kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে অসংখ্য খুঁটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে অসংখ্য খুঁটি

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে কুষ্টিয়া থেকে খোকসা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে কুষ্টিয়া থেকে খোকসা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ। তাতে ওই সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ অব্যাহত থাকলেও সড়কের মাঝখানের খুঁটি সরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাতে সড়কে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া-খোকসা সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছরের মার্চে। ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। ১৮ ফুট সড়কটি দুই পাশে আরো তিন ফুট করে ছয় ফুট প্রশস্ত করার পাশাপাশি মাঝের ১৮ ফুট শুধু ওপরের অংশ সিলকোট করা হচ্ছে। সড়কটি প্রশস্ত করার ফলে এর পাশে থাকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলে প্রায় এক হাজার বিদ্যুতের খুঁটি এখন সড়কের মাঝখানে চলে এসেছে। কিন্তু এই ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিগুলো না সরিয়েই সড়ক সংস্কারকাজ সমাপ্ত হতে চলেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুমারখালী উপজেলার লাহিনী বটতলা থেকে দবির মোল্লার রেলগেট পর্যন্ত ১০টি ও আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ১০টি বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের মধ্যে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। বেশির ভাগ খুঁটি পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। তা ছাড়া কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু খুঁটি রয়েছে। দ্রুত এসব খুঁটি সরানো না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসী দ্রুত এসব খুঁটি অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সড়ক থেকে এসব খুঁটি সরানোর জন্য ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে ছয় কোটি ও পল্লী বিদ্যুতের খরচ হচ্ছে পৌনে সাত কোটি টাকা। এরই মধ্যে বেশির ভাগ টাকা তাদের পরিশোধও করা হয়েছে। বাকি টাকা চলতি অর্থবছরে দেওয়া হতে পারে। সড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক নির্মাণের পর খুঁটি সরালে সড়ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সড়ক নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জহুরুল কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল হাশেম জানান, কুমারখালী উপজেলার আওতাধীন সড়ক নির্মাণকাজ ঈদের আগেই শেষ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সড়ক থেকে এখনো বিদ্যুতের খুঁটি সরানো হয়নি। পরবর্তী সময়ে খুঁটি সরাতে গেলে সড়ক আবার খুঁড়তে হবে। তাতে সড়কের ক্ষতি হবে। তা ছাড়া দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তো রয়েছেই। সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, খুঁটিগুলো সরানোর জন্য টাকা পরিশোধ করা হলেও সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এই সড়কে দিনে-রাতে কয়েক শ বাস-ট্রাক চলাচল করে। তাতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, বিদ্যুতের খুঁটি দ্রুত সরাতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বলা হলেও তাঁরা উদ্যোগ নিচ্ছে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক থেকে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু হলেও রমজানের কারণে আপাতত বন্ধ রয়েছে। ঈদের পরই খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা