kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ফরিদপুরে জামাল বাহিনীর অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ধর্মদী গ্রামে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের নতুন গডফাদার জামাল মাতুব্বর। স্থানীয় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী জাহিদ শেখ, ফারুক শেখ, আরিফ শেখ, জাফর, মজিবর, আবুল কাশেমসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন তিনি।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, ভাঙ্গা উপজেলার ধর্মদী, হরূপদিয়া, যশোরকান্দা, গঙ্গাধরদী, মিরাকান্দাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে তাঁর বাহিনী দিয়ে ইয়াবা কারবার করছেন। শুধু ইয়াবা কারবার নয়, চাঁদাবাজি, সালিস বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের কারণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুললেই বাহিনীর সদস্যরা তাঁর ওপর হামলা করছে। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে সব মুখ বুজে সহ্য করছে। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও তাদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি।

গত এপ্রিল মাসে প্রথম সপ্তাহে ফারুকের ইয়াবা কারবার নিয়ে গ্রামের ইদ্রিস সরদার সমালোচনা করায় তাঁর বড় ভাই কুদ্দুস সরদারের বাড়িতে হামলা চালায় জামাল বাহিনী। এরপর গত ৩ মে গ্রামের জব্বার সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এভাবে একের পর এক হামলা চালিয়ে গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে জামাল বাহিনী।

ওই গ্রামের কুদ্দুস সরদার, ইউসুফ মজুমদার, ইদ্রিস মাতুব্বর, আতিয়ার মজুমদার, ইদ্রিস মল্লিকসহ প্রায় ১০-১৫ জন গ্রামবাসী অভিযোগ করে, শুধু জামালের কারণে গ্রামে শান্তি নেই। জামাল এলাকায় মাদক কারবার করে যুবসমাজ শেষ করে দিচ্ছে। তাঁর কোনো কাজের প্রতিবাদ করলে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়ে নির্যাতন করছে। প্রশাসনের কাছে বলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

নূরুল্যাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘জামাল গ্রামের আরো কয়েকজন যুবককে নিয়ে গ্রামে মাদক ও সালিস বাণিজ্যের নামে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গ্রামের নিরীহ লোকের বাড়িঘরে হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনার অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। সামাজিকভাবে সেগুলো মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জামালের স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। গ্রামটাকে জিম্মি করে রেখেছে জামাল ও তাঁর লোকজন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিখিল অধিকারী বলেন, ‘গত ৩ মে মারামারি ঘটনায় করা মামলায় জামাল মাতুব্বর ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জামালের ব্যাপারে বেশ সতর্ক রয়েছে। এর আগেও জামালকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামাল কারাগার থেকে বের হয়ে গ্রামে কোনো অনৈতিক কাজ করলে তাঁকে একটুও ছাড় দেওয়া হবে না।’

 

মন্তব্য