kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

রসিক মানুষটি আর নেই

রংবেরং প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রসিক মানুষটি আর নেই

সালেহ আহমেদ [১৯৩৬—২০১৯]

অভিনেতা সালেহ আহমেদ আর নেই। ২৪ এপ্রিল দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। গতকাল সকালেই তাঁকে অ্যাপোলোর সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল অভিনেতার শ্যালক আওয়াল চৌধুরী এসব তথ্য জানান। ২০১১ সালে স্ট্রোক হয়েছিল সালেহ আহমেদের। সেবার সুস্থ হয়ে অভিনয়ে ফিরেছিলেন। দুই বছর পর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেবার তাঁর ফুসফুসে প্রদাহ ধরা পড়ে। ২০১৬ সালে তাঁর ফুসফুসে পানি জমে। এর পর থেকে আর কথা বলতে পারেননি। চিকিৎসার ব্যয় বহনে অক্ষম হয়ে পড়ে পরিবার। এই জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর। ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন তাঁর হাতে। ৮৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। এর মধ্যে রয়েছে নাটক ‘অয়োময়’, ‘যইতরি’ ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘হাবলঙ্গের বাজারে’, ‘পিশাচ মকবুল’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, ‘বাদলদিনের দ্বিতীয় কদম ফুল’ ও ‘নিমফুল’। হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘আমার আছে জল’ ও ‘দুই দুয়ারি’। এ ছাড়া অভিনয় করেছেন ‘খেলাঘর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘রূপকথার গল্প’ চলচ্চিত্রে। স্বাধীনতা পদক পাওয়া এই অভিনেতার জন্ম বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে, ১৯৩৬ সালে। অভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ময়মনসিংহের ‘অমরাবতী নাটমঞ্চ’র সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতার আগে থেকেই তিনি বিটিভির নিয়মিত অভিনয়শিল্পী।

 

স্মরণ

বলতেন, গড গিফটেড

আবুল হায়াত অভিনেতা-নির্মাতা

সালেহ ভাই আমার সিনিয়র ছিলেন। চাকরিজীবন থেকেই তাঁকে চিনতাম। যখন ওয়াসায় ছিলাম অনেকবার তাঁর অফিসে গিয়েছি। দেখেছি, অফিসে তিনি দারুণ জনপ্রিয়। অভিনয়ে তিনি নিয়মিত হলেন ’৯২ কি ’৯৩ সালে। তখন তাঁর সঙ্গে আমার আরো বেশি সখ্য গড়ে ওঠে। সালেহ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। ছোট-বড় যে কেউ তাঁর বন্ধু বনে যেতেন। অনেক রসিক ছিলেন। মন খারাপ দেখলেই জোকস বলতেন। এমন এমন জোকস, না হেসে পারা যেত না। জিজ্ঞেস করতাম এত প্রাণশক্তি পান কই! বলতেন, গড গিফটেড। অনেক বছর হলো তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। খুব খারাপ লাগছে। এত গুণী একজন অভিনেতা ছিলেন বলে বোঝানো যাবে না। তাঁর চরিত্রগুলোতে এখন কে অভিনয় করবেন ভেবেই পাচ্ছি না।

 

এমন মানুষ আর পাব না

ফারুক আহমেদ অভিনেতা

সালেহ ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নাটকের সেটে। খুব প্রাণবন্ত একজন মানুষ। দেখতে দেখতে এত আপন হয়ে গেলাম যে বলার নয়। এমনও হয়েছে, শুটিংয়ের একদিন আগে সালেহ ভাই নুহাশপল্লীতে পৌঁছেছেন। একটি রুমও নিয়েছেন, যার দুটি বেড। তিনি কেয়ারটেকারকে বলে রাখতেন, ফারুক এলে আমার পাশের বেডটা দেবে। এই যে ভালোবাসা, এই স্নেহ ভোলা যাবে না। সালেহ ভাই প্রথম যেদিন অসুস্থ হলেন আমি তাঁকে ল্যাব এইডে নিয়ে গিয়েছিলাম। সালেহ ভাইয়ের অভিনয় সম্পর্কে বলতে হলে বলব ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ নাটকটির কথা। একজন অভিনেতা চরিত্রের সঙ্গে কতটা মিশে যেতে পারে তার অনন্য উদাহরণ সালেহ ভাইয়ের করা নাটকটির চরিত্র। বেশির ভাগ সময় তিনি শিশুসুলভ আচরণ করতেন। কখনো বুঝতে দিতেন না নিজের কোনো না পাওয়া বা দুঃখ আছে! এমন ভালো মানুষ আর পাব না।

মন্তব্য