kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

সাহায্য তো দূরের কথা নিজের বেতনটাই পাচ্ছি না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 সাহায্য তো দূরের কথা নিজের বেতনটাই পাচ্ছি না

ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া

আমি অনন্ত গার্মেন্টসে দীর্ঘ ১২ বছর চাকরি করেছি। অসুস্থতার কারণে আমি আগস্ট মাস থেকে অফিসে যেতে পারিনি। কারণ অতিরিক্ত গরমের কারণে আমার কুচকিতে ঘা হয়ে যায়। আমি হাটতে পারতাম না ব্যথার কারণে। নিজের চাকরির খাতিরে লজ্জা-সরম ভুলে গিয়ে আমার ঘায়ের ছবি তুলে জিএম স্যারকে পাঠাই, আর ছুটি চাই তার কাছে। তিনি আমাকে বললেন, "আপনি সুস্থ হয়ে তারপর অফিসে আসুন, কোনো সমস্যা নেই, আমরা দেখছি ব্যাপারটা"। 

এর মাঝে আমি হুট করে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার ২ বছর আগে ১টা টিউমার হয়, এর ব্যথা হুট করে বেড়ে যায়। আমি আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার ২ জন কলিগ আমাকে দেখতে আসেন আর আমাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অফিসের গাড়ির ব্যবস্থা করেন। সেখানে অফিসের কিছু লোক গাড়ি ও দিয়ে চাচ্ছিল না। অনেক সমস্যা করে। আমি পরে জিএম স্যার, এডমিন, ডিরেক্টর স্যারকে ব্যাপারটা জানাই। তারা আমাকে দেখতে আসতে চেয়েছিলেন। পরে আর আসেননি। 

এই সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পর আমি অফিসে যাই, আমাকে সরাসরি বলে দেওয়া হয় আমি যাতে আর অফিসে না যাই। আমার নাকি চাকরি নেই। আমার অসুস্থতার ব্যাপারটা জিএম স্যার, এডমিন, ডিরেক্টর স্যার অস্বীকার করেন, আর আমাকে বের করে দেয়। বোনাসের টাকাটা পর্যন্ত দেয় নাই আমাকে। ফিরিয়ে দিয়েছে আমাকে। আমার অসুস্থ শরীর নিয়ে অনেক দৌড়াতে হয়েছে। আজ হাসপাতালে তো কাল অফিসে। আমি আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাই। আমাকে ৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

আমার টিউমারটা ক্যান্সারের টিউমার। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। অথচ গার্মেন্টস থেকে মেডিকেল ভাতা তো দূরের কথা, আমাকে আমার বেতন, ঈদের বোনাসটা ও দেওয়া হচ্ছে না। ১২ বছর কাজ করার বিনিময়ে কোনো প্রকার সাহায্য পাচ্ছি না আমি। কম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, কম্পানি নিজে আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিলে আমি ১২ বছরের সার্ভিসের জন্য ১২টা বেসিক সেলারি পাওয়ার কথা। আমাকে তাও দিচ্ছে না। 

আমি টাকার অভাবে সুচিকিৎসা পাচ্ছি না। ডাক্তাররা বলেছেন আমার ৮টা কেমো থেরাপি আর ১টা রেডিও থেরাপি দিয়ে তারপরে অপারেশন করতে হবে। প্রত্যেকটি কেমো থেরাপির জন্য আমার ২০-২৫ হাজার টাকা দরকার। 

গার্মেন্টসের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তাকে কম্পানির পলিসি অনুযায়ী বিভিন্ন রকম সাহায্য করা হয়। কিন্তু আমি তো কোনো সাহায্য পাচ্ছি না। সাহায্য তো দূরের কথা নিজের বেতনটাই পাচ্ছি না। এ কেমন ন্যায়, এ কেমন নীতি। কম্পানির জন্য নিজের জীবন শেষ করে দিলাম। আর আজ কম্পানি আমার পাসে দাঁড়াচ্ছে না।

ফারুক হোসাইন ফারুক এর ফেসবুক থেকে

 

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা