kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ইক্বরার ঐতিহাসিক ক্বিরাত সম্মেলন ও কিছুকথা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইক্বরার ঐতিহাসিক ক্বিরাত সম্মেলন ও কিছুকথা

আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা) ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে পশ্চিম পাকিস্তানে সংগঠিত হয়। এটি বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘ইত্তেহাদুল কুররা’ অর্থাৎ বিশ্বের প্রসিদ্ধ ক্বারীদের সংগঠন। যার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল আরব বিশ্বের পাশাপাশি সমগ্র এশিয়া মহাদেশে (বিশেষ করে উপমহাদেশে) বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত ও ইলমে ক্বিরাত এর ব্যাপক প্রচলন করা। কার্যকরী সদস্যবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে ‘International Quran Recitation Association (IQRA)’ নামটিকে গ্রহণ করেন। 

‘ইক্বরা’ গঠন করার পেছনে যাঁদের অবদান আছে এবং ‘ইক্বরা’র প্রথম কমিটির সদস্যরা হলেন: ‘ইক্বরা’র প্রথম সভাপতি মনোনীত হন মিসরের তত্কালীন শাইখুল কুররা শাইখ মাহমুদ খলীল আল হুসারী (রহ) এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান পাকিস্তানের ক্বারী যাহের ক্বাসেমী (রহ)। যিনি দারুল উলুম দেওবন্দ এর দীর্ঘ সময়ের মুহতামিম মাওলানা ক্বারী তৈয়ব সাহেব (রহ)-এর ভাতিজা ছিলেন। 

‘ইক্বরা’র কার্যকরী সদস্য হিসেবে মনোনীত হন: মিসরের বিশ্ববিখ্যাত ক্বারী শাইখ আবদুল বাসেত মুহাম্মাদ আবদুস সামাদ (রহ), তত্কালীন পাকিস্তানের, পরবর্তীতে বাংলাদেশের শাইখুল কুররা মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ (রহ), ইয়েমেনের উস্তাদ শাইখ মুহাম্মাদ আলী শরফুদ্দীন (রহ) প্রমুখ।

‘ইক্বরা’ আয়োজিত ১ম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়। ২য় আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন পরবর্তী বছর ১৯৬৭ সালের জানুয়ারি মাসে পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকার ঐতিহাসিক পল্টন ময়দান, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা, সিলেটের আলীয়া মাদরাসা ময়দানে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ সালের ২য় আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনের পর কিছু রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ‘ইক্বরা’র কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ইন্তেকালের পর, আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার (ইক্বরা) কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। 

অতঃপর মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ (রহ) এই সংগঠনের হাল ধরেন। তিনি ১৯৬৬ সালে সংগঠিত ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহচর ও সংগঠক ছিলেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী তথা শাইখুল কুররা নিযুক্ত করেন। স্বাধীনতার ২০ বছর পর, ১৯৯১ সালে শাইখুল কুররা ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ (রহ) নতুন উদ্যমে ‘ইক্বরা’র কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরু করতে সক্ষম হন।

এ সংস্থার অধীনে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ও একমাত্র স্বতন্ত্র ইলমে ক্বিরাতের প্রতিষ্ঠান ‘মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশ’ পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় মাসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বরে ইক্বরা’র আয়োজনে এবং পিএইচপি ফ্যামিলির পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন।

লেখক : আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার (ইক্বরা)’র সভাপতি শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আযহারী হাফিযাহুল্লাহ।

 

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা