kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

জীববৈচিত্র্য দিবস আজ

খাদ্যসংকটে বানর

আব্দুল হালিম, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাদ্যসংকটে বানর

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলের বানরগুলোর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে তীব্রভাবে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুর শালবনে সাড়ে তিন শতাধিক বানরের বসবাস। এই বনে কোনো ফলদ গাছপালা নেই, যার ফল খেয়ে বানরগুলো জীবন ধারণ করবে। বানরের জন্য নেই নির্দিষ্ট খাবারের অন্য কোনো উৎসও। খাবার পানির সংকটও ভোগাচ্ছে এদের। এ অবস্থায় বানরগুলো লোকালয়ে ছুটে আসে কি না এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তখন এরা খাবারের জন্য মানুষের বাড়িঘরে আক্রমণ চালাতে পারে। মানুষও পাল্টা আক্রমণ চালালে বানরগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্তোষপুর বনবিট অফিস। পাশেই রয়েছে ১০৩৬ একর ভূমিতে সন্তোষপুর রাবার প্রকল্প। বিট অফিসসংলগ্ন শালবন ঘিরে থাকে সাড়ে তিন শতাধিক বানর। এই বনাঞ্চল একসময় হরিণ, মেছোবাঘ, ভল্লুক, হনুমান, বাগডাশ, বানর, শজারু, শিয়াল, খরগোশসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। কিন্তু গাছ কেটে বন উজাড় করায় দিনে দিনে বন্য প্রাণীগুলো হারিয়ে গেছে। এখন শুধু বানরগুলোই দেখতে পাওয়া যায়। বিট অফিসের দক্ষিণে কিছু জমিতে পেয়ারা, আম, জামসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বিট অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সেখানে আনারসের বাগান করেছে স্থানীয়রা। এ কাজ করতে গিয়ে বনের বেশির ভাগ ফলদ গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে বানরগুলো বাগানের আশপাশে যেতে পারছে না।

এদিকে প্রতিদিন বেশ কিছুসংখ্যক দর্শনার্থী এসব বানর দেখতে আসে। সঙ্গে করে তাদের কেউ কেউ বানরের জন্য খাবার নিয়ে আসে। তা দিয়ে বানরের খাবারের কিছুটা চাহিদা পূরণ হয়। স্থানীয় নাওগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি-ভিজিএফের চাল দেওয়ার সময় বানরের খাবার হিসেবে কিছু চাল পাওয়া যায়। অনেক সময় দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমে যায়। তখন বানরের খাদ্য সংকট দেখা দেয়। তার ওপর রয়েছে পানি সংকট। এ অবস্থায় বানরগুলো বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আবু হানিফা নামের একজন ভ্রাম্যমাণ দোকানি বানরের খাবার নিয়ে বসে আছেন। তাঁকে ঘিরে আছে বেশ কয়েকটি বানর। ২০টির মতো মা বানরের সঙ্গে বাচ্চা রয়েছে। বাচ্চাগুলোর বয়স দেড়-দুই মাস হবে। এরই মধ্যে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দর্শনার্থী আসেন। বানরগুলো চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ধরে। তখন দোকান থেকে মুড়ি, বিস্কুট ও চানাচুর কিনে ছিটিয়ে দেন তাঁরা। খাবার দেখে দলবেঁধে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বানরগুলো। দুজন দর্শনার্থীদের কাঁধে উঠে পড়ে দুটি বানর। দোকান থেকে কেক কিনে দিলে কাঁধ থেকে নেমে যায় বানর দুটি।

খাদ্য সংকটের পাশাপাশি তীব্র গরমে রয়েছে পানি সংকটও। আশপাশে কোনো ডোবা-নালা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর গামলা ও বালতিতে রাখা পানি পান করে বানরগুলো।

সন্তোষপুর কান্দুর বাজারের ফল চাষি আইয়ুব আলী বলেন, বনাঞ্চলে ফলের গাছ থাকলে বানরের খাদ্য সংকট থাকত না। খাবারের জন্য বানরগুলো লোকালয়ে চলে এলে নানামুখী সংকট তৈরি হবে।

ভ্রাম্যমাণ দোকানি আবু হানিফা বলেন, রোজার আগে বানরের খাবার নিয়ে আটটি দোকান বসত, সেখানে এখন তিনি একাই বসেন।

নাওগাঁও ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বানরের খাবারের জন্য মাঝেমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু চাল দেওয়া হয়।

সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খান বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় বানরকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া কিছু চাল দিয়েই বানরের খাবারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা