kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

রামপালে বিশুদ্ধ পানির অভাবে লক্ষাধিক মানুষ

হাওলাদার আ. হাদি, রামপাল (বাগেরহাট)   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মোট জনসংখ্যা পৌনে দুই লাখ। এর মধ্যে এক লাখ ১০ হাজার মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানি পায় না। ফলে বিশাল এই জনগোষ্ঠী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, উপকূলীয় এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে গভীর নলকূপ আছে এক হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে চালু আছে এক হাজার ৬৯৮টি। অগভীর নলকূপের সংখ্যা এক হাজার ২২১। এর মধ্যে চালু আছে ৯৫৭টি। অচল হয়ে আছে ২৬৪টি।

সূত্রটি আরো জানায়, এ উপজেলার ভোগপতিয়া ও পেড়িখালী ইউনিয়নের কোথাও সুপেয় পানির লেয়ার পাওয়া যায় না। এর ফলে এই দুই ইউনিয়নে অন্তত ৩৭ হাজার মানুষ সারা বছর পুকুরের পানি পান করে। এ ছাড়া রামপাল সদর, বাশতলী, হুড়কা, মল্লিকেরবেড়, রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় গভীর নলকূপে খাবার পানি পাওয়া গেলেও জনসংখ্যা অনুসারে তা পর্যাপ্ত নয়। এসব এলাকার মানুষের একটি অংশ পুকুরের পানি পান করে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এ বছর খাবার পানি সংরক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আটটি পুকুর খনন করেছে। তবে পুকুরগুলো এখন পানিশূন্য থাকায় পানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ করে গভীর নলকূপ বসালেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফজলে বারি জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই ১৫ থেকে ২০ জনের মতো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তাদের বেশির ভাগই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। উপজেলার ভোগপতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমীন জানান, তাঁর ইউনিয়নের ১৪-১৫ হাজার মানুষ এক ড্রাম (৩০ লিটার) পানি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কিনছে। একই অবস্থা পেড়িখালী ইউনিয়নেও। উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শোহান আহম্মেদ বলেন, ‘এ উপজেলায় সুপেয় পানির লেয়ার না থাকায় বেশির ভাগ এলাকায় গভীর নলকূপ সাকসেসফুল হয় না। তবে সংকট দূরীকরণে পুকুর খননের পাশাপাশি গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানির ট্যাংক বিতরণ করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘যেসব এলাকায় খাবার পানির সংকট আছে, সেসব এলাকায় পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা