kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ভিজিডির চাল দিয়ে কবুতর পোষেন প্রবাসীর স্ত্রী!

মেহেদী হাসান জসীম, রাজাপুর (ঝালকাঠি)   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভিজিডির চাল দিয়ে কবুতর পোষেন প্রবাসীর স্ত্রী!

ঝালকাঠির রাজাপুর সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহাবুব-জেসমিন দম্পতির বাড়ি। তাঁরাও পাচ্ছেন ভিজিডির চাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিডি) চাল দিয়ে কবুতর পোষেন সৌদি আরবপ্রবাসী মো. মাহবুবের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩৩)। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁকে এক বছরের জন্য ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

জেসমিন আক্তার প্রতি মাসে ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল তুলে তাঁর শতাধিক কবুতরকে খাওয়ান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি একই এলাকার দরিদ্র নান্নু হাওলাদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেসমিন আক্তার নিজেদের পাকা বাড়ির ছাদে কবুতর পোষেন। তাঁর বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক কবুতর রয়েছে। এ ছাড়া কৃষিজমি, বাগান, ব্যাংকে নগদ টাকাসহ দুই ইউনিটের একটি পাকা বাড়ির মালিক। এর পরও জেসমিন আক্তারের নামে ভিজিডির কার্ড বরাদ্দ দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। তা ছাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনও একটি দোতলা পাকা বাড়ির মালিক। তাঁকেও ভিজিডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হতদরিদ্র বিধবা কোহিনূর বেগম (৫০) একাধিকবার আবেদন করলেও তাঁর ভাগ্যে ভিজিডির কার্ড বা অন্য কোনো সরকারি সহায়তা জোটেনি। তিনি উপজেলা সদরের হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রতি কলস তিন টাকা করে পানি সরবরাহ করেন। এতে যা রোজগার হয়, তা দিয়ে কোনোমতে ভাঙা ঘরে দিন কাটান। একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও করাতকল শ্রমিক নজরুল ইসলামও (৪৮) একধিকবার আবেদন করেও সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। সুবিধাবঞ্চিতরা বলছে, টাকা দিতে না পারলে সরকারি সহায়তা মেলে না। যারা টাকা দিতে পারে, তাদেরই জনপ্রতিনিধিরা ভিজিএফ ও ভিজিডির কার্ড দেন। উপজেলা সদরের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‘সরকার দরিদ্র মানুষদের ভালো রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বহু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অথচ কিছু লোভী ও দুষ্ট লোকের স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সরকারের সহায়তা পৌঁছে না।’

মন্তব্য