kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

কোথাও মাঠে, কোথাও গুদামে

ধান সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতা

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




কোথাও মাঠে, কোথাও গুদামে

নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নে গতকাল এক কৃষকের বাড়ি গিয়ে ধান কিনছেন ডিসি শাহ রিয়াজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ধানের দাম নিয়ে আন্দোলনের মুখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে তা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য বিভাগ। কিন্তু এই ঘোষণার মধ্যে একটি জটিলতা দেখা যাচ্ছে। কৃষক গুদামে আসবে, নাকি কর্মকর্তারা গাড়ি নিয়ে কৃষকের বাড়ি যাবেন? কারণ অনেক সময়ই হয়রানি ও পরিবহন খরচ মেটানোর ভয়ে কৃষক গুদামে যেতে চায় না। এই সমস্যার ভিন্ন সমাধান দেখা যাচ্ছে। ধান সংগ্রহ, দাম ও কাটা নিয়ে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

নাটোর : সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নে কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সর্বোচ্চ এক টন করে ধান কিনেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিসি শাহ রিয়াজের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আকতার বানু, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত গোডাউন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। সরকারের নির্দেশে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিসি। তবে নাটোরের মতো খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলার জন্য মাত্র দুই হাজার ১৫ টন ধান এবং ১৪ হাজার ৬৮৬ টন চাল দামের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছে স্থানীয় কৃষকরা।

শস্য সংগ্রহ জেলা কমিটির সভাপতি ও ডিসি বলেন, ‘সারা দেশে ধানের দাম কমের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক ইউএনও ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তদারকির মাধ্যমে ধান কিনবেন। আমিও সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে তদারকি করব। আশা করি পরিবহনের সামান্য খরচ কৃষক বহন করতে পারবে।’

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস গতকাল জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে গিয়ে ২০ কৃষকের কাছ থেকে ১০ টন ধান কিনেছেন। চলতি মৌসুমে নিবন্ধিত ৪৪০ জন কৃষকের কাছ থেকে ৩০৮ টন ধান পর্যায়ক্রমে কেনা হবে। এদিকে গতকাল ধান সংগ্রহাভিযানের জন্য জীবননগরে যাওয়ার পথে মনোহরপুর ইউনিয়নের পেয়ারাতলায় একটি দৃশ্য দেখে ডিসি আবেগাপ্লুত হন। সড়কের ধারে ধান কাটছিলেন মা ও ছেলে। ডিসি গাড়ি থামিয়ে দেন। তিনি নেমে পড়েন ক্ষেতে। নারীর কাছে জানতে পারেন, তিনি ধান চাষি জেবুন্নেসা। মাত্র ১৫ কাঠা জমিতে ধান চাষ করেছেন। শ্রমিক সংকট আর বাড়তি মূল্যের কারণে ধান কাটতে পারেননি। তাই মা ও ছেলে মিলে ধান কাটছেন। ডিসিও মা-ছেলের সঙ্গে নেমে পড়েন ধান কাটতে। খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, ইউএনও মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারমিন আক্তার, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান ও স্কাউটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ধান বিনা মজুরিতে কেটে দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খন্দকার ফরহাদ আহমদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া খান। ডিসি বলেন, ‘আমরাও কৃষকের সন্তান। কৃষকদের এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’

দুর্গাপুর (রাজশাহী) : সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান সংগ্রহ করছেন ইউএনও লিটন সরকার। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রসুলপুর, আলীপুর, জয়কৃষ্টপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকের বাড়ি গিয়ে ধান কেনেন তিনি। ধান পরীক্ষা করে ২৬ টাকা কেজি দরে এক দিনে প্রায় তিন টন ধান সংগ্রহ করেন। এবারে এ উপজেলার জন্য ১৮৪ টন ধান ও ১১৬ টন গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অন্যদিকে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কেনা হবে ৫২১ টন। ধানের দাম ২৬ টাকা কেজি, গম ২৮ টাকা ও চাল ৩৬ টাকা। ইউএনও বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য গণপ্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

খুলনা : এবার জেলায় এক হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ তানভীর রহমান বলেন, ‘কৃষকরা সরাসরি গোডাউনে গিয়ে ধান বিক্রি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তাদের পরিচয়পত্র ও ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পরিশোধ করা হবে।’ ডুমুরিয়ার ধান চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এক শ্রেণির কর্মকর্তারা অনেক সময় ভুয়া তালিকার মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে। এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

এ ছাড়া ঝালকাঠি, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা), চাটমোহর (পাবনা) ও গুরুদাসপুর (নাটোর), ডোমার (নীলফামারী) ও আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। কৃষকদের গুদামে ধান নিয়ে আসতে হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা