kalerkantho

গানের জন্য আইয়ুব বাচ্চুকে বের করে দেওয়া হয় বাড়ি থেকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গানের জন্য আইয়ুব বাচ্চুকে বের করে দেওয়া হয় বাড়ি থেকে

আইয়ুব বাচ্চু নেই। প্রথমে আমি যখন আজ সকালে জানতে পারলাম একেবারেই থ হয়ে গেলাম। এত বড় মাপের একজন গুণী শিল্পী আমাদের মাঝে নেই, এটা যেন মন মেনে নিতে পারি না।

অনেকেই তাকে নিয়ে অনেক রকমভাবে লিখছেন। যাদের সৌভাগ্য হয়েছিল তার সাথে ছবি তোলার, সেসব ছবি পোস্ট করছেন। আমি তার গান নিয়ে কিছু বলতে চাই না। সবাই জানেন। আজ আমি তার জীবনের অন্য একটি বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই। যা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু।

আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন পুরোপুরি মিউজিক পাগল একটি ছেলে। দিন রাত তার খালি গিটার আর গিটার। স্বাভাবিকভাবেই  আমাদের দেশের প্রচলিত আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই রকম ছেলেকে বলে উচ্ছন্নে যাওয়া ছেলে। তাকে বের করে দেওয়া হয় বাড়ি থেকে।

তখন তার মা তার হাতে তখনকার সময়ে ৩৫০ টাকা দিয়ে বলেছিলেন, বাবা তুই যখন গান বাজনাই পছন্দ করিস, তবে তুই এটাতেই লেগে থাক। মায়ের দেয়া সেই টাকা নিয়ে তিনি ঢাকায় এলেন। শুরু হলো তার মিউজিক নিয়ে জীবন যুদ্ধ।

প্রথমেই সাফল্য আসেনি। হতাশ হননি তিনি। যে সময়টায় উনি ব্যান্ড নিয়ে গান শুরু করেন তখন তথাকথিত শুদ্ধ সংস্কৃতির ধারক বাহকেরা একে বলতেন অপসংস্কৃতি।

একবার দৈনিক বাংলায় নাম করা এক কলামিস্ট লিখলেন বান্দর নাচ থেকে এসেছে ব্যান্ড। বাচ্চু ভাই শুরু করলেন সোলসে তার পথ চলা। এর আগেও দুয়েকটা ব্যন্ডে ছিলেন, সোলসে তিনি আর নকিব খান মিলে খুব মিষ্টি মিষ্টি কিছু গান তৈরি করলেন যা আজও শ্রোতারা  মনে রেখেছে।

সোলসেও খুব একটা শান্তি পেলেন না। নিজেই গড়লেন নিজের ব্যান্ড এল আর বি। এরপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। এত কিছুর ভেতরেও তিনি মাকে ভোলেননি। এল আর বি নিয়ে বেশ কিছু হিট গান তৈরি করেন যা সারা দেশের তরুণ শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরত। এর পর করেন নিজের রেকর্ডিং স্টুডিও এবি কিচেন, যার উদ্বোধন তিনি করান তার মাকে দিয়ে।

আর্থিকভাবে সাফল্যের পর তিনি কিন্তু তার পরিবারের  লোকদের ভুলে যাননি। তার ভাইদের সাহায্য করেছেন। তার মাকে তার কাছে এনে রেখেছেন। শেষ বয়সের পুরো সময়টা তার মা আমৃত্যু তার কাছেই ছিলেন।

মায়ের দোয়া যে সন্তানকে কত বড় সাফল্য এনে দিতে পারে, আইয়ুব বাচ্চু হলেন তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

ডা. নওশের আলী ভূঁইয়ার ফেসবুক থেকে

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা