kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

কোটালীপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

‘সব কাজেই টাকা দিতে হয়’

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, ঘুষ না দিলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান কাজ আটকে দেন। আট বছর ধরে এ উপজেলায় কর্মরত তিনি। কিন্তু অফিস ফাঁকি দিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আদায় নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন মাহাবুবুর। ঘুষ বাণিজ্যে অফিস সহকারী হান্নান সরদার তাঁকে সহযোগিতা করেন। আরো অভিযোগ, নতুন বেতন-বিলের কাগজপত্র উপজেলা থেকে জেলা অফিসে পাঠাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়। ক্ষেত্রবিশেষে টাকার পরিমাণ কমবেশি হয়। তা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে আদায় করা হয় ঘুষ। শিক্ষা অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অযোগ্যরা স্থান পাচ্ছেন। উপজেলার হিজলবাড়ী বিনয়কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া পাঁচ শিক্ষকের কাছ থেকে ৭০ হাজার, হিরণ পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের কাছ থেকে ৪০ হাজার ও পোলসাইর ত্রিপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুরের অপসারণ দাবি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষক বলেন, ‘আমি নতুন নিয়োগ পেয়েছি। আমার বেতন-বিলের কাগজ দেরিতে পাঠালে তিন মাসের বেতন অন্তত ৪৮ হাজার টাকা পাব না—এ ভয় দেখিয়ে অফিস সহকারী হান্নান সরদার আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বেতন-বিলের কাগজ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠিয়েছেন। সব কাজেই টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না। এখানে শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।’ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সব সময় অফিস করতে পারেন না বলে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুর। তবে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

মন্তব্য