kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

সরকার ১ শতাংশধানও কিনছে না

ভাঙ্গুড়াআক্কেলপুর শাহজাদপুর

ভাঙ্গুড়া (পাবনা), আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) ও শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকার ১ শতাংশধানও কিনছে না

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বোরো ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা গতকাল ধানে প্রতীকী আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রায় ৩৭ হাজার টন ধান উৎপাদন হয়েছে, এর মধ্যে সরকার কিনবে ২১২ টন। অন্যদিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান উৎপাদন হয়েছে ৬৩ হাজার ৭১৪ টন, এর মধ্যে সরকার কিনবে ২৯৬ টন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ধান উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৫১৮ টন। কিন্তু সরকার কিনবে মাত্র ৭৬৪ টন।

এই তিন উপজেলায় গড় হিসাব করে দেখা যাচ্ছে সরকার উৎপাদনের ১ শতাংশ ধানও কিনছে না।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ছয় হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। গত সোমবার ধান কেনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সরকারিভাবে এত কম ধান সংগ্রহ করা হলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে খোলাবাজারে মহাজন, দালাল ও ফড়িয়াদের কাছে বেচতে হবে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতে পারে কৃষক।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৩৭ হাজার টনের বিপরীতে ২১২ টন ধান সংগ্রহ খুবই নগণ্য। এটাতে বেশির ভাগ কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা সম্ভব হবে না। ন্যূনতম এক হাজার টন ধান কেনা হলে অন্তত কিছু কৃষকের ধান কেনা যেত।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় ভাঙ্গুড়ায় ধান সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি।’

ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, ‘এটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এখানকার প্রধান ফসল হচ্ছে বোরো। তাই উপজেলার কৃষকদের চাহিদা ও উৎপাদিত ধানের পরিমাণ বিবেচনা করে সরকারিভাবে ধান কেনার পরিমাণ আরো বাড়ানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে ধান কেনার পরিমাণ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ধান ক্রয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম যেন না হয় সেটাও লক্ষ করা হচ্ছে।’

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১০ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে ১০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার কৃষক চাষ করেছে। বাজারে ধানের কম থাকায় কৃষকরা সরকারিভাবে ধান কেনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

এ দিকে গত ৫ মে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টদের চিঠিতে জানিয়েছেন, দুটি (সদর ও জামালগঞ্জ) খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় কার্ডধারী কৃষক রয়েছে ৩৫ হাজার ৩১২ জন। এর বাইরে রয়েছে প্রায় চার হাজার কৃষক। এর মধ্যে ২৯৬ জন সরকারের কাছে ধান বেচতে পারবে।

জানতে চাইলে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ বলেন, ‘একটি চক্র কৃষকের বদলে গুদামে ধান দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে শুনেছি। সরাসরি কৃষক ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছি। কৃষক ছাড়া কেউ যেন গুদামে ধান না দিতে পারে সেই জন্য দুটি খাদ্য গুদামে পাহারা বসানো হবে।’

আক্কেলপুর উপজেলা সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) কানিজ শারমিন বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়নি।’

আক্কেলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘কৃষকের তালিকা পাওয়া যায়নি।’

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা সবাই সরকারের কাছে বিক্রি করতে চায়। কিন্তু কৃষকের তুলুনায় বরাদ্দ খুবই কম। তাই কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

শাহজাদপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইয়াছিন আলী জানান, এ বছর একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারবে। বাকি ধান ফড়িয়া আর মিল মালিক ছাড়া বিক্রির উপায় নেই। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান জানান, আগামী রবিবার উপজেলার গাড়াদহ বাজারে ধান কেনার মধ্যে দিয়ে শাহজাদপুরে সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা