kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

মুসলিম উম্মাহ, ইসলামিক সম্মেলন ২০১৯ ও বার্টার ব্যবস্থা

তারিক শিমুল   

১২ জানুয়ারি, ২০২০ ১৭:০৯ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



মুসলিম উম্মাহ, ইসলামিক সম্মেলন ২০১৯ ও বার্টার ব্যবস্থা

অশীতিপর বৃদ্ধ ৯৪ বছর বয়সী ড. মাহাথির মোহাম্মদ জীবন সায়াহ্ণে এসে ভেবে দেখলেন সারাবিশ্বে মুসলিমদের যেভাবে জীবনহানি হচ্ছে, যেভাবে ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে তাতে তিনি মরেও শান্তি পাবেন না। তিনি মুসলিম বিশ্বের সবাইকে নিয়ে একটি সম্মেলনের ডাক দিলেন। ৫৭টি মুসলিম দেশের মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ যোগদান করেছে। সৌদি আরবের হুমকির মুখে মুসলিম বিশ্বের নতুন কাণ্ডারি ইমরান খান ব্যাকফুটে চলে যান। তিনদিনব্যাপী আলোচনা পশ্চিমা মিডিয়ারও নজর এড়ায়নি। সম্মেলনের ফলাফল যাই হোক সৌদি নেতৃত্বাধীন ওআইসিকে একটি ধাক্কা দিতে পেরেছে এই সম্মেলন। ট্রাম্প ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের চাপে অতিষ্ঠ ইরান, তুরস্ক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থার কাণ্ডারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাইন্যন্সিয়াল সিস্টেমকে বাইপাস করার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সবাইকে। ড. মাহাথির মোহাম্মদ মধ্যযুগীয় বার্টার ব্যবস্থার শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম উম্মাহকে।  

২০১৮ সালে বৈশ্বিক মোট উৎপাদন ছিল ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলারের যার মধ্যে শুধু মার্কিনদেরই রয়েছে ২০ ট্রিলিয়নের বাজার, এরপরেই রয়েছে চাইনিজদের অবস্থান যাদের উৎপাদন প্রায় ১৪ ট্রিলিয়নের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চায়নার এই বিশাল উৎপাদনের একটি বড় অংশই আবার ম্যানুফেকচারিং খাত থেকে আসে যার জন্য প্রয়োজন টেকসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনবল। ২০১৮ সালের এই বৈশ্বিক উৎপাদনের মাত্র ৮ শতাংশ রয়েছে সকল মুসলিম দেশগুলো মিলিয়ে। ওআইসির ৫৭টি মুসলিম দেশের মোট ১৭০ কোটি মানুষের উৎপাদন মাত্র ৭ ট্রিলিয়ন। এই ক্ষুদ্র অর্থনীতির একটি বড় অংশই আবার মাত্র ৫-৭টি দেশের। ইন্দোনেশিয়ার মোট উৎপাদন ১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে কিছুটা বেশি, এরপরেই রয়েছে সৌদির অবস্থান ৭৮৭ বিলিয়ন ডলারের। বিশ্ব অর্থনীতিতে এত ক্ষুদ্র অবস্থান নিয়ে নিজের অধিকার, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিয়ে টিকে থাকা নিঃসন্দেহে দুঃসাধ্য বিষয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি প্রভাবক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। যদিও বহুদশক ধরে প্রকৃত গণতন্ত্র বিকাশের ফলে মার্কিন কোন প্রেসিডেন্ট চাইলেই  রাতারাতি পলিসি পরিবর্তন করে ফেলতে পারতেন না। কিন্তু আপাদমস্তক নৈতিকতা বিবর্জিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সকল মার্কিন রীতিনীতি রাতারাতি ছুঁড়ে ফেলে দেন। তিনি জার্মানি এবং সকল পরাশক্তির সাথে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিকে এক খোঁচায় বাতিল করে দেন। চায়নার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে চাপে ফেলেন। মধ্যপ্রাচ্যের তেল লুণ্ঠন ও ইরানের প্রভাব কমানোর মূলো ঝুলিয়ে সৌদি অর্থনীতি গ্রাস করতে থাকেন অস্ত্র কিনতে বাধ্য করে। উদীয়মান অর্থনীতি তুরস্ককে চাপে ফেলতে অবরোধের দিকে পা বাড়িয়েছেন। এই সকল কিছুর পেছনে আবার রয়েছে আরব রাষ্ট্রগুলো বেষ্টিত ইসরাইলের হাত। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ক্ষমতার ভিত্তি অনেকাংশে ইহুদি ব্যবসায়ী ও ইসরাইলের উপর নির্ভর করে। যে কারণে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিটি মার্কিন নেতাই প্রথম বিদেশ সফর ইসরাইল  দিয়ে শুরু করেন, এ এক বিশাল আনুগত্য ক্ষমতার মসনদ মসৃণ করার। ছোট্ট ইসরাইল রাষ্ট্রটির চারপাশে রয়েছে বৈরী আরব দেশগুলো। ক্রমশ সামরিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে থাকা ইরান, তুরস্ক তাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। এই সকল উপাদানগুলো পূর্বেও ছিল কিন্তু মার্কিন ইতিহাসের চরম অদক্ষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাহেবকে টিকে থাকার সংগ্রামে ইসরাইলের পলিসির কাছে মাথানত করতে হচ্ছে আর ফলশ্রুতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হচ্ছে বিশ্ববাণিজ্যকে চাপে ফেলতে। এই চাপের মূল লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে মুসলিম বিশ্ব এবং চীন। বাণিজ্যিক এই আগ্রাসী নীতির সাথে মুসলিম বিশ্বের আরেক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসলামোফোবিয়া। ইসলামোফোবিয়ার কারণে পশ্চিমা অনেক মানবিক নেতৃত্ব ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যেতে পারছেনা যাদের রয়েছে নির্যাতিত মুসলিম জাতিগুলোর প্রতি সহানুভূতি। যেমন মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন সাম্প্রতিক নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। তার নির্বাচন ম্যানিফেস্টোতে সৌদিতে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা, প্যালেস্টাইনিদের উপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে ইসরাইলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাও ছিল। যার ফলে ইহুদিরা ব্রিটিশ নির্বাচনে কলকাঠি নেড়েছেন যাতে করবিন ক্ষমতায় আসতে না পারেন। 

বিশ্ব বাণিজ্যে অধিকার নিয়ে টিকে থাকার আরেক নিয়ামক সামরিক শক্তি, যা মধ্যযুগ থেকে আজ আবধি একই ছকে বিন্যস্ত অর্থাৎ জোর যার মুল্লুক তার। অটোমানদের সূর্য অস্ত যাবার পর আর কোন মুসলিম দেশই সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকে উৎকর্ষ লাভ করতে পারেনি। ড. মাহাথিরের ভাষায় এর মূলে রয়েছে রেনেসাঁর সময় ভোগ বিলাসে মত্ত থাকা সুলতান, বাদশাহ, সম্রাটদের অদূরদর্শিতা এবং মুসলিম সমাজের জ্ঞান বিজ্ঞানে অনগ্রসরতা। মুসলিম সমাজে পীর মাওলানাদের নারীশিক্ষা, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনীহা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামিও মুসলিমদের পিছিয়ে পড়ার জন্য দায়ী। বিংশ শতাব্দীর প্রায় পুরোটাই বিশ্ব মুসলিম সমাজ ছিল ঘুমন্ত অবস্থায়। প্যালেস্টাইনিদের ইসরাইলি হামলা থেকে রক্ষা, কাশ্মীরের মুসলিম নারী পুরুষদের নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ঈমাম সাহেবের ফরিয়াদ শুনে বড় হয়েছেন গত শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে বেড়ে উঠা বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়। 

১৯৭৯ সালে ইরানে শাহের পতনের পরেই পশ্চিমা আক্রমণ ঠেকাতে সামরিকভাবে সক্ষমতা বাড়াতে থাকে ইরান। ন্যাটোতে তুরস্ককে সদস্যপদ না দেয়ায় তুরস্ককেও সামরিক প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হয়। ভারতের সাথে বৈরীতার জেরে পাকিস্তানকেও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে মনোযোগ দিতে হয়। সৌদি আরবও জানিয়েছে ইরানকে যদি পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেয়া হয় তারাও বসে থাকবেনা। যদিও ইরান আর সৌদি আরবের বাস্তবতা ভিন্ন কারণ সৌদি বাদশাহরা বহুবছর ধরেই ইসরাইলি-আমেরিকান আফিম খেয়ে ভুলে বসে আছে বাস্তবতা। সৌদিকে নিরাপত্তা দেয়ার অজুহাতে প্রতিনিয়ত সেখানে নতুন নতুন ঘাঁটি ঘেড়ে বসছে আমেরিকান সৈন্যরা, যার পেছনে  রয়েছে ইসরাইলিরা।

সৌদি মসনদের ড্রাইভিং সিটে যিনি বসে আছেন তিনি মূলত বাদশাহ সালমানের ছেলে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যার টিকে থাকা নির্ভর করে আমেরিকা ও ইসরাইলের উপর। সালমানের জন্য রয়েছে আমেরিকার অফুরন্ত ভালোবাসা, আর তাই বাদশাহ ও তার ছেলে কখনোই প্যালেস্টাইনিদের উপর ইসরাইলি আক্রমণের সমালোচনা করার সাহস দেখাননা।ওআইসির নেতৃত্বও রয়েছে সৌদিআরব আর আরব আমিরাতের হাতে। ফলে বাদশাহ সালমান ক্ষমতায় আসার পরে বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে ওআইসিকে কখনো প্রতিবাদী হতে দেখা যায়নি। উলটো আমেরিকাকে খুশী করতে প্রতিনিয়ত তাদের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনছেন বাপ ছেলে।

শতকের পর শতক ধরে চলমান শিয়া-সুন্নী বিরোধও মুসলিমদের আজকের পরিণতির জন্য কম দায়ী নয়। ক্রমবর্ধমান ইরানের প্রভাব ঠেকাতে সৌদিকে ধারস্থ হতে হয়েছে ঈঙ্গ-মার্কিন জোটের উপর। এর পুরো ইস্তেমাল করতে কোন কার্পণ্যই করছেনা আমেরিকানরা। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবাননকে অস্থিতিশীল করতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা রয়েছে তাদের। মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করা মানেই অস্ত্রের বেচাবিক্রি আর অস্ত্র মানেই শুধু আমেরিকান অস্ত্র। অবশ্য এই মওকায় রাশিয়াও হাত বাড়িয়েছে সিরিয়ায় নাক গলিয়ে। ইরানের বুদ্ধিতে পুতিনের হস্তক্ষেপে এই যাত্রায় সিরিয়ায় বাশারের কর্তৃত্ব সুসংহত হলেও ব্যবসা করতে ছাড়ছেনা সোভিয়েটরা।

এস-৪০০ মিসাইলের কদর বেড়েই চলেছে মধ্যপ্রাচ্যে। অর্থাৎ মুসলিম দেশগুলো যে নিজের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা তার অন্যতম একটি কারণ সামরিক দুর্বলতা। আর তাই কুয়ালালামপুর সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি বলেছেন জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর না হলে কোনভাবে টিকে থাকতে পারবেনা মুসলিম উম্মাহ। তিনি তার দেশের উপর আরোপিত গত ৪০ চল্লিশ বছরের অবরোধের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সামরিক, প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কারণেই তারা আজও টিকে আছেন আমেরিকান চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে। একই সুরে কথা বলেছেন, মুসলিমদের অধিকার নিয়ে সরব তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে এই মুহূর্তে যত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তার ৯৪ ভাগ মুসলিম। এরদোগান অবশ্য অটোমান সাম্রাজ্যের স্মৃতি আওড়িয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। অটোমান সাম্রাজ্যের প্রাক্তন অধিক্ষেত্রগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে চলেছেন সাংস্কৃতিক যোগসূত্র তৈরি করে। তুরস্কের টাকায় এইতো সেদিন আলবেনিয়ায় বিশাল এক মসজিদ তৈরি করে দিয়েছেন অটোমানদের মসজিদগুলোর আদলে। 

জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার এবং বিকাশ হয়তো রাতারাতি হবে না, আবার এ যুগের ব্যবসা বাণিজ্য মধ্যযুগীয় কায়দায়ও বিকাশ লাভ করবেনা। বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে পশ্চিমাদের প্রবর্তিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর বিশ্বের নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদ যার কেউই ৫৭টি মুসলিম দেশের ১৭০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেননা। মুসলিম নির্যাতনে চোখ বুঝে রেখে, পশ্চিমাদের সুরে সুরে কথা না বলার খেসারত হিসেবে বাণিজ্যিক অবরোধের কবলে পড়া বিশ্বমুসলিম সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের উদ্যোগ নিয়েছেন। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তু্রস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এর মিলিত সম্মতিতে এই কুয়ালালামপুর সম্মেলনের আয়োজন করেন ড. মাহাথির। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক হুমকির মুখে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে অংশ নিতে পারেনি সত্য, তবে নিশ্চিতভাবেই এটি সৌদির জন্য ভালোবাসা নিংড়ানো আনুগত্য নয়। তুরস্ক, ইরান, কাতার এবং মালয়েশিয়া স্বর্ণকে ভিত্তি (hedge) ধরে বার্টার (barter) ব্যবস্থায় নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য করার চিন্তাভাবনা করছেন। এই ব্যবস্থায় পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম সুইফট (society for worldwide interbank financial telecommunication) কে উপেক্ষা করে বাণিজ্য করা যেতে পারে। যদিও এটি আদতে খুব বেশী কার্যকর হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান রয়েছে কারণ ভোক্তার বড় বাজার রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোতে। এছাড়া এই ৪টি দেশের আমদানি রপ্তানি সর্বসাকুল্যে মোট ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মতো যা একেবারেই নগণ্য। এই মুসলিম দেশগুলোর অর্থনীতি আবার নির্ভর করে আমেরিকা ও ইউরোপিয়ানদের বাজারের উপর ভিত্তি করে। এত কিছু বিবেচনায় মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া এই সম্মেলনকে এড়িয়ে গেছেন অসুস্থতার দোহাই দিয়ে। 

এই সম্মেলন নিঃসন্দেহে মুসলিম এবং পশ্চিমা বিশ্বে একটি নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা দেখিয়েছে, ওআইসির ভূমিকাকে চ্যালেঞ্জ করেছে কিন্তু শুধুমাত্র ধর্মের উপর ভিত্তি করেই যদি অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হতো তবে ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপিয়ানদের মধ্যে এত বিবাদ হতো না, আবার ইউরোপের সাথেই আমেরিকারও বিবাদ হওয়ার কথা না। শুধু মাত্র জ্ঞান বিজ্ঞানের বিকাশ, সংকীর্ণতা পরিহার, ধর্ম ও  মতের স্বাধীনতা প্রদানের মাধ্যমেই মানব সমাজের মঙ্গল সম্ভব যার চমৎকার উদাহরণ ছিল আমেরিকা ইসরাইলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত।

- তারিক শিমুল, সিনিয়র সহকারী সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

 

পাঠককণ্ঠ বিভাগের লেখার মতামত একান্ত লেখকের নিজস্ব; কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ'র নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা