kalerkantho

রবিবার । ২৫ আগস্ট ২০১৯। ১০ ভাদ্র ১৪২৬। ২৩ জিলহজ ১৪৪০

পশুদের সাথেও বাটপারি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশুদের সাথেও বাটপারি!

পশুরা অবুঝ। মানুষের মতো ভাষা নেই। তাই ওষুধ সেবনে কোনো অসুবিধা হলে কথা বলে জানাতে পারে না। তবে প্রস্রাব, পায়খানা এমনকি জাবর কাটানো বন্ধ হলে বুঝতে হবে পশুদের শারীরিক সমস্যা হয়েছে। 

আমাদের দেশে এখন গরু ছাগলের কবিরাজী প্রথা নেই। আগে গাছ-গাছড়া দিয়ে অনেক বুঝদার মানুষ কবিরাজী করতেন। আগে গরুর খুরা রোগ আর পঁচা-পশ্চিমে নামে একটি রোগের কথা শুনতাম। আমার মেজ চাচা ছিলেন কবিরাজ। যুগ পাল্টেছে। নতুন নতুন ওষুধ কোম্পানি আর তাদের হাজারো প্রডাক্ট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাজার জুড়ে। এখন খামারিরাও বসে নেই। গরু মোটা-তাজা করতে তাদের কসরত সব পশুর ওপরে। 
হরেক রকম ওষধ সেবন করিয়ে গরু-ছাগল মোটা করছে। এতে বিপত্তিও ঘটছে। হার্ট অ্যাটাক ও কলিজা পঁচে মারাও যাচ্ছে পশু। হাতুরে ডাক্তাররাও বসে নেই। তারা কোনো রকম ডিগ্রি ছাড়াই প্রেসক্রাইব করছে নানা পদের ওষুধ। এমন একজন পশু চিকিৎসক ঝিনাইদহের রুবেল। তিনি অসুস্থ এক পশুর জন্য পশুর মালিককে ব্যবস্থাপত্রে লিখে দিয়েছেন মানহীন নকল ওষুধের নাম। এমন একটি ওষধ কিনে রবিবার বিকালে ধরা খেয়েছন ঝিনাইদহের নগরবাথান বাজারের খামারি রবিউল। 

তিনি স্থানীয় ভাই ভাই ফার্মেসি থেকে গার্ডেন হেলথ কেয়ার কোম্পানির প্রিমিক্স পাউডার কিনে প্যাকেট খুলে দেখেন তাতে চালের গুঁড়া ভর্তি। এমনি ধারায় ওষুধ কিনে কেউ পেয়েছেন কাঠ ও ধানের গুঁড়া। একইভাবে শাখারীদহ গ্রামের চান্দ আলী, নগরবাথান গ্রামের আকরাম ও লেবুতলা গ্রামের আলম নিজেদের পশুর জন্য এই পাউডার কিনে প্রতারিত হন। 

একই ধরণের প্যাকেটে ভিন্ন ভিন্ন জিনিস পাওয়ায় এই ‘ওষুধ কোম্পানির’ সততা ও ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই নিজের পোষা বোবা জীব-জানোয়ারের জন্য ওষুধ কিনে তা না দেখেই প্যাকেট খুলে পশুর মুখে ঢেলে দেয়। কিংবা খাবারের সঙ্গে মেশায় তারপর গরু-ছাগলকে খাওয়ায়। পরখ করে দেখে না ওগুলো আসলে কী? পরখ করার উপায়ও থাকে না অনেকের। যাহোক, এই সুযোগটাই নেয় দুটি টাকার জন্য পশুর থেকেও পশু বনে যাওয়া মানুষ নামের কলঙ্কগুলো। 

যাহোক, পশুর সঙ্গে এমন বাটপারিতে ক্ষোভ ধুমায়িত হচ্ছে ঝিনাইদহের খামারিদের মধ্যে। খোঁজ নিয়ে জানা, গেছে রুমিগার্ড পাউডারের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির কারখানা ঢাকার আশুলিয়া এলাকার জিরাবো আমতলায়। অর্ডার ফরমে হেড অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে রাজধানী ঢাকার ৩৪ লেক সার্কাস, কলাবাগান। আমরা চাই বাজারে মানহীন কাঠের গুঁড়া, ঝালের গুঁড়া আর তুষ দিয়ে বানানো ভেজাল এসব ওষুধ প্রত্যাহার হোক। শাস্তি হোক সংশ্লিষ্ট ‘ওষুধ কোম্পানির’ মালিকদের।

আসিফ কাজল, সাংবাদিক, ঝিনাইদহ,কলাবাগান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা