kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

যমুনার তীর রক্ষা বাঁধে একাধিক ভাঙন

হুমকিতে জনবসতি ফসলি জমি

মোস্তফা মনজু, জামালপুর   

২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যমুনার তীর রক্ষা বাঁধে একাধিক ভাঙন

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর বাঁ তীরের মুরাদাবাদ এলাকায় বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার সিসি ব্লক ধসে পড়েছে। কাছেই আরো দুটি স্থানে সিসি ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। ছবি : কালের কণ্ঠ

২২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লকের বাঁধে আবারও ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ছয়টি পৃথক স্থানে বাঁধের প্রায় ৪০০ মিটার ধসে পড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সম্পূর্ণ বাঁধটি ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধ ধসে পড়ায় স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনবসতি ও ফসলি জমি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ করে। প্রায় ২২০ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের ফুটানি বাজার থেকে ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই বাঁধটি কুলকান্দি ও পাথর্শী ইউনিয়নের মধ্যে একটি সংযোগ রাস্তা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের জুনে। কাজ নিম্নমানের হওয়ায় গত দুই বছরে বাঁধটি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

গত বছর এই বাঁধের কুলকান্দি ইউনিয়নের অংশে তিনটি স্থানে এবং পাথর্শী ইউনিয়নের অংশে দুটি স্থানে সিসি ব্লক ধসে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললে ভাঙন সাময়িক রোধ হয়। কিন্তু সেসব ভাঙনের স্থানগুলোতে সিসি ব্লক বসিয়ে আবার বাঁধ মেরামত করা হয়নি। ফলে এবারের বর্ষার শুরুতেই যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকায় এবং প্রবল স্রোতের কারণে গতবারের ভাঙনের স্থানগুলোতে এক সপ্তাহ ধরে নতুন করে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই পাঁচটি স্থান ছাড়াও গত বুধবার রাত থেকে পাথর্শী ইউনিয়নের মুরাদাবাদ নৌ ঘাটের কাছেই প্রায় ৫০ মিটার বাঁধের সিসি ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গত শনিবার কুলকান্দি ও পাথর্শী ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ বাঁধের ভাঙনকবলিত স্থানে যমুনা পানির প্রমত্ত ঢেউ আর প্রবল ঘূর্ণি উল্টো স্রোতে একের পর এক সিসি ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার রাত থেকে বাঁধের ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করলেও ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিক সেখানে জরুরি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী বাঁধে ভাঙন প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ বাঁধের ইসলামপুরের মুরাদাবাদ এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে আট হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পরবর্তী সময়ে এই বাঁধের যেসব স্থানে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়েছিল, সেসব স্থানে আবার সিসি ব্লক বসিয়ে বাঁধ মেরামত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা