kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

হাওরের কৃষকদের ভাবনা

বিপর্যস্ত কৃষককে যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে বলা বিদ্রুপস্বরূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বছর না ঘুরতেই অকাল বন্যা, ধানে চিটা, অতিবৃষ্টি, পোকামাকড়ের আক্রমণ—এমন নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে আবর্তিত হাওরের কৃষি অর্থনীতি। এর ওপর ফসলের দাম না পাওয়া নিয়ে চরম অসন্তুষ্টি বিরাজ করছে হাওরের কৃষকদের মনে। অন্যদিকে বজ্র পাতে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় উজানের ক্ষেতমজুররা হাওরে আসতে চায় না। এ অবস্থায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিষয়ে গত বুধবার কজন কৃষকের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।

তাঁরা জানান, ধান কাটা-মাড়াইয়ের এ মৌসুমে উজানের ক্ষেতমজুররা এখন হাওরে অনেক কম আসে। ফলে একরপ্রতি ধান কাটার মজুরি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে এক একর জমির ধান কাটতে ক্ষেতমজুররা আট থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করে। এরপর রয়েছে ধান মাড়াইয়ের ঝামেলা। হাওরে এখন গরু-মহিষ দিয়ে খোলায় ধান মাড়াই প্রায় বন্ধ। এ স্থান দখল করেছে ধান মাড়াই কল।

হাওরাঞ্চলের কৃষি চাষাবাদ যন্ত্রনির্ভর হলে হাওরের কৃষকদের জন্য তা আশীর্বাদ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়ার কৃষক আবদুল কুদ্দুস জানান, ধানের দাম বলতে পাওয়াই যায় না। মণপ্রতি ধান আবাদে খরচের চেয়ে বিক্রি করতে গেলে দুই-আড়াই-তিন শ টাকা পর্যন্ত কম মেলে। এর পরও কেউ বাধ্য না হলে বাপ-দাদার এ পেশা ছাড়ে না। এখন আবার এই মৌসুমে ক্ষেতমজুরের চরম সংকট। এসব কারণে হাওরের কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

এই কৃষকের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ধান কাটা-মাড়াইয়ের মেশিন হাওরে আনা সম্ভব হলে কৃষির জন্য তা খুব উপকারে আসে। সরকার ও নানা সংস্থা কৃষকদের জন্য এ ধরনের যন্ত্রে ভর্তুকি দেয় দেয় বলে তিনি শুনছেন। কৃষি বিভাগের লোকজন প্রত্যন্ত হাওরের কৃষকদের সঠিক পরামর্শ এবং তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করলে ভালো হতো।

তাঁর মতে, যন্ত্রনির্ভর চাষাবাদের উল্টো দিকও রয়েছে। যেমন—সহজে যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা গেলেও জমিতে খড় রেখে আসতে হয়। এতে গবাদি পশুর খাবারের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার আগাম বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে জমি জলমগ্ন হলে এ যন্ত্রে ফসল কাটা যায় না। 

হাওরের অষ্টগ্রামের খলাপাড়ার সম্পন্ন কৃষক আব্দুল আহাদ মাস্টার বলছেন অন্য কথা। তাঁর মতে, কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কৃষকের কোনো কাজে আসছে না। তারা মাসের শেষে কেবল বেতন তুলতে আসেন। বিপর্যয়ে পড়লে কৃষক তাঁদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পায় না। তিনি আরো জানান, কৃষি মৌসুমে হাওরে কাজের লোকের তীব্র অভাব। এ অবস্থায় সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষকরা ফসল চাষাবাদ ও ধান কাটা-মাড়াই যন্ত্র পেলে চাষাবাদের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। কিন্তু ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়া কৃষককে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের কথা বলা বিদ্রূপ ছাড়া কিছু নয়।

হাওরের আরো অনেক কৃষক কালের কণ্ঠকে জানান, হাওরে বর্তমানে ফড়িয়া নেই। আশুগঞ্জ-ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মিলাররা সস্তায় ধান কিনে গোলা ভরে রেখেছে। আবার সরকারিভাবে ধান কেনার ঘোষণার সুবিধা প্রান্তিক চাষিরা পায় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা