kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

চার কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ

নেত্রকোনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নেত্রকোনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এমএসআর (ওষুধ, সরঞ্জামাদি, গজ ব্যান্ডেজ, তুলা, কেমিক্যাল সামগ্রী ও আসবাব) সংগ্রহের প্রায় চার কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ‘কাজবঞ্চিত’ ঠিকাদাররা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং দরপত্র ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।  বঞ্চিত ঠিকাদাররা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এমএসআর সংগ্রহের দরপত্র আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দরপত্র অনুযায়ী হাসপাতালের ওষুধপত্র সংগ্রহ, সার্জিক্যাল যন্ত্রাংশ, গজ-ব্যান্ডেজ, তুলা, কেমিক্যাল রিএজেন্ট, লিনেন সামগ্রীসহ মোট ছয়টি প্যাকেজে ৬৬ জন ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নেন। পরে ১২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বৈধ ঘোষণা করে দরপত্র আহ্বান কমিটি। বাকিগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ঠিকাদাররা বারবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে দরপত্রের ফল সম্পর্কে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন গড়িমসি করেন এবং বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতার নামেই কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দীর্ঘদিনের পুরনো ঠিকাদার অরবিট ট্রেডিং কম্পানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবুল মনসুর অভিযোগ করে বলেন, সিভিল সার্জন মো. তাজুল ইসলাম খান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মাত্র তিনজন ঠিকাদারকে অ্যাট-পার-দরে এসব কাজ বণ্টন করে দিয়েছেন। এর মধ্যে নূর সার্জিক্যাল দুই কোটি ৯০ লাখ টাকার, চৌধুরী সিন্ডিকেট ৪৩ লাখ ও মেসার্স সারোয়ার জাহান রঞ্জন ৬১ লাখ টাকার কাজ পান।

অংশগ্রহণকারী আলেয়া করপোরেশন, ঢাকার স্বত্বাধিকারী মাহবুব আলম টিটু একই অভিযোগ করে বলেন, সিভিল সার্জন ম্যানেজ হয়ে অনিয়মের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ ভাগ করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কাজ পাওয়া নূর সার্জিক্যাল, চৌধুরী সিন্ডিকেট, সারোয়ার জাহান রঞ্জন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি পিপিআরের নিয়ম মেনে দরপত্র আহ্বান করেছি এবং ঠিকাদার নিয়োগ করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা