kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

কেজিতে পাঁচ টাকা ঘুষ

মির্জাপুরে বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ

এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেজিতে পাঁচ টাকা ঘুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় সরকারি চাল কেনার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চারটি বন্ধ মিলের নামে। এর মাধ্যমে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কেজিপ্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা হারে ঘুষ নিচ্ছেন। নিম্নমানের চাল দিয়ে খাদ্য গুদাম ভরা হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র মতে, এ বছর সরকারিভাবে এক হাজার ৪৮২ টন চাল সংগ্রহ করার কথা। গত ৬ মে উপজেলার সাতজন চাতাল মালিক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে দেওহাটা মেসার্স ইন্নছ রাইস মিল, কদিম ধল্যার মেসার্স কাজি রাইস মিল, মেসার্স থ্রি ব্রাদার্স রাইস মিল ও মেসার্স হেলাল উদ্দিন রাইস মিল বন্ধ রয়েছে। চুক্তি মতে, আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৩১ টন চাল সংগ্রহের কথা। সরকার কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা চালের দাম বেঁধে দিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, গত ১৩ মে থেকে মির্জাপুরে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। নিয়মানুযায়ী চাতাল মালিকরা স্থানীয়ভাবে নতুন চাল সংগ্রহ করে তা সরকারকে দেবেন। কিন্তু খাদ্য গুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের পছন্দের ব্যবসায়ীদের দিয়ে কালিহাতী, জামালপুর, শেরপুর, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকযোগে দিন ও রাতে চাল গুদামে  ঢোকাচ্ছেন। আর কাগজ-কলমে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের নামে চাল সরবরাহ হচ্ছে বলে উল্লেখ করছেন। দেওহাটা মেসার্স ইন্নছ রাইস মিল, কদিম ধল্যার মেসার্স কাজি রাইস মিল, মেসার্স থ্রি ব্রাদার্স রাইস মিল ও মেসার্স হেলাল উদ্দিন রাইস মিল বন্ধ থাকলেও তাদের নামে ১৯০ টন ২০০ কেজি চাল ক্রয় দেখানো হয়েছে।

গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মিলারের সঙ্গে আমার ডিসি ফুডের চুক্তি হয়েছে। আমি ওদের নামে বিল দিচ্ছি। চুক্তিবদ্ধ চাতাল মালিকদের নামে চাল এসেছে, আমি শুধু বুঝে রেখেছি। বাইরে কে কী করছে, তা আমার দেখার সুযোগ নেই। চাল কোন জায়গা থেকে আসবে তার তদারকি করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও সাব ইন্সপেক্টর কায়েস। তারা চাতাল মিলে গিয়ে চাল দেখবেন। তারপর চাল গুদামে পাঠাবেন। চাল গুদামে মজুদ করার কাজ  শ্রমিক হারুন অর রশিদ করে থাকেন।’

খাদ্য গুদামে চাল নিয়ে আসা মেসার্স স্মৃতি ট্রেডার্স ট্রাকের সহকারী জানান, জামালপুর পুলিশ লাইন এলাকার রত্না রাইস মিল থেকে ৩০ কেজি ওজনের ৭৩০ বস্তা (২২ টন) চাল নিয়ে এসেছেন। তারা তিন ট্রাকে ৬২ টন চাল এনেছেন।

এএনজেএস এন্টারপ্রাইজ ট্রাকের চালক রায় মোহন বংশী জানান, কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের পাশের এক অটো রাইস মিল থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৩৫০ বস্তা চাল এনেছেন।   

রংপুরের পীরগঞ্জের মিঠাপুকুর এলাকা থেকে রবিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে খাদ্য গুদামে আসা ট্রাক চালক রুহুল আমিন বলেন, ‘টিপু মুন্সী নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ১৬ টন চাল নিয়ে এসেছেন।’

মুঠোফোনে কাজি রাইস মিল নামক চাতাল কল মালিক কাজি ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘আমারে ৯০ টন চালের টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। আমার মিলে ১৫ দিন ধরে শ্রমিক নেই। বাইরে থেকে ৮৯ টন চাল এনে দিয়েছি। আর যে যেনে থিক্যা পারছে আনছে। কেউ কালিহাতী, কেউ বগুড়া। আর গুদামে চাল ঢুকাতে কেজিপ্রতি টাকা দিতে হয়।’

আরেক চাতালকল থ্রি ব্রাদার্স রাইস মিলের পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, তাঁর মিলে পর্যাপ্ত শ্রমিক নেই। মাঝেমধ্যে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ২১১ টনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৯০ টন চাল দিয়েছি।

চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও চুক্তিবদ্ধ মেসার্স ইন্নছ রাইস মিলের মালিক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জামালপুর, কালিহাতী ও রংপুর থেকে চাল আনা হয়েছে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আলী আযম বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

টাঙ্গাইল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘চাল সংগ্রহে অনিয়ম হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা