kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়ক

১০ কিলোমিটারে চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবারের ঈদ যাত্রার আনন্দ মাটি হবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলাবাসীর। ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কের হালুয়াঘাট উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ ভেঙেচুরে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে সড়কের এমন বেহাল দশা। সমপ্রতি সেটা আরো গুরুতর হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, তারা সড়কটির ‘টুকটাক’ সংস্কারকাজ করছে। যান চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে সড়কটি। এ ছাড়া খুব কাছাকাছি সময়ে এ সড়কে বড় ধরনের উন্নয়ন হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়ক। এখানে কয়লা বন্দরের কারণে এ সড়কটি দিয়ে বিপুলসংখ্যক ট্রাক চলাচল করে। এ ছাড়া দূরপাল্লার বাসও চলাচল করে। হালুয়াঘাট উপজেলা সদরের আশপাশের লোকজনও এ সড়কটি ধরে উপজেলা সদরে আসে। এ জন্য এ সড়কে চলাচলকারী ছোট যানবাহনের সংখ্যাও অনেক। বিশেষ করে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে এ সড়কটি দিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়িচালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হালুয়াঘাট পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ সড়ক থেকে উপজেলার দর্শাপাড়, ইটাখোলা, ধারা বাজার, নাগলা বাজার পর্যন্ত অন্তত ১০ কিলোমিটার প্রধান সড়কের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। শুধু সড়কের কার্পেটিং নয়, অনেক অংশে পাথর, খোয়া ও বালি উঠে গেছে।

ধারা বাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, সওজ বিভাগের লোকজন মাঝে মাঝে সড়কটির কিছু স্থানে সংস্কারকাজ করছে। কিন্তু হালুয়াঘাট শহর থেকে নাগলা পর্যন্ত সড়কে খানাখন্দে ভরে গেছে। এ সড়কে চলাচলকারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

স্কুলশিক্ষক রতন মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। ফলে গর্তগুলো বোঝার উপায় থাকে না। তাই প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে।

হালুয়াঘাট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ইমাম পরিবহনের বাসচালক মামুন বলেন, ১০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙাচুরা। এতে খুব সাবধানে গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে হয়। ১০ মিনিটের জায়গায় ৩০ মিনিট লাগে। ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীরাও বিরক্ত বোধ করে। বয়স্ক বা অসুস্থ যাত্রীরা কষ্ট পায়।

অটোরিকশাচালক রহমান আলী বলেন, ‘যেখানে আমাদের নাগলা থেকে হালুয়াঘাট গেলে ২০ মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়। খুব আস্তে আস্তে অটো চালাতে হয়।’

হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম বলেন, এ সড়কটির কারণে এলাকাবাসীর কষ্ট এখন চরমে। বহুবার বিভিন্ন সভায় সড়কটির উন্নয়নের কথা বলেছেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।

ময়মনসিংহ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সড়কটির বড় ধরনের উন্নয়নকাজ শুরু হবে কিছুদিনের মধ্যে। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সংস্কারকাজ চলছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা