kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

নার্স তানিয়ার এলাকায় ফের দলবদ্ধ ধর্ষণ

জড়িতরা লাপাত্তা ইউপি সদস্য ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ক্ষত না শুকাতেই কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর লোহাজুরি ইউনিয়নে আরেক কিশোরী (১৫) সম্ভ্রম হারিয়েছে। এ যাত্রায় প্রাণে বাঁচলেও কথিত প্রেমিক ও তার দুই বন্ধু মেয়েটিকে টানা চার দিন আটকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। ধর্ষকরা গত রবিবার রাতে মেয়েটিকে বাড়িতে রেখে যায়। এ ঘটনায় গত সোমবার মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে প্রেমিকসহ তিন ধর্ষককে আসামি করে কটিয়াদী থানায় মামলা করেছেন। সহায়তার অভিযোগে মামলায় আব্দুর রাশিদ নামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে। 

পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত অভিযুক্ত ধর্ষক কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে মামলার ৪ নম্বর আসামি রাশিদ মেম্বারকে গত সোমবার রাতে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে পাঠায়। আদালত আসামিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

এদিকে গতকাল বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। গতকালই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর ২২ ধারায় ধর্ষিতার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।   

এ ঘটনায় থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ছয় মাস আগে পাশের গ্রাম দশপাখির চান্দু মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিয়ের কথা বলে সুমন গত বুধবার মেয়েটিকে ঘর থেকে বের করে আনে। সুমনের কথামতো মেয়েটি ওই দিনই চরকাউনিয়া মধ্যের বাজারের একটি ব্যাংকের কাছে যায়। সেখানে আগে থেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করা সুমন ও তার বন্ধু দশপাখির জুলহাস উদ্দিনের ছেলে শোভন মেয়েটিকে তুলে পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে নিয়ে যায়। পরে মেয়েটিকে সুমনের আরেক বন্ধু পূর্বচর পাড়াতলার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শামীমের সহায়তায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির নিচতলার কক্ষে নিয়ে যায়। ওই রাতেই তিন বন্ধু মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরদিন ভোরে সুমন ও তার বন্ধুরা মেয়েটিকে নিয়ে পাকুন্দিয়ায় এক বাড়িতে গিয়ে ওঠে। সেখানে সুমন ও মেয়েটিকে রেখে শোভন ও শামীম বাড়ি ফিরে আসে।

ওই কিশোরী জানায়, এরপর সুমন আরো তিন দিন তাকে আটকে রেখে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। তিন দিনই সুমন তাকে ধর্ষণ করে। এভাবে টানা চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর রবিবার রাতে দুই বন্ধুসহ সুমন মেয়েটিকে নিয়ে তাদের বাড়ি আসে।

মেয়েটির বাবা জানান, ধর্ষকদের পেছন পেছন তাদের সহায়তার উদ্দেশ্যেই গ্রামের রাশিদ মেম্বার তাঁদের বাড়ি যাওয়ায় তাকেও আসামি করা হয়।

কটিয়াদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা