kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

কুলাউড়া

বিয়ের পর স্বামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রেমিকযুগলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু প্রেমিকার পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রথমে কাজি অফিসে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে করেন। পরদিন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের হলফনামা সম্পন্ন করেন। এরপর পরিবারের চাপে প্রেমিকযুগল হাজির হন থানায়। থানায় হাজির হওয়াই কাল হয়ে দাঁড়ায় প্রেমিক ইমনের। প্রেমিকার পরিবার থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে অপহরণের মামলা করে। একপর্যায়ে প্রেমিকা তারিনের মত বদলে যায়। পরে আদালতে তারিন অপহরণের জবানবন্দি দিলে কারাগারে পাঠানো হয় ইমনকে। ঘটনাটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের বিহালা গ্রামের।

কাতার প্রবাসী মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ইমন আলীর সঙ্গে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের মৈন্তাম গ্রামের তাহির আলীর মেয়ে তাহমিনা আক্তার তারিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমিকার কথায় ছুটিতে মাসখানেক আগে দেশে আসেন ইমন। পরে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান প্রেমিকার বাড়িতে। কিন্তু প্রেমিকার পরিবার বিয়েতে বাদ সাধে। এ কারণে গত ১৩ মে ঘর ছাড়েন ইমন ও তারিন। ১৫ মে কাজি অফিসে গিয়ে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। পরদিন সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী মিজানুল হকের মাধ্যমে বিয়ের হলফনামা সম্পন্ন করেন তাঁরা। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে কাবিনের রসিদ নিয়ে ইমন ও তারিন একই দিন সন্ধ্যায় হাজির হন কুলাউড়া থানায়। প্রেমিকা তারিন নিজে স্বীকারোক্তি দেন যে ইমনের সঙ্গে স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেছেন। কিন্তু তারিনের পরিবার থানায় অপহরণ মামলা করায় ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পরই তারিনের মত পাল্টে যায়। ১৯ মে আদালতে প্রেমিকা তারিন তাঁর জবানবন্দিতে জানান, গত ১৩ মে কুলাউড়া ইয়াকুব তাজুল মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাড়িতে ফেরার পথে ইমন তাঁকে অপহরণ করেন।

এদিকে জবানবন্দি দেওয়ার আগে তারিনকে একটি ভিডিও বার্তায় বলতে দেখা যায়, ‘আমি নিজের ইচ্ছা থাকিও বাড়ি থাকি আইছি, কেউ আমারে অপহরণ করেনি।’

এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার ইমনের বড় ভাই ছালেক আহমদ বলেন, ‘মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে আমার ভাই, মা ও আমাকে আসামি করা হয়েছে। ৯ জুন আমার ভাইয়ের কাতার যাওয়ার কথা। কিন্তু সে কারাগারে থাকায় তার কাতার ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’

কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, অপহরণ মামলায় ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তা ছাড়া মেয়েটি আদালতে ইমনের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

মন্তব্য