kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

কেশবপুরে আর্সেনিকের ঝুঁকিতে ৩ লাখ মানুষ

নুরুল ইসলাম খান, কেশবপুর (যশোর)   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের কেশবপুরে সব অগভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিক। চাহিদার তুলনায় গভীর নলকূপের সংখ্যা খুবই কম। ফলে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকিতেই বসবাস করছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় দুই হাজার ৩২২টি অগভীর নলকূপ রয়েছে; যার প্রতিটিতেই মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে ১৬৩টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ২৮১টি, মজিদপুর ইউনিয়নে ২১৫টি, বিদ্যানন্দকাটী ইউনিয়নে ১৩৫টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ২২৬টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ১৮০টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ১৪২টি, সুফলাকাটী ইউনিয়নে ২০৭টি, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ২১৯টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১১৯টি, হাসানপুর ইউনিয়নে ১৫০টি এবং পৌর এলাকায় ১৮৫টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। সব কটির পানিতে আর্সেনিক আছে। তবে আর্সেনিকমুক্ত পানির জন্য উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে ৭৮টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ১৪০টি, মজিদপুর ইউনিয়নে ১১২টি, বিদ্যানন্দকাটী ইউনিয়নে ৫৯টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ১৫৩টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ১৯৪টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৩১৯টি, সুফলাকাটী ইউনিয়নে ১১৫টি, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ১৮২টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১১০টি, হাসানপুর ইউনিয়নে ১৪৩টি এবং পৌর এলাকায় ৩৯টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এর ভেতরে ২৩টি নলকূপে পানি না ওঠার অভিযোগ আছে।

উপজেলার পৌর এলাকার মধ্যকুল-ভবানীপুর স্লুইস গেটের পাশে একটি গভীর নলকূপ। ওই নলকূপ থেকে গেটের দুই পারের মানুষ পানি নিয়ে খায়। কিন্তু নলকূপটিতে খুবই কম পানি ওঠে। গেটের পাশের বাসিন্দা মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘কল চেপে পানি নিতে খুবই কষ্ট হয়।’ ইয়াসিন আলি সরদারের স্ত্রী নূরুন নাহার বলেন, ‘কল চাপতে পারি না। তাই বাড়িতে বসানো অগভীর টিউবওয়েল থেকেই পানি খাই।’ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দোরমুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘একটি গভীর নলকূপের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে গত চার বছর দৌড়াইছি। কিন্তু পাইনি। প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে হেঁটে গিয়ে খাওয়ার পানি আনতে হয়। বাড়ির অন্যান্য কাজ সাধারণ টিউবওয়েলের পানি দিয়েই করতে হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল জানান, তাঁর ইউনিয়নে অনেক বেশি আর্সেনিক। চাহিদার তুলনায় গভীর নলকূপের বরাদ্দ কম থাকায় এলাকাবাসী আর্সেনিকের ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে কেশবপুরের পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পে ৫২টি, অগ্রাধিকারমূলক বিশেষ গ্রামীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রকল্পে ৩৫৬টি এবং আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পে ৩২৩টি গভীর নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পে ২৮টি, অগ্রাধিকারমূলক বিশেষ গ্রামীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রকল্পে ২৭৭টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পে সাইট সিলেকশন চলছে।’ শিগগিরই তিনটি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে বলে তিনি জানান। শাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, ‘এ উপজেলার জন্য তিন হাজার গভীর নলকূপের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পেলে আর্সেনিকমুক্ত পানি পেতে কেশবপুরের মানুষের আর অসুবিধা হবে না।’ 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান বলেন, ‘কেশবপুরের প্রতি ১০ থেকে ১৫ পরিবারের জন্য একটি করে গভীর নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা