kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

প্রিয় বুলবুল, আপনি কি কৈশোরে এই স্বাধীনতার জন্যই যুদ্ধে গিয়েছিলেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিয় বুলবুল, আপনি কি কৈশোরে এই স্বাধীনতার জন্যই যুদ্ধে গিয়েছিলেন?

ছবি অনলাইন

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের একটা অপারেশনের আগে তিনি ফেসবুকে একটা পোষ্ট দিয়েছিলেন যেটা ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি লিখেছিলেন কেমন করে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে তার জীবনের উপর প্রবল হুমকি নেমে এসেছিল। কেমন করে একটি কক্ষে তাঁকে প্রাণভয় নিয়ে জীবনপাত করতে হয়েছিল।

অপারেশনের জন্য পয়সা চেয়ে পোষ্ট দেননি সেই যোদ্ধা। তিনি শুধু চেয়েছিলেন অপারেশনের আগে যেন তাঁকে একটা দশ সেকেন্ডের জন্য একটা কোরআন শরীফ আর জাতীয় পতাকাটা বুকে রাখতে দেয়া হয়।

দুটো গণহত্যার চাক্ষুষ সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল গত হয়েছেন কয়েকদিন হয়ে গেলো। এফডিসিতে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হলে তেমন কেউই সেখানে জাননি বলে শোনা গেলো। শোনা গেল শহীদ মিনারেও কাঙ্ক্ষিত মানুষের ঢল নামেনি।

সেই খবরগুলো পত্রিকার পাতায় পাতায় খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম।

দেখছিলাম প্রতিটা খবরের কমেন্ট সেকশনে ভদ্রলোককে নাস্তিক বলে গালাগাল দেয়া হচ্ছে। একজনের মন্তব্য দেখলাম জানাজা না দিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

আমার মনে পড়ে গেলো, যেই গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে জীবনটা শেষ করে ফেলেছিলেন এই যোদ্ধা, সেই গোলাম আযমের জানাজায় মানুষের সমাগম প্রেসিডেন্ট জিয়ার সমাগমকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শুনতে পেরেছিলাম পৃথিবীর পঞ্চাশটা দেশে গোলাম আযমের জানাজা পড়ানো হয়েছিল। জানাজায় মানুষ সমাগমে এটা ছিল একটা রেকর্ড।

এটাই বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতা।

মুক্তিযুদ্ধ শুনলে ভ্রূ কুঁচকানো মানুষের ভিড় অন্তিমে বাড়ছেই কেবল। একাত্তরে বনগাঁর শরণার্থী ক্যাম্পের যে হাসপাতাল ছিল সেখানে প্রতিদিন শ-খানেক মানুষ মারা যেতো। হাসপাতালের পেছনে দুটো করে ট্রাকের ডিউটি থাকতো প্রতিদিন। ট্রাক ভরেভরে লাশ নিয়ে বড়বড় গর্তে ফেলা হত। গর্ত পূর্ণ হলে একবারে মাটিচাপা দিয়ে দিতো কর্তৃপক্ষ।

লাশের ধর্ম ছিল না। হয়তো শাখা-সিঁদুরের সাথে কোন মুয়াজ্জিমের লাশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলো। কেউ খোঁজ নেয় নাই।

সল্ট-লেকের সবচেয়ে বড় রেফিউজি ক্যাম্পটিতে যখন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি একটা ক্যাম্পের পরিচালকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তাঁর এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কোন জিনিসটার দরকার? সেই ক্যাম্পের পরিচালকের সহজসরল উত্তর ছিল "একটা শবচুল্লি"।

কারণ এতবেশি মানুষ মারা যাচ্ছে যে পুড়িয়ে কূল পাওয়া যাচ্ছে না। সেই চুল্লিও হিন্দু-মুসলমান চিনত না। তার কাজ ছিল পোড়ানো। সে পুড়িয়েই চলতো।

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৮ বছর। একজন মুসলমান মুক্তিযোদ্ধার মরদেহকে একজন বাংলাদেশের নাগরিক পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে। আরেকজন সাগরে ভাসিয়ে দিতে বলছেন। আরেকজন সরাসরি মাটিচাপা দিয়ে দিতে বলছেন। আমি সো-কল্ড মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধ্বজাধারীরা দাঁত দিয়ে নখ কাটা ছাড়া কিছুই করতে পারছি না।

প্রিয় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল,
আপনি কি নিজের কৈশোরে এই স্বাধীনতার জন্যই যুদ্ধে গিয়েছিলেন?

--- লেখক আরিফ রহমান, ফেসবুক থেকে

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন)

মন্তব্য