kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

আসুন, নুসায়বাকে বাঁচাতে চি‌কিৎসার উদ্যোগ নিই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আসুন, নুসায়বাকে বাঁচাতে চি‌কিৎসার উদ্যোগ নিই

নুসায়বা, মাত্র ১৫ মাস বয়সী শিশুটির চিকিৎসার জন্যে সহায়তা প্রয়োজন

১. কিছুদিন পূর্বে একটি ফোন আসে আমার কাছে। ১৪ মাসের একটি শিশু ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালের থ্যালাসেমিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি। তার চিকিৎসায় যতটুকু পারি যেন হেল্প করি। শিশুটির মামা মাহবুব আলম মেসেঞ্জারে কিছু ছবি পাঠালেন। ছবিগুলো দেখে খুব মায়া লাগলো। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, সে অস্থিমজ্জার জটিল রোগ একুইট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় (এএমএল) আক্রান্ত। ৬০ শতাংশ ব্লাস্ট। দিন দিন শরীর অবনতির দিকে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, অ্যাপোলে হসপিটালে খোঁজ খবর নিলাম। ই-মেইলে কাগজপত্র পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণের সঙ্গে কথা বললাম। কিন্তু তারা কেউ তেমন আশার বাণী শোনালেন না। শুধু বললেন, দ্রুত কেমোথেরাপি শুরু করে দিতে হবে। বাকীটা আল্লাহ ভরসা।
 
এরপর আমার পরিচিত এবং বিশ্বস্থ ভারতের এক মেডিক্যাল টুরিজম কোম্পানির কাছে কাগজপত্র পাঠিয়ে অনুরোধ করলাম, গরীব এই শিশুটির চিকিৎসায় সবচেয়ে কম কতো টাকার দরকার পড়তে পারে তা জানাতে। তারা ওখানকার চিকিৎসকদের সঙ্গে শেয়ার করে বেশ আশার বাণী শোনালেন। জানালেন, বাঁচার সম্ভাবনা ৬০ ভাগ। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানালেন, ৬ মাসের মতো সময় লাগবে চিকিৎসায় যাতে খরচ পড়বে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মতো।

গত সপ্তাহে সরাসরি গেলাম ঢাকা শিশু হাসপাতালে। থ্যালাসেমিয়া ওয়ার্ডে ঢুকে মায়ের কোলে নুসায়বার জীর্ণ শীর্ণ শরীর, মুখ দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। আগের ছবি আর বর্তমানের ছবির সঙ্গে মেলাতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। আমার সঙ্গে কালের কণ্ঠ’র যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুর রহমান ভাইও ছিলেন। আমি হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাকিম ভাইকে ওয়ার্ডে ডেকে আনলাম। অনুরোধ করলাম, যাতে শিশুটির চিকিৎসায় কোন গাফলতি না হয়। তারাও যথেষ্ট দেখভাল করছেন জানালেন। শিশু কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মেদ হানিফ স্যারকে অনুরোধ করলাম খোঁজ খবর রাখতে। 

এরপর আশার বাণী শুনিয়ে, শিশুটির তুলতুলে গালে আদর করে যখন ফিরছিলাম—তখনও আমার চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। তৌহিদ ভাইও আবেগপ্রবণ হয়ে গেলেন, কিছু ছবি তুললেন। শিশুটি অপলক নেত্রে আমাদের চলে আসার পথের দিকে শুধুই তাকি‌য়ে‌ছিলো!

২.
কারো চিকিৎসায় টাকা চাওয়া কিংবা সাহায্যের আবেদন জানানোর বিষয়টিকে আমি বরাবরই এড়িয়ে যাই। এসব নিয়ে ফেসবুকেও কোন পোস্ট দেই না। কেননা এসব নিয়ে নানা অভিযোগও পাওয়া যায়। অনেকে সাহায্যের নামে অমানবিক ধান্দাও করে। তাই রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারটিতে ভালো হাসপাতাল, ভালো চিকিৎসা, কম খরচ এসব বিষয়ে যতটুকু পারি আমি সহযোগীতা করার চেষ্টা করি। কিন্তু ফুটফুটে এই শিশু নুসায়বার চিকিৎসা ও আর্থিক সমস্যার বিষয়টি আমি এড়িয়ে যেতে পারলাম না। তারা আমার কেউ নয় কিন্তু এখন আমার আত্মার আত্মীয়। 

ফুটফুটে এই শিশুটির চিকিৎসার ব্যাপারে আমি খুব সিরিয়াস। আপনারা সবাই এগিয়ে এলে ৪০ লাখ টাকা যোগার করা সম্ভব। আসুন, সবাই এগিয়ে আসি।

৩. নুসায়বাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন
নুসায়বা জান্নাত মালিহা। ১৫ মাস বয়সী ফুটফুটে এই শিশুটির হাসিতে আনন্দের বন্যা বইতো পরিবারে। এখন আর হাসে না নুসায়বা। পরিবারেও কান্নার রোল। অস্থিমজ্জার জটিল রোগ লিউকেমিয়া (এএমএল) বাসা বেঁধেছে তার ছোট শরীরে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের থ্যালাসেমিয়া ওয়ার্ডে জ্বর আর সারাক্ষণ ব্যথা নিয়ে কাতরাচ্ছে। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট) করতে হবে। ভারতে গিয়ে এই চিকিৎসা করাতে দরকার ৪০-৫০ লাখ টাকা। শিশুটির পিতা নারায়নগঞ্জের মোতাহার খান একজন শ্রমিক যার পক্ষে এই টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে চিকিৎসার খরচ যোগাতে পরিবারটি তাদের সর্বস্ব ব্যয় করেছে। হাসপাতালের বারান্দায় অসহায় অবস্থায় কেঁদে কেটে তাঁদের দিন কাটছে এখন। উন্নত চিকিৎসায় ভারতে যাবে, পাসপোর্টও করতে দেয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু অতো টাকা কৈ?
নুসায়বা আবার হাসতে চায়। পরিবারটি তাকে নিয়েই বাঁচতে চায়। নুসায়বাকে বাঁচাতে সহৃদয়বান মানুষের 
দ্রুত আর্থিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে পরিবারের পক্ষে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা :

হামিদা আলী, হিসাব নম্বর : ২৪৭১৫১৩৭৬৪৮, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, কাঁচপুর শাখা, ঢাকা। 
বিকাশ : ০১৮১৫৪১৬২৪২
সরাসরি যোগাযোগ : ০১৮১৫ ৪১৬২৪২, ০১৮৮৩ ২২৬০২৬ (নুসায়বার মা হা‌মিদা)

(সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুলের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)

মন্তব্য