kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমার বন্ধু মণি

শরিফ আহম্মেদ   

৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমার বন্ধু মণি

আমরা সবাই দালালের খপ্পরে পড়ে ৪ বছর আগে প্রফেশনাল ভিসায় মালয়েশিয়া এসেছিলাম। এজেন্টের সাথে চুক্তি ছিলো, প্রোফেশনাল ভিসা হবে ২ বছরের।  কিন্তু এখানে আসার পর আমরা ১ বছরের ভিসা পাই। আসলে পুরাটাই ছিলো এজেন্টের প্রতারণা।

এক বছর পর এ দেশের ইমিগ্রেশন হতে বার্তা আসে যে প্রফেশনাল ভিসা মেয়াদ আর বাড়াবে না। আমাদের সকলের কপালে চিন্তার ভাঁজ, কেননা ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে এসেছি।  এক বছর হয়েছে। প্রচুর দেনা বাকি, কিভাবে কি করবো। আমাদের সবার কাজ বন্ধ হয়ে গেলো ভিসার অভাবে। তখন এদেশের সরকার 3p নিয়মে বৈধ হওয়ার  সুযোগ দিল।

এই সুযোগে বিভিন্ন দালাল কুচক্রী মাথাচড়া দিয়ে উঠলো। ওদের টার্গেট হলো অসহায় বাঙ্গালী। ফিঙ্গার করানো ও বৈধ ভিসা দেওয়ার কথা বলে সবার কাছ হতে টাকা নিলো ৫ হাজার রিঙ্গিত করে (১,০০,০০০) টাকা। এরপর দুই বছর পার হলো টাকা নিয়ে ভিসা দেয় না। এদিকে আমার বন্ধৃ মণি ভিসার অভাবে কাজকর্ম না পেয়ে ,  পার্টটাইম হিসাবে এক রেস্টুরেন্টে  কাজ শুরু করে।

কাজ ভালই চলছিলো। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। একদিন ইমিগ্রেশন পুলিশ দোকানে রেট দিলো এবং মণি ধরা খেলো। যেহেতু সে চুরি কিংবা খারাপ কোন কাজে জড়ায়নি তাই তাকে বেত্রাঘাত করা হয়নি- এখানে চুরি কিংবা খারাপ কাজে ধরা খেলে ৬০টি 'রতান' দেওয়া হয!  যাই হোক তাকে ধরার পর  পুলিশ থানায় নিয়ে প্রথমে সবার সামনে তার সকল জামা খুলে ফেলে। একেবারে উলঙ্গ অবস্থায় ৫০ বার কান ধরে উঠা বসা করানো হলো! এটা যতদিন জেলে থাকবে প্রতিদিন চলবে।

এখানে জেলে দেওয়া হয় শুধু একটা জাইঙ্গা, আর কোন কাপড় থাকে না। ছোট্ট একটা সেলে, যেখানে ২০ জন লোক রাখা যাবে সেখানে ৪০/৪৫ জন রাখে। মাথার উপরে ১০০ ডিগ্রি হেলোজিন বাতি, যা দিনরাত জ্বলে, রাতে ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়। একই সেলের ভেতর টয়লেট থাকে, সব খোলা, সকলের সামনে বসেই টয়লেট করতে হয়। আর খাবার সকালে ৪ খান পিস কাটা রুটি, দুপুরে নোডলসের মত মি গোরিং এবং রাতে অল্প একটু ভাত- যতটুকু ভাত একজন ৬ বছরের ছোট বাচ্চা খেতে পারে। দেয় না লবণ, তরকারি  দেয় না বললেই চলে!!

শাস্তি স্বরুপ প্রতিদিন ৩/৪ ঘন্টা মাটিতে বসিয়ে রাখে, বসার ৩০ মিনিট পরই ব্যাথা শুরু হয়, একটু নড়চড়া করলেই পিঠে পরে বেতের আঘাত। এছাড়াও  আরো অনেক রকম মানসিক শাস্তি দেয়। 

মালয়েশিয়ার পুলিশ নির্দয়, কঠিন মনের মানুষ। বিশেষ করে ওরা বাঙ্গালীদের বেশি অত্যাচার করে। এসব দৃষ্টি কোণ হতে 

তাই আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাঙ্গালী ভাইদের বলব, কেউ যেনো এদেশে অবৈধভাবে না থাকে। আর আমাদের কিছু বাঙ্গালী প্রতারকের জন্যই হাজার হাজার বাঙ্গালীকে নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়।

সবশেষে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, এই প্রতারকদের বাংলাদেশেও চিহ্নিত করা হোক।  

(মালয়েশিয়ার জোহরবারো হতে)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা