ২০১৬ সালে শেষ হলো মার্কেটিং এ আমার মাস্টার্স পরীক্ষা। শুরু হলো চাকরি পাওয়ার আর এক যুদ্ধ, সরকারি জব করার ইচ্ছে কখনোই ছিলো না, থাকবেই বা কেন? যার মা-বাবা টাকার অভাবে খেয়ে না খেয়ে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে সন্তানকে ভালো রাখার জন্য তিনি তো আর শুধু চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম গার্মেন্টসে জব করে একদিন বড় ব্যাবসায়ী হব। 

তাই বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্চেন্ডাইজিংয়ের উপর একটি কোর্স শেষ করে চাকরির সন্ধানে বের হলাম কিন্তু কপাল এখানেও খারাপ কোন লোক না থাকাতে একজন ফ্রেশ গ্রাজুয়েট কে কেউ চাকরি দিচ্ছে না। 

২০১৬-১৮ দুই বছর চেষ্টা করে কোন চাকরি পাইনি, এদিকে মা অসুস্থ আর বাবা বৃদ্ধ, আয়ের কোন উৎস নেই বললেই চলে। ঢাকায় আমি পেটে ভাতে ছোট্ট একটি জব করতাম ওটাও চলে গেল। ম্যাসের তিন মাসের ভাড়া আর খাওয়ার টাকা বাকি হয়ে গেলো। কোন উপায় না মেয়ে বায়িং হাউজের এক ডিরেক্টর কে ফোন দিয়ে দেখা করতে চাইলাম, বলল আসো। 

টাকার অভাবে উত্তরা থেকে মিরপুর ডিওএইচ এ হেটে গেলাম কিন্তু আমার ঘর্মাক্ত আর জীর্ণশীর্ণ চেহারা দেখে ডিরেক্টর হেল্প তো করেনি খুব অপমান করে দিল। এরপর সাথে একটি সিভি নিয়ে বের হলাম গার্মেন্টসের দ্বারে দ্বারে শুধুমাত্র একটি শ্রমিক হিসেবে ঢোকার জন্য, ফ্রেশ বিধায় তাও হচ্ছে না। অনেক চেষ্টার পরে জানুয়ারি, ২০১৮ সালে শ্রমিক হিসেবে ৬৪৪৫ টাকা বেতনে জব হয়ে গেল। 

শুরু হলো আর এক অনুভূতির অধ্যায় সহকর্মীদের অপমান আর বিদ্রুপ এবং বসের বকাঝকা রীতিমতো পাগলপ্রায় তবুও চালিয়ে গিয়েছিলাম, হাল ছাড়িনি কারণ আমি আমাকে ভাল করেই চিনি। নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাস ছিল বলেই কাজ করেছি আর ফাঁকে ফাঁকে নিজের সেল্ফ ডেভেলপমেন্ট করেছি এবং মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই প্রমোশন নিয়ে আরও ৬ মাস, সর্বোমোট ১ বছর ফ্যাক্টরি তে জব করে জানুয়ারি ২০১৯ এ বায়িং হাউজ এ কিউসি হিসেবে ২৫০০০ টাকা বেতনে যোগ দিয়েছিলাম পাশাপাশি SAILBOAT নামের নিজের একটি ফ্যাশন ব্রান্ড শুরু করেছি। 

২০১৮-১৯ এক বছর জব করে এখন সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক একটি কোম্পানি যা কি না ইউরোপের বড় একটি বায়ার আমাকে ৮৫০০০ টাকা বেতনে অফার করেছে। আমার অফিসে আলাপ করেছিলাম উনারা মেনে নিয়েছেন এই মাসে রিজাইন দিয়ে দিলাম এবং ফেব্রুয়ারি তে আমাকে চায়না নিয়ে যাচ্ছে ট্রেনিংয়ের জন্য, আলহামদুলিল্লাহ এভাবেই চলবে ...

-তরিক আওয়াল

 

পাঠককণ্ঠ বিভাগের লেখার মতামত একান্তই লেখকের নিজস্ব। কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষের নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা