kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফাল্গুনী

সুজন মুহাম্মদ   

২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৫০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফাল্গুনী

ফাল্গুনী বড়ুয়া। আমার অসুখের প্রথম উপসর্গ। যেদিন প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, জ্বর আসে, খাবার তিতা লাগে সেদিন ফাল্গুনীর কথা মনে পড়ে।

ফাল্গুনী৷ এক বালিকার নাম। যার চোখে পুকুর ছিলো। পুকুরে শান্ত জলছিলো। ছিলো বিষন্নতার ছায়া। সে আমার বন্ধু। আচ্ছা বন্ধু কি বলা যায়? বন্ধু বললে বোধহয় একটু বেশি হয়ে যায়। কেননা ফাল্গুনীর সাথে কখনোই তেমন কথাবার্তা হয়নি আমার। মাঝেসাঝে সুযোগ ব্যয়, চাহিদা, যোগান এই সব বিষয়ে কথা হতো৷ আরিফ স্যার ক্লাস না নিলে ফোন দিয়ে জানানোর দায়িত্বটা যেহেতু আমার ছিলো। সেইসূত্রে ফোনেও কথা হয়েছিলো দুয়েক বার। 

একদিন দুপুরে চকবাজার দেখা হয়েছিলো তার সাথে৷ রিক্সা থামিয়ে ফাল্গুনী বললো- সুজন তোমার বাসাতো বহদ্দারহাট। চলো এক সাথে রিক্সায় যাই। আমি ফাল্গুনীর চোখে তাকিয়ে ছিলাম সেদিন৷ তার চোখে যে পুকুর ছিলো৷ যে পুকুরে আমি ডুব দিতে চেয়েছিলাম। সে শান্ত পুকুরে সেদিন ঝড় উঠেছিল। আমি তার সাথে যাইনি। 

সেদিন ফাল্গুনী অমুসলমান, বড়ুয়া হওয়ার ব্যথা নিয়ে একা রিক্সায় বাসায় ফিরেছিলো কিনা আমি বলতে পারবো না! এতটুকু বলতে পারি সমাজ, ধর্ম, পরিবার কাঁধে নিয়ে আমি একা বাসায় ফিরেছিলাম।

তারপর ফাল্গুনী বেশ কিছুদিন কোচিং এ এসেছিলো বটে৷ কোন কথা হয়নি আমাদের। একটা সময় সে ক্লাসে আসা বন্ধ করে দেয়। আর কখনো তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা