kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

প্রিয় একজন মানুষকে হারালাম

বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীত শিল্পী, গবেষক ও সংগঠক খালিদ হোসেন। তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন ফেরদৌস আরা

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রিয় একজন মানুষকে হারালাম

স্কুলজীবনে থাকতেই সংগীতে আসার ফলে ছোটবেলা থেকেই অনেক গুণী শিল্পীর সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি। সোহরাব হোসেন, সুধীন দাশের পরই খালিদ হোসেনের সঙ্গে আমার পরিচয়। সেটা আশির দশকের গোড়ার দিকের কথা। তিনি তখন লাইমলাইটে।

প্রায় চার দশকের সম্পর্ক। একজন সিনিয়র শিল্পী হিসেবে সব সময়ই তাঁকে পাশে পেয়েছি। নজরুলের গানের জন্য তাঁর যে নিবেদন তা কখনো ভোলার নয়। নজরুলের গান গাওয়া, গবেষণা, অন্যদের সংগঠিত করা সব ক্ষেত্রেই তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ, আন্তরিক। আমি ছিলাম তাঁর পরিবারের একজনের মতো। পরিবারের অনেক গল্পও আমার সঙ্গে শেয়ার করতেন তিনি। যাদের সঙ্গে বেশি মিশে যেতেন তাদের সঙ্গে হাসি-তামাশা করতেন, মজা করতেন। এটা হয়তো অনেকেই জানে না। কোনো অনুষ্ঠানের আগে রিহার্সাল রুমে যখন বসতাম তিনি এমন এমন কথা বলতেন, কেউ হাসি ধরে রাখতে পারত না। সেজেগুজে অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়েও বেশ রহস্য করতেন! শাহীন সামাদ ও ডালিয়া নওশীনের সঙ্গেও বেশ সখ্য ছিল। আমার কাছে তিনি ছিলেন একজন বন্ধুর মতো। বিভিন্ন প্রয়োজনে, পরামর্শে যখনই ডেকেছি পাশে পেয়েছি। খায়রুল আনাম শাকিলের একুশে পদক পাওয়া উপলক্ষে গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খালিদ হোসেন। আমি তাঁর পাশেই বসেছিলাম। মাঝে দেশের বাইরে ছিলাম। এসে জানতে পারি তাঁর অসুস্থতার কথা। মনটা ভারী হয়ে যায়। এখন তো একেবারেই চলে গেলেন। আমি আমার প্রিয় একজন মানুষকে হারালাম। নজরুল ইনস্টিটিউটে এসেছি তাঁকে বিদায় জানাতে! মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তাঁর বিদেহী আত্মা শান্তি পাক, এই প্রার্থনা করি।

অনুলিখন : রবিউল ইসলাম জীবন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা