kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কালের কণ্ঠকে বাংলা একাডেমির পরিচালক

একুশে গ্রন্থ মেলাকে আন্তর্জাতিক রুপ দেওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা শুরু

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একুশে গ্রন্থ মেলাকে আন্তর্জাতিক রুপ দেওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা শুরু

ঢাকার একুশে গ্রন্থ মেলাকে আন্তর্জাতিক রুপ দেওয়ার বিষয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা শুরু করেছে বাংলা একাডেমি। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মহলে ভাষা আন্দোলনের মাসে বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই একুশে গ্রন্থ মেলাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের গ্রন্থ মেলা করার দাবি উঠছে।

ওই দাবির বিরুদ্ধেও একটি আবেগ এখনও জড়াল যে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতিশ্রদ্ধার নিবেদনের শুধুই বাংলা ভাষার বই মেলা হিসাবে থাকবে একুশের গ্রন্থ মেলা। বাংলা একাডেমির মধ্যে এই দুটি দাবি সমন্বয় করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। কালের কন্ঠের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় এই তথ্য জানান বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ।

তাঁর কথায়, কোনোভাবেই একুশে গ্রন্থ মেলার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে আবেগ-অনুভূতি রয়েছে সেটা ক্ষুন্ন করা হবে না। তবে এই মেলাকে আরো কিভাবে আন্তর্জাতিক করা যায় সেটাও চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে।

কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্শ গিল্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলা একাডেমির পরিচালক গত দুদিন বৈঠক করেছেন। এমন কি কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলার অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনী সংস্থার সঙ্গেও ড. জালাল আহমেদ কথা বলেছেন।

এই প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, শুধুই যে কলকাতার আন্তর্জাতিক বই মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে তা নয় বিভিন্ন দেশে আয়োজিত আরো আন্তর্জাতিক বই মেলা ঘুরে দেখা হচ্ছে। এই ঘুরে দেখার একটাই কারণ সেটা একুশে গ্রন্থ মেলাকে কি করে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে পারা যায়।

যদিও বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক বই মেলা হয় প্রতি বছর। কিন্তু সেই মেলায় তেমন প্রচারণা থাকে না তেমনই বিদেশি প্রকাশনী সংস্থারও তেমন অংশ গ্রহণ করতে দেখা যায় না। সে কারণে ওই আন্তর্জাতিক বই মেলাটি কার্যত অসফল।

একুশে গ্রন্থ মেলায় বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিয়েই মেলার কলেবরে অন্য ভাষার বই বিক্রির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে বাংলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, বাঙালি হিসাবে মুখে যাই বলি না কেন একটি বই মেলায় গিয়ে পাঠক সব ধরনের বই প্রত্যাশা করেন। আর সেটা আন্তর্জাতিক না হলে একুশে গ্রন্থ মেলা শুধুমাত্র বাংলা বইয়ের মেলা হিসাবেই থাকবে।

কলকাতা বই মেলার প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, কলকাতাও বাংলা ভাষার দ্বিতীয় রাজধানী। এই মেলায় বাংলা বই বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু অন্য ভাষার বইও পাবেন পাঠকরা।

এদিকে ৪০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলার পর্দা নামল রবিবার। শেষ দিনে মেলায় ছিল রেকর্ড সংখ্যক পাঠক-ক্রেতাদের ভিড়। আনন্দ, দেজ, সাহিত্যম, প্রতিভাস, অভিযান ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়নে বই কেনার জন্য লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। দুপুর ১২ টায় মেলার প্রধান ফটক খুলে দেওয়ার আগেই সকাল থেকেই মেলায় ঢুকতে লাইন দিয়েছেন মানুষ।

শেষ দিন মেলা ঘুরে দেখা গিয়েছে, থিম কান্ট্রি বলিভিয়ার প্যাভিলিয়নের চেয়েও এবার বেশি ভিড় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে। অন্য প্রকাশ, অন্যনা, পাঞ্জেরী, জ্ঞানকোষ, কথাসাহিত্য, মাওলা ব্রাদাস ছাড়াও বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, ইসলামীক ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের স্টলের সামনে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

গত ২৫ জানুয়ারি মিলন মেলা প্রাঙ্গনে এই মেলার উদ্বোধন হলেও ২৭ জানুয়ারি থেকে পাঠক-ক্রেতাদের জন্য মেলার দরজা খুলে দেওয়া হয়। ১২ দিনের মেলায় প্রায় ৩০ লক্ষ পাঠক এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন মেলার আয়োজন বুক সেরার্শ গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়।
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা